ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৭:১৩:০৩
ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :পাকিস্তান সরকার কাশ্মির সীমান্তে তার দেশের সেনা অবস্থানের ওপর অব্যাহত হামলা এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের ব্যাপারে ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কাশ্মির এলাকা কিংবা সীমান্তে যেকোনো ঘটনা ঘটলে ভারতীয় কর্মকর্তারা কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সেসবের দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালান। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে ভারত সরকার আসলে সেদেশে কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ভারতের একটি সেনা ঘাঁটিতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির হামলায় সাত সেনা নিহত হলে ভারতের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন এ হামলার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত ছিল।

কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা একের অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে। সীমান্তে অব্যাহত সংঘর্ষ ও একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ দু'দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। দু'দেশের সীমান্ত-রক্ষা বাহিনীর গোলাগুলিতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদের মধ্যকার উত্তেজনা তীব্রতর করলেও এখন পর্যন্ত সংঘাত এড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

কাশ্মির এলাকার মালিকানা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চল আসছে এবং এ বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দু'দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। কাশ্মির বিরোধকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত দুইবার বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। নয়াদিল্লি কাশ্মিরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলনকে তারা অস্ত্র দিয়ে দমনের চেষ্টা করছে। কাশ্মিরে বর্তমানের সহিংস পরিস্থিতির জন্য ভারত সরকার সবসময়ই পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে আসছে।

কিন্তু পাকিস্তান সরকার বরাবরই কাশ্মিরের ওপর ভারতীয় মালিকানার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ওই এলাকার ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি সেখানকার জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে কাশ্মির ভারতের সঙ্গে থাকবে নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে তা নির্ধারণের জন্য ওই এলাকায় গণভোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে কাশ্মির তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে নাক গলানোর অধিকার কোনো দেশের নেই।

উপমহাদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ খোশ অমাদি বলেছেন, "জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মিরের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে নাকি ভারতের সঙ্গে থাকবে। এখানে তৃতীয় কোনো পথ নেই। কিন্তু কাশ্মিরের জনগণকে আজো সেই ভোটাধিকার দেয়া হয়নি বরং ভারত কাশ্মির দখল করে রাখায় পাকিস্তান প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট।"

যাইহোক, বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন কাশ্মির নিয়ে বিরোধের অবসান না ঘটবে ততদিন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় দু'দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতেরও অবসান ঘটবে বলে মনে হয় না।

(ওএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮)