ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

নগরকান্দা-সালথার আকাশে এ কোন বেহায়া শকুন!

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২৩:৪০:৪৯
নগরকান্দা-সালথার আকাশে এ কোন বেহায়া শকুন!

প্রবীর সিকদার


১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন পর পর দুইবারের জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ওই সময়ের বড় রকমের একটি অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনায় দুদকের একটি মামলায় আসামি হয়েছিলেন তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ও আজকের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরী। ওই মামলায় লাবু চৌধুরীর ১৪বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পতনের পর আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় আসীন হয়, তখন রাষ্ট্রপতি হন আওয়ামীলীগের তুখোড় নেতা জিল্লুর রহমান। ওই মেয়াদেই রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুকম্পায় কারাগারে না ঢুকেই সাজামুক্ত হন শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু। তারপর অনেকদিন লাবু চৌধুরী লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন। গত সংসদ নির্বাচনের কিছু আগে আবার তিনি স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে বড় ভাই আয়মন আকবর চৌধুরীকে হটিয়ে সরকারি বাসভবন থেকে সুকৌশলে তার অসুস্থ মা ও সংসদ উপনেতা অসুস্থ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে নিজের কব্জায় নিয়ে যান। এপিএস পাল্টে সাবেক দুর্নীতিবাজ শফিউদ্দিনকে নতুন করে এপিএস নিয়োগ দেন। তারপর সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে লাবু চৌধুরী ওই এপিএসের সহযোগিতায় উপনেতার সংসদীয় এলাকা নগরকান্দা ও সালথার সরকারি উন্নয়নকাজ ও নানা সরকারি বরাদ্দ থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নেন, লুটে নিচ্ছেন। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, মাত্র একবছরের লুটপাটের টাকায় শুধু দেশেই নয়,সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও বাড়ি-সম্পদ গড়েছেন লাবু! এতো কিছুর পরেও তার লোভের জিহবা খাটো হয়নি একটুও!

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নগরকান্দায় ও সালথায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দেন যথাক্রমে প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান সরদার ও দেলোয়ার হোসেনকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সংসদ উপনেতার এই লোভী-নির্লজ্জ ছেলে লাবু চৌধুরী শেখ হাসিনার মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে নগরকান্দায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের বিরুদ্ধে ফ্যানচোর পরিচয়ের এক দুর্ধর্ষ কালোবাজারি বাবুল কাজীকে এবং সালথায় আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসি ওদুদ মাতুব্বরকে প্রার্থী হিসেবে দাড় করিয়েছেন। তার টার্গেট শেখ হাসিনার প্রার্থীর নৌকা ডোবানো এবং বাবুল কাজী ও ওদুদ মাতুব্বরের কাছ থেকে কোটি কোটি হাতিয়ে নেওয়া। অবশ্য নগরকান্দায় মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, তিনি কালোবাজারি বাবুল কাজীর কাছ থেকে ইতোমধ্যেই ১০কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েই মাঠে নেমেছেন নৌকা ডোবানোর মিশন নিয়ে। শুধু কি তাই, নগরকান্দা ও সালথার সকল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে ভয়ভীতি ও পুলিশি নির্যাতনের হুমকি দিয়ে বাবুল কাজী ও ওদুদ মাতুব্বরের পক্ষে প্রচারণায় নামতে বাধ্য করছেন।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরীর নানা অপকর্ম ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনীত দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেমে তিনি শুধু নিজের মা সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকেই অসম্মানিত করেননি, তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন। নগরকান্দা ও সালথার মানুষের স্পষ্ট উচ্চারণ, ওই দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি বাঁচাতে লুটেরা-দুর্বৃত্ত লাবু চৌধুরীকে এলাকা থেকে শুধু অপসারণই নয়, লুটপাট ও অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য আবার তাকে আইনে সোপর্দ করে কঠিন সাজার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। কেননা নগরকান্দা-সালথায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির আকাশে এখন শুধু একটাই শকুন, তিনিই হলেন শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরী, যিনি আবার বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের ভায়রা ভাই! ওই শকুন কিংবা ভায়রা ভাই রাজনীতির আকাশে থাকলে নিরাপদ নয় নগরকান্দা ও সালথা এলাকার আওয়ামীলীগ, দলের নেতাকর্মী সমর্থক তথা দুই উপজেলা এলাকার সাধারণ মানুষ!

(পিএস/অ/ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯)