ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬

প্রচ্ছদ » ঘুরে এলাম » বিস্তারিত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপার লীলাভূমি কাপ্তাই 

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:০২:০৯
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপার লীলাভূমি কাপ্তাই 

নাঈম ইকবাল : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদ একদিকে যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি অন্যদিকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকেও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, হাওর-বাঁওড়, বাগান, ম্যানগ্রোভ বন সহ আরও অনেক পর্যটনের উপাদান নিয়ে আমাদের এই দেশ। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের রাঙ্গামাটি কাপ্তাই তেমনি এক অসাধারণ পর্যটন স্থান।

যে দিকে চোখ যাবে সেদিকে চোখ জুড়াবে সবুজে আর পাহাড়ে। এ ছাড়া ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, হাওর, নদী, বনাঞ্চল, ঝরনার অপরূপ সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে কাপ্তাই এর নৌকা ভ্রমণ। আমি নিজে ও ভ্রমণ করেছি তাই তার বর্ণনা তুলে ধরছি পাঠকের কাছে।

আমরা কয়েকজন বন্ধুমহল মিলে হঠাৎ করে পরিকল্পনা করলাম। কাপ্তাই যাবো তাই সবাই’কে পেইজবুক গ্রুপ এ জানিয়ে দিলাম ৫ তারিখ সকাল ৮টায় উপস্থিত হতে। ৪ তারিখ রাতে সুপার জি এল নোহা গাড়ি ভাড়া করলাম। ড্রাইভার কে বললাম সদরঘাট জেটি’তে ৭টায় উপস্থিত থাকতে।
ঠিক সময়ে আমরা ভ্রমণ স্থানে যেতে রওয়ানা যেন সহজ হয়।

১১.২০মিনিটেই কাপ্তাই পৌঁছে আমরা হাল্কা নাস্তা করলাম। যাই হোক কাপ্তাই যাওয়ার পরে জানলাম দর্শনীয় অনেক স্পট। কোনটা ছেড়ে কোনটাতে যাই। লেক ভিউ আইল্যান্ড দিয়েই শুরু করালাম আমাদের ভ্রমণ যাত্রা।

আমরা আগে থেকে লেক ভিউ’র পেইজ এ তাদের সব নিয়ম দেখে নিলাম। ফোন দিলাম তাদের নাম্বার এ তাঁরা বলল জেটি ঘাটে বোট পাঠাবে। কথা মতো যথা সময়ে চলে ও আসলো । ভাসমান বোটটি খুব সুন্দর। নাম ছিল নিলকৌঁড়ি । শুরু হল কাপ্তাই লেকে নৌ-ভ্রমণ । মিনিট ৫ পরেই তাদের আইল্যান্ড পৌঁছে গেলাম । এন্ট্রি ফি ১৫০ করে একেক জনের ।

ইচ্ছা মতো পাখির ডানা মেলে শুরু হইল ঘুরাঘুরি । যতটা বড় ভাবছিলাম ততটা আসলে বড় না। কিন্তু সুন্দর এবং সব কিছুই ঘুচিঁয়ে তৈরি করা। ঘণ্টা খানেক সময় কাটানোর পর এবার সুইমিং পুলে যাওয়ার পালা। এইটা মুল রিসোর্ট থেকে একটু দূরে বোট এ করে যাওয়া লাগবে।

এন্ট্রি ৫০ টাকা করে একেক জন এখানকার সবচেয়ে ভাল লাগার পার্টটা হল তাদের সুইমিং পুলটা। ২ তলায় মুলত এইটা কাপ্তাই লেক এর খুব সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। সুইমিং এ অনেক মাস্তি করলাম। সুইমিং থেকে লেকের ভিউটা এত সুন্দর, যা ভাষায় বলা যায় না।

দর্শনীয় স্থান গুলোতে আমরা ফটোশুট করলাম। বিকেল ৩ টায় আমরা লেক ভিউ থেকে বের হয়ে। দুপুরে খেয়ে আমরা শেখ রাসেল পার্কে প্রবেশ করলাম। পার্কের সবচেয়ে মজার রাইড হচ্ছে ক্যাবল কার। ওটা প্রায় দু, কিলোমিটার বিশিষ্ট ওটা উপভোগ করে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আপনারাও নিজেদের অবসরে যেতে পারেন।

কীভাবে যাবেন চট্টগ্রাম অক্সিজেন মোড় থেকে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। সিএনজি অটোরিকশা, নিজস্ব কার, মাইক্রোবাস কিংবা কাপ্তাই লাইনের বাসে যেতে পারেন।

পরিশেষে সবাই’কে বলতে চাই আমরা ভ্রমণের স্থান’কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা রাখতে সবাইকে সচেতন করবো।

সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এই প্রত্যাশা রহিলো।


ভ্রমণ বিলাসী পর্যটক, চট্টগ্রাম