ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

আমরণ অনশনে সিএইচসিপিরা 

বাগেরহাটের ২ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৭:২৯:২১
বাগেরহাটের ২ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট : বাগেরহাটে দুই শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে দরিদ্র মানুষে’র স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হচ্ছে। অতি সহজে স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে আসা এ দরিদ্র মানুষরা সম্প্রতি এ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাশ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গরীবের ডাক্তারখ্যাত কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপি’রা (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ সিএইচসিপি এ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ফলে সারাদেশের ন্যায় বাগেরহাটের দুইশতাধিক কমিউিনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমান সরকার সময়ে তৃনমূল জনসাধারনের একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পাওয়া কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা না পেয়ে এলাকার অসহায় দরিদ্র রোগীরা চরম হতাশায় পড়েছে। সিএইচসিপি’রা আন্দোলনে থাকায় গত ২০ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ। ক্লিনিকে’র সামনে অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ দরিদ্র স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীরা।

এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীরা জানান, সরকার আমাদের মত গরীব অসহায়দের জন্য তৈরীকরা একমাত্র স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটি বেশকিছুদিন ধরে বন্ধ পাচ্ছি। শুনেছি ক্লিনিকের ডাক্তারদের চাকুরী সরকারী নয়। তাই তারা চাকরি সরকারি করার জন্য আন্দোলন করছে। আর আমরা দিনের পর দিন জ্বর, সর্দি, কাশি, আমাশা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে ভুক্ত হয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। টাকা ব্যায় করে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ অনেকের নাই। গরীব অসহায় এ সকল রোগীরা বাড়ীর কাছে এমন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পেয়ে বেশ উপকৃত বলে তারা জানান।

অপেক্ষাকৃত এসব রোগীরা দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের মত গরীব অসহায়দের জন্য নিয়োজিত এই গরীবের ডাক্তারদের চাকরি সরকার কেন স্থায়ী করেনা। বড়বড় ডাক্তার’রা আমাদের কখনই টাকা ছাড়া দেখেনা বা আমরা বড় ডাক্তার দেখাতে পারিনা। আমাদের একমাত্র ভরসার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিক। আর ক্লিনিকে কর্মরত গরীবের ডাক্তার সিএইচসিপিদের চাকুরী সরকারী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা দাবি জানাই।

কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিরা বর্তমানে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে বলে মোবাইলে যোগাযোগ করলে জানান জেলা সিএইচসিপি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ওয়াহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত চেষ্টায় ২০১১ সালে আমরা প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ প্রাপ্ত হই। এরপর সরকার পক্ষ থেকে বারবার আমাদের চাকরি রাজস্ব করনের আশ্বাস দেয়। অথচ আজও তা বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। আমাদের এখন সরকারি চাকরির বয়সও পার হয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশ সিএইচসিপি এ্যাসোসিয়েশন সিএইচসিপিদের চাকরি রাজস্ব করণের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি গত ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু করে। যা আজ অনির্দিষ্ট সময় ধরে আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার সিএইচসিপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে ৬ বছর ধরে আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত থেকে গ্রামের হত দরিদ্র মা-বোনদের আন্তরিকতার সাথে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে চলেছি। সরকার পক্ষ একাধিকবার লিখিত আদেশের মাধ্যমে আমাদের চাকরি রাজস্ব করণে আশ্বস্থ করেও তার কোন বাস্তবায়ন করেনি।

আমরা তাই আমাদের চাকরির নিশ্চয়তা পেতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছি। এই আন্দোলন চলাকালে বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসে আমাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের অন্য কোন জেলায় হয়নি। এখন কমিউনিটি ক্লিনিকের জননী প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করলেই আমরা কর্মস্থলে ফিরে আসবো। বছরের পর বছর এলাকার এ সকল জনসাধারনকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে তাদের সাথে আমাদের সেবাবন্ধন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। তাদের সেবা দিতেনা পেরে আমাদের মনও কাঁদছে। আমরা দ্রুত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস নিয়ে কর্মস্থলে ফিরবো বলে আশা করছি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন অফিস সুত্র জানায়, কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা তাদের চাকরি রাজস্ব করনের দাবিতে আন্দোলন করছে। পরিবার পরিকল্পনাসহকারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের দ্বারা ক্লিনিক সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছে সিএইচসিপিরা। ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান কর্মসূচি, ২৩ জানুয়ারি থেকে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ২৭ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে।

(এসএকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮)