ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

প্রচ্ছদ » ঘুরে এলাম » বিস্তারিত

ঘুরে এলাম ভূস্বর্গ কাশ্মীর 

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৬:১৭:৪৪
ঘুরে এলাম ভূস্বর্গ কাশ্মীর 

নাঈম ইকবাল : ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ফানা ছবি দেখে কাশ্মীর এর প্রতি আমার প্রথম আকর্ষণ জন্মেছিলো। ভাবতে লাগলাম এই দেশটাতে আল্লাহ তাহার সব সৌন্দর্যময়তা উজাড় করে দিয়েছেন।

শেষের দিকে এসে আরেক সুপার হিরো সালমান খানের বাজরাঙ্গি ভাইজান ছবিটা দেখে প্রতিজ্ঞা করলাম স্বপ্নের কাশ্মীর আমি যাবোই যাবো।

অবশেষে যাওয়ার একটা ছোট সুযোগও আসলো। তা হল বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচে কুইজ এর সঠিক উত্তর দিয়ে। নভো এয়ার থেকে ঢাকা কোলকাতার রির্টান টিকেট পেয়ে গেলাম।

স্বপ্ন যেন সত্যি হতে শুরু করলো। আমার সাথে আরো একজন ফ্রিতে যেতে পারবে । তাই কাছের পরিচিত রাশেদ ভাইকে বললাম উনি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো। তাই ইমারজেন্সি পাসপোর্টও করতে দিয়ে দিলেন তিনি। ১০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট চলে আসলো। আমারটা আগে করা ছিল। দু’জনের ভিসা এক সাথে করতে দিলাম ২দিন পর পেয়ে গেলাম।

আমাকে আর বাঁধে কে! অবশেষে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করলাম। যেহেতু ঢাকা টু কোলকাতা রিটার্ন এয়ার টিকেট ফ্রিতে পেয়ে গেলাম। তাই আসা যাওয়ার সব কিছু এয়ার টিকেট করে নিলাম।

যাওয়ার ৫ দিন আগে এয়ার টিকেট করেছি বিধায় টিকেট এর দাম আসছে ৩৭,৫০০ টাকা দু’জনের। ঢাকা থেকে আমাদের ফ্লাইট ২৭ তারিখ ঢাকা টু কোলকাতা- কোলকাতা টু দিল্লী আমাদের ফ্লাইট পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭.১০ ইন্ডিয়ান সময়।

রাতে দিল্লীতে থাকতে হবে। কারণ সকালে ৭.১০ মিনিটে আবার আমাদের এয়ারে যেতে হবে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে না হতেই ট্যাক্সিওয়ালা ঘিরে ধরলো। একজনের সাথে কথা বললাম।

(সুবহে সাত মে হামারি দুনোকো ফ্লাইট আস পাস রূকনা পড়েগি। ও বললো কয়ি বাত নেহি) আস পাস ছারে কি ছারে হোটেল হে।

পরদিন কাশ্মীর এর ফ্লাইট ৭.১০ মিনিট উঠে গেলাম ইন্দিগোতে বিমান উঠার পর থেকে কেমন ছটফট করতে লাগলাম নিজের স্ব চোখে স্বপ্নের কাশ্মির’কে দেখবো। তখনকার অনুভূতির কথা গুলো লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়? অবশেষে ১০টায় পৌঁছালাম স্বপ্নের কাশ্মীর শ্রীনগর শহরে..

আমরা ৫ দিন ছিলাম কাশ্মীর ১ম দিনের বিস্তারিত বলছি। শ্রীনগরের ডাল লেকের পাশে হোটেল বরকত এ উঠলাম । রুম ভাড়া ৫০০ রুপি করে। হোটেলের মালিক অনেক ভালো। ওদের নিজের গাড়ি দিয়ে সাইটসিং করায় যার প্রতিদিন ভাড়া ১৮০০ রুপি । একটা অটো নিলাম হযরত বাল মসজিদ। যেখানে হযরত মুহাম্মদ (স:) এর চুল মোবারক রয়েছে, নিশাত গার্ডেন, শালিমার গার্ডেন, ইন্দ্রিরা গান্ধী গার্ডেন পরী মহল। সব ঘুরে ফিরে দিন শেষে রাত্রি নেমেছে।

ঘোড়ায় চড়ার প্রথম অভিজ্ঞতা হল। ৪ -৫ টা স্পটটি বিখ্যাত বাইসারান যা মিনি সুইজারল্যান্ড বলা হয়। সেই জায়গাতে অনেক্ষণ সময় নিলাম। রাতে চলে এলাম শ্রীনগর ।

৩য় দিন..সোনমার্গ যাইতে প্রাই ২.২/৫ ঘন্টা সময় লাগে । সোনমার্গ যাওয়ার সময় রাস্তার দু পাশের দৃশ্য দেখে মনটা মুগ্ধ হয়ে যায়। জুজিলা পাসকে বলা হয় ডেথ রোড। যা কাশ্মীরে অবস্থিত । ইহা পৃথিবীর ১০টি ভয়ংকর রাস্তার মধ্যে অন্যতম। যা ১১,৬৪৯ ফুট উপরে অবস্থিত।

পাহাড় কেটে তৈরী করা রাস্তার কোল ঘেঁষে আপনি চলে যাবেন ১১,৬৪৯ ফুট উপরে। ভাবুনতো একবার সত্যিই অন্যরকম অনুভুতি যা কোন ভাবেই লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সোনমার্গ যাওয়ার পথে আপনি দেখতে পাবেন। মনমুগ্ধকর পাহাড়ি সব রাস্তা যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সিন্ধু নদ।

৪র্থ দিন..গুলমার্গ যাওয়ার কথা থাকলে আমরা যায়নি কারণ আমাদের একদিন আগে যারা গিয়েছে তারা বরফের দেখা পাইনি। আমাদের ড্রাইভার ও বলেছে। (আব লোগ ইস ওয়াক্ত নেহি যানা) কিউ কি ইস ওয়াক্ত বারাফ নেহি হে) আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে আবার যাওয়ার প্লেন করছি। কারণ আমরা যে হোটেলে ছিলাম তারা অসম্ভব ভালো । তাদের ব্যবহার প্রশংসনীয় । তারা আমাদেরকে তাদের নিজেদের গাড়ি দিয়ে সাইটসিং করে ঘুরে দেখাবেন বলে প্রমিজ করেছে।

তাই আমরা ৪র্থ দিনটা শ্রীনগরের পুরনো জামে মসজিদ দেখতে গেলাম। যা তৈরী করা হয়েছে ৩০০ বছর আগে অসম্ভব সুন্দর । আরো কিছু স্থাপনা দেখলাম।

৫ম দিন আমাদের শ্রীনগর টু দিল্লি যাওয়ার ফ্লাইট ১০টা সকাল কাশ্মীর এর মায়া ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছেনা। কিন্তু কি করার চলে আসতেই হবে।

সারাদিন দিল্লি মার্কেটে কেনাকাটা করলাম। রাতে খেয়ে হোটেলে ঘুম দিলাম। পরের দিন দিল্লি টু কোলকাতা । ঐ দিন কোলকাতা টু ঢাকা ২টা ফ্লাইট ১২টা চলে এলাম। এয়ারপোর্ট ২টায় বিমান এ উঠে পড়লাম মাতৃভূমির উদ্দেশ্য ৩টায় পৌঁছে গেলাম ঢাকা এয়ারপোর্ট।

সাবধানতা-
১. কাষ্মীরের তাপমাত্রা দিনে ৪/৫বার পরিবর্তন হয় মাইনাসে চলে যায়। তাই অসুস্থ হওয়া হতে সতর্ক থাকবেন।

২. কাষ্মিরের লোক ৯৯% মুসলমান। ট্যুরিষ্ট তাদের দেশের অর্থনীতির মূল উৎস তাই পুরোপুরি নিরাপত্তা পাবেন। আপনি যদি বৈধ ভাবে যান। তারা খুবই সহজ সরল। তারা বাঙালি মুসলিমদের খুব সম্মান করে। তাই এমন কিছু করবেন না। যেন নিজের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তারা বাঙালিদের খুব ভালোবাসে বিশেষ করে ক্রিকেটার ও সাকিব আল হাসানের ভক্ত সবাই।

অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই শাহদাত রাশেদ ভাইকে আমাকে পাশে থেকে আপন ভাইয়ের মত সহযোগিতা করার জন্য । সব মিলিয়ে আমার জীবনের সেরা ট্যুর ছিল এটা। সবার প্রতি অনুরোধ জীবনে একবার হলেও কাশ্মীর দেখে আসবেন।

নিজের চোখে না দেখে বিশ্বাস করতে পারবেন না। সৃষ্টিকর্তার কি অপরুপ কুদরত!!

হেপি মুহুর্ত কাটনো সময় গুলো। আবারো ঘুরে আসবো নতুন কোন জায়গায়। আমরা আমাদের ভ্রমনের স্থানকে ঘরের মত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখবো। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন করবেন।

লেখক : ভ্রমণ বিলাসী পর্যটক, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম।