ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত

শীতে মেয়েদের রাগ বাড়ে!

২০১৮ জানুয়ারি ১৬ ১৬:২০:২৭
শীতে মেয়েদের রাগ বাড়ে!

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কথায় আছে, 'কারোর পৌষ মাস, কারোর সর্বনাশ'। ঠিক তাই। রাগ আপনার সঙ্গিনীর জন্য পৌষ মাস হলে আপনার সর্বনাশ না হয়ে যায় কই!

এই শীতকে উপভোগ করতে হয়তো ভাবছেন বউকে নিয়ে একটা লংড্রাইভে যাবেন, তারপর ফেরার সময় কোনো রেস্তোরাঁয় ডিনার। কিন্তু কারণে-অকারণে আপনার বউ তিরিক্ষি মেজাজে মুডটা যাচ্ছে চটকে।

ভালো কথা বললেও মুখঝামটা। তাহলে? প্ল্যান বাতিল! দাঁড়ান একটু। গার্লফ্রেন্ড বা বউয়ের এরকম অকারণে রেগে যাওয়া, আসলে এর পিছনে রয়েছে কেমেস্ট্রি!

কথায় বলে, নারীদের মন বোঝা সাধ্য আছে কার, তো আপনি কেনও বাদ যাবেন! কিন্তু অসাধ্য কর্মসাধন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মেয়েদের রেগে যাওয়ার পিছনে দায়ী এই আরামের শীত। ব্যাপারটা একটু হালকা করি বরং, শীতের সময় দিন হয় ছোট, আর এই ছোট হওয়া দিনই মেয়েদের হরমোনে শুরু করে গোলযোগ, আনে অদ্ভুত পরিবর্তন।

মেলাটোনিন নামক হরমোন মেয়েদের মধ্যে একটা 'মৌসুমি আগ্রাসন' জাগিয়ে তোলে। এই হরমোন সরাসরি প্রভাব ফেলে অ্যাড্রেনালিন গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত ডিএইচইএ হরমোনের ওপর। এই হরমোনের কারণে আপনার গৃহিণীর মেজাজ গরম, গলা স্বর উচ্চ হয়!

ফলাফলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের পরিমাণ অন্ধকারে বাড়ে আর দিনের আলোয় টুক করে কমেও যায়। তাই শীতের সময় দিন ছোট হওয়ায় শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের হার থাকে বেশি।

অন্যদিকে, অ্যাড্রেনালিন গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয় ডিএইচইএ হরমোন। যেটা এক ধরনের সেক্স স্টেরয়েডও বটে।

পিটুইটারী গ্ল্যান্ডের কোনও রকম মধ্যস্থতা ছাড়াই মেলাটোনিন হরমোন, ডিএইচইএ হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই ডিএইচইএ হরমোন এন্ড্রোজেন অথবা ইস্ট্রোজেনে পরিণত হতে পারে। এই দুই হরমোন-এন্ড্রোজেন এবং ইস্ট্রোজেন নারী ও পুরুষের উষ্মা নিয়ন্ত্রণ করে।

সাইবেরিয়ান হ্যামস্টারস পাখীদের অ্যাড্রিনাল সিস্টেম আমাদের মতো। মেয়ে সাইবেরিয়ান হ্যামস্টারস পাখীদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, কম সময় দিনের আলোয় থাকা পাখীগুলির শরীরে মেলাটোনিন এবং ডিএইচইএ হরমোনের হার বেশি এবং ওরা বাকিদের থেকে বেশি আগ্রাসী এবং হিংসাত্মক। কিন্ত একই অবস্থায় থাকা ছেলে সাইবেরিয়ান হ্যামস্টারস পাখীদের মধ্যে এরকম কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এই শীতে কালপ্রিট ওই হরমোন। প্রেমিকা বা গৃহিনীর সাথে এই মিঠে-কড়া শীতে কমলালেবু খেতে খেতে রোম্যান্টিক ট্রিপ উপভোগের মাঝে হঠাৎ করেই নেমে আসতে পারে হরমোনের খাঁড়া। দোষ কিন্তু সঙ্গিনীকে দিতে পারবেন না।

অন্যদিকে, প্রমীলা বাহিনীর অ্যাডভান্টেজ, মনের সুখে গায়ের ঝাল ঝাড়ুন আর সব দায় চাপিয়ে দিন হরমোনের ঘাড়ে। এত কিছু পড়ার পরে প্রতিবাদের টুঁ-শব্দও বেরবে না।সূত্র: নিউজ১৮।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১৬, ২০১৮)