ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনই সমাধান

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৭:০৪:০৭
পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনই সমাধান

চৌধুরী আবদুল হান্নান


পরীক্ষায় নকল নিয়ে এখন আর কাউকে মাথা ঘামাতে প্রায় দেখা যায় না, তার স্থান দখল করে নিয়েছে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস। এখন যে কোনো পরীক্ষা মানেই প্রশ্নপত্র ফাঁস আর লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন। যে কাজে টাকার গন্ধ আছে তা বন্ধ করা সহজ নয়। দুর্নীতিতে আকষ্ঠ নিমজ্জিত এ দেশে তো আরও কঠিন। তাছাড়া দেশে টাকাওয়ালা, ক্ষমতাবানদের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার বড় একটা নজির নেই। অথচ অপরাধের কঠোর শাস্তি না হলে অপরাধ প্রবনতা কমে না।

এদিকে শুরু হয়েছে সীমাহীন কাদা ছোরাছুড়ি, একে অপরকে দোষারোপ। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবং তাদের হাতেই সকল ক্ষমতা রয়েছে। অন্য কারও কাছ থেকে ক্ষমতা ধার করার প্রয়োজন নেই। প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ, মুদ্রন, বিতরণ যাবতীয় কার্যাদি তাদের সম্পৃক্ততায় হয়ে থাকে। ভূত প্রকৃত পক্ষ এখানেই রয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে হয়, ‘ওরে ভাই কার নিন্দা করো, তুমি মাথা করো নত, এ আমার এ তোমার পাপ।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে শিক্ষকদের মায়া করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বড় বোমাটি যেদিন ফাটালেন, তার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থার সাথে লেজে গোবরে শব্দটার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞের ভাষায় দেশে হু হু করে ‘ইল্লিটারেট গ্রেজুয়েট’ এর সংখ্যা বাড়ছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের এ সর্বনাশা প্রবনতার জন্য কে বা কারা দায়ী সে বিতর্ক যত তাড়াতাড়ি বন্ধ হয় ততই ভাল। কারণ তাতে কেবল মূল্যবান সময় ক্ষেপন হবে কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে না।

সব মানুষকে খুশি করার জন্য একটি সহজ উপায় আছে, তা হলো যে যা করতে চায় তা তাকে করতে দেয়া। পরীক্ষার হলে যদি বই দেখে লেখার সুযোগ দেয়া হয়, তা হলে নিশ্চয় কোনো পরীক্ষার্থী বা অভিভাবক প্রশ্ন ফাঁস করার পিছনে দৌড়াবে না। লক্ষ টাকা ব্যয় করবে না।

পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। পরীক্ষার উদ্দেশ্য তো মেধা যাচাই এবং তা যাচায়ের জন্য দেশে বিদেশে নানা ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার যে সকল স্তরে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আশংকা বেশি থাকবে সে সব ক্ষেত্রে ‘ওপেন বুক টেস্ট’ (Open Book Test) পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিদেশে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু আছে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো বিভাগেOpen Book Test পদ্ধতি চালু আছে।

পরীক্ষার্থীগণ বই-পত্র সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে। হল পরিদর্শকদের কাজ শুধু পরীক্ষার নির্ধারিত সময় রক্ষা করা। প্রশ্নপত্র এমনভাবে প্রনিত হবে যে, যারা মেধাবী বা নিয়মিত পড়াশুনা করেছে তারাই কেবল ভাল করবে। প্রশ্নের সংখ্যার সাথে সময়ের এমন বিন্যাস থাকবে যে একজন ভাল ছাত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল প্রশ্নের উওর দিতে সক্ষম হবে। বইয়ের মধ্যে উওর খুঁজে পেতে হলেও কিছু পড়াশুনা থাকতে হবে। একটি অংশের জন্য মৌখিক পরীক্ষারও বিধান রাখা যেতে পারে। দক্ষতার সাথে এ জাতীয় প্রশ্নপত্র তৈরী করার জন্য বহু চৌকশ শিক্ষক রয়েছেন।

এ পদ্ধতি প্রচলন করা হলে কেবল প্রশ্ন ফাঁসের সমস্যা দূর হবে তাই নয় বরং একই সাথে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনেক সমস্যা দূর হবে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার