ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ : পর্ব ০১

২০১৮ আগস্ট ২২ ১৯:৫০:০৮
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ : পর্ব ০১

সুচিন্ত্য সাহা


সবেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানে তো একটা স্বপ্নের ঠিকানা! চারদিকে চৌকশ সব ছাত্রদের নানা অনুষ্ঠান। আমি এসে উঠেছি জগন্নাথ হলে।

প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হলে সিট পাওয়া তখনও খুব কঠিন ছিল। তাই আমরা যারা সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি তাদের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না। সিটের আশায় সিনিয়র দাদাদের আনুকূল্য কিংবা রাজনীতি করা দাদাদের অনুগ্রহ পেতে নিরন্তর চেষ্টা চালাতে হতো।

আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ডামাডোল নিয়ে ব্যস্ত তখন দেশের রাজনীতিতে ঘটেছে এক বিশাল পরিবর্তন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে একাত্তরের ঐক্য ফেরাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল। সেই সূত্র ধরেই সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে একই ছাতার তলে নিয়ে আসা হয়েছে; নাম দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রলীগ ।

বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রলীগের প্রধান হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও বর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতা শেখ শহিদুল ইসলাম। আর জাতীয় ছাত্রলীগের ওই কমিটির অন্যান্য ছাত্র নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের আকরাম ভাই। বলাবাহল্য, ওই সময়ে সদ্য বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ মোজাফফরের ছাত্র সমিতি মিলে জাতীয় ছাত্রলীগ গঠন করা হয়। ওই সময়ে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, তারা সবাই জাতীয় ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবেই নতুন ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে গেলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন একটা চমৎকার পরিবেশ ছিল। কোন ধরনের ছাত্র আন্দোলন নেই। সারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থাও অনেক স্থিতিশীল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র তথা টিএসসিতে প্রতিদিন বিকেলে নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছেই। ম. হামিদ ভাইয়ের নেতৃত্বে এক ঝাঁক নতুন ছেলে মেয়ে সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে চালিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ কামালের নেতৃত্বে চলছে নাট্যচক্রের নাটক।

শেখ কামাল অভিনীত খুবই জনপ্রিয় নাটক ছিল 'আমি মন্ত্রী হব'। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল শেখ কামালের দুর্দান্ত সেই অভিনয় দেখার।

নাট্যচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ম. হামিদ ভাই। 'আমি মন্ত্রী হব' নাটকে আমাদের এলাকার দিজুদা তথা দ্বিজেন্দ্র নাথ সাহা শেখ কামালের সাথে একটা শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করতেন। দিজুদা কিংবা দ্বিজেনদা অবশ্য জগন্নাথ হলে মুকুলদা তথা মুকুল বোসের সাথে ছাত্রলীগের অন্যতম নেতাও ছিলেন। দ্বিজেনদার চেহারাটা বেশ সুন্দর ছিল। ওই চেহারার কারণে কিনা জানি না, অনেকেই দ্বিজেনদাকে পাঞ্জাবীদের সাথে তুলনা করে দিজু খান বলে ডাকতেন। সবাই বলাবলি করতেন, দিজু খান নামকরণটা নাকি শেখ কামাল দিয়েছিলেন।

দিজু খান তথা দ্বিজেন্দ্র নাথ সাহার বদৌলতে জগন্নাথ হলের ইস্ট হাউসের তিন তালায় আমার থাকার ব্যবস্থা হয়ে গেল।

[চলবে]

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও সমাজ সচেতন প্রবাসী ব্যবসায়ী।