ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

ক্ষমতায় আ.লীগ : বিনা চিকিৎসায় মরে হাসেম আলী, অনুদান নেয় খল আহমদ শরিফ

২০১৯ এপ্রিল ২০ ১৮:০০:৫০
ক্ষমতায় আ.লীগ : বিনা চিকিৎসায় মরে হাসেম আলী, অনুদান নেয় খল আহমদ শরিফ

মানিক বৈরাগী


বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ টানা দশবছর ক্ষমতায়।এবার তৃতীয় বার ক্ষমতায় এলো। এই আওয়ামীলীগ কে ক্ষমতায় ভার‍ত পাকিস্তান, ইউরোপ, আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগর বা ভারত মহাসাগরের তলদেশ থেকে ক্রেন দিয়ে টেনে তুলে ক্ষমতায় বসায়নি।

এদেশের গণ মানুষের গণ নেতার আত্মত্যাগ, শ্রম, জেল জুলুম, নির্যাতন সয়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বসিয়েছে সাধারণ জনগণ। এই দেশ ও আওয়ামীলীগ এর জন্য জন্য জাতির পিতার পরিবার যেমন প্রাণ দিয়েছেন তেমনি জাতিয় চার নেতা সহ কত হাজার তরুণ ছাত্র যুব কর্মী পেশাজীবী সহ কত আওয়ামীলীগ নেতাও পরিবার সর্বশান্ত হলো তার ঠিক পরিসংখ্যা আছে কিনা সন্দেহ।

এই আওয়ামীলীগ এভাবে ত্যাগী নেতা কর্মীর ত্যাগের ফসল হচ্ছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা টানা তিনবার ক্ষমতায়।
বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার চোখে না পড়া পর্যন্ত অপরাপর নেতারা চোখে কালো চশমার আলোয় এসব চোখে পড়েনা।

একি অবস্থা বঙ্গবন্ধুর বেলায়ও ছিল।এই মোনাফেকির ফড়িয়া নেতারা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে কত প্রভাবশালী যে হয় তাদের পদভারে আসলেরা হাসেম আলী হয়ে যায়।কি নির্মম বেদনা দায়ক দায়িত্ব হীনতা। গেলো জাতীয় নির্বাচনেও সংসদ সদস্যের মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করেও কোটি টাকা আয় হয়েছে তা পত্র পত্রিকায় এসেছে।এভাবে স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনেও কত টাকা আয় হলো তা এখনো পত্রিকায় আসেনি। আওয়ামীলীগ এর রিলিফ ফান্ডে কত টাকা অলস পড়ে আছে তার হিসাব আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানিনা।জানতে চাইনি কোন কালে।

আজ অনলাইন একটিবিস্ট কবির চৌধুরী তন্ময় kabir chowdhury tanmoyএর ফেইসবুকের টাইমলাইনে এই বেদনাদায়ক পোষ্টটি পড়ে এত কথার অবতারণা। আমি নিজেও দু:খি নির্যাতিত কর্মী হিসাবে শ্রদ্ধেয় আওয়ামীলীগ এর চরম দুর্দিনের এই নির্যাতিত নেতার পোষ্ট টি পড়ে আমার চোখ মনের অজান্তেই অশ্রু সজল হয়।পড়ি আবার ধরে রাখতে পারিনি অশ্রুবারি। ক্ষোভও হয়নি তা নয়।রাগও বাড়ছে এই মোনাফেকি ক্ষমতার নেতাদের প্রতি।ঘেন্না ও এসেছে তাদের প্রতি যারা এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র করুণার নেতা এমপি মন্ত্রীদের প্রতি।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি সমাজ সেবা ও কল্যান পদ আছে।এখন মনে হচ্ছে এসব পদ আসলে শোভাবর্ধক আলঙ্কারিক পদ ও পদবী ছাড়া কিছুই নয়।এরা এসব পদ নিয়ে তারা শুধু জনগণ ও আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে প্রবঞ্চনাই করে যাচ্ছেন।মুলত তারা কোন কাজ থাকলে কর্মসৃজনী উদ্যোগ মেধা যোগ্যতা নাই। সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র দিকে তাকিয়ে থাকেন।

আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে দেখিনাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন মহত ও সৃজনশীল কর্ম কে নিরুতসাহিত করেছেন।কিন্ত আমাদের নেতারা ওসবে নেই।আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় কোথায় কোন ফাকে আখের গুছিয়ে নেয়া যায় তারিই ধান্দা ছাড়া আর কিছু নাই। আর কোন নেতা বা কর্মী কোন মহত উদ্যোগ নিলে সেটি কিভাবে কোন্দল ভেজাল সৃষ্টি করে তা প্রতিহত করতে উঠে পড়ে লাগে।ভয় তাদের খুব বেশী।

রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল কে একদা মঙ্গা অঞ্চল বলা হলেও এখন এটি সুদুর পরাহত।এই মঙ্গা মহামারি দূর হয়েছে শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায়।যখন রংপুর দিনাজ পুরে মঙ্গা হতো সেই সময়ে এই মানুষ টি জীবনবাজি রেখে পকেটের উপার্জিত টাকা খরচ করেছেন আওয়ামীলীগ এর রাজনীতির জন্য।দিনাজ পুরে মঙ্গা দুরিভুত হলেও হাসেম আলী আজ নিজ জীবনে মঙ্গা কবলিত।

আমরা, আওয়ামীলীগ, আওয়ামীলীগ সরকার হাসেম আলীর সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারব না।কিন্তু তার নিরাপদ ভিক্ষামুক্ত জীবন তো নিশ্চিত করতে পারি।

১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে রাজপথের সৈনিক ছিলেন হাশেম আলী। জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন একাধিকবার। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নেতাকর্মীদের হাতে। সেই হাশেম আলী এখন চরম অভাবের কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এক সময়ের মাঠ কাঁপানো আওয়ামী লীগ নেতা হাশেম আলী (৬৫) এখন ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। কেউ তাঁর খোজ রাখে না। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১নং প্লাটফরমে তিনি এখন শুয়ে শুয়ে ভিক্ষা করেন। আমি আশা করি দিনাজপুরের আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ অপরাপর অঙ্গ ও সহযোগী সংঘটন এর নেতা কর্মীদের চোখে পড়া মাত্র তার সুন্দর একটি ভিক্ষা মুক্ত জীবন গড়ে দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে পারি।

আওয়ামীলীগ নেতা হাসেম আলী ও তাঁর পরিবার পরিজনের সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি প্রয়াত হয়েছেন গেলো বছর।বিনা চিকিৎসায়।তার জন্যে জুটেনি উপযুক্ত কোন অনুদান। রংপুর আওয়ামীলীগ কত ক্ষমতাধর নেতা আছেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ শ্বশুরঘর। এরশাদের সময়ে যে ক'জন আওয়ামীলীগ কে টিকিয়ে রেখেছিল এর মধ্যে হাসেম আলীও অন্যতম নেতা। আজ তারপরিবার কেমন আছে কিভাবে আছে তার খোজ রাখার কারো সময় নেই।

এ লেখাটি লিখতে বাধ্য হয়েছি, যখন দেখলাম জাসাস সভাপতি বাংলা সিনেমার খলনায়ক, ব্যক্তিজীবনেও খল আহমদ শরিফ কে ৩৫লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হলো। আপনার অনুদান আপনি কাকে দিবেন না দিবেন এটি একান্তই আপনার এক্তিয়ার। এতে আমার আমাদের প্রশ্ন করার কে? কষ্ট লাগে তখনি আপনার চারপাশে থাকা কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় নেতা,জেলা, থানা, বিভাগ ভিত্তিক নেতাদের কাজ কি?তাদের কাজ কি আওয়ামীলীগ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আপনাকে দেখিয়ে দেখিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা।আর বড় বড় গলায় গলাবাজি করা?তারা দেখি অনেক সময় দলিয় কর্মসূচিও পালন করে না।

আর আপনার ও আওয়ামীলীগের দলিয় মনোনয়ন পাওয়া এমপিরা বিএনপি জামাত যৌথ সিন্ডিকেটে ব্যবসা বানিজ্য করা।বিএনপি জামাতের পক্ষে হয়ে দালালি করা।তাদের কি আওয়ামীলীগ এর দুর্দিনের নেতা কর্মীদের সুখ দুঃখের খোজ খবর নেয়ার কোন সামাজিক দায় দায়িত্ব নেই? আপনার এমপি চেয়ারম্যান ও নেতারা আওয়ামীলীগের প্রতিবাদী ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন লোকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা? এমনটি হওয়ার কথা ছিলনা নেত্রী। হওয়ার কথা ছিল ২১বছরের সুরাষম সুন্দর সুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার।অনেক এমপি র সরকারি পিএসও দেখি শিবির নেতা। বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করে বলেছিলেন "বিশ্ব পেয়েছে সোনার খনি,আর আমি পেয়েছি চুরের খনি"। আর আপনি পেয়েছেন চাটার দল।

আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় থাকেনা তখোন আওয়ামীলীগ কে মিছিল মিটিং সভা সমাবেশে টিকিয়ে ও চাঙ্গা রাখে নিম্ন বিত্ত পরিবারের সন্তানেরা ও অভিবাকেরা।আর আওয়ামীলীগের জন্যে জেল জুলুম মামলা হামলার শিকারও হন তারা।
যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তখন তারা চাটারদলের কাছে খুব অসহায় হয়ে পড়ে। সেদিন আপনার মনোনীত ও বানানো এক এমপির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মুখবই এর বার্তায় দেখলাম, আমার আসনের গরিব অসহায় অসুস্থ দরিদ্র মানুষ ও আওয়ামীলীগ এর লোকজন যারা আছেন তারা আমার পিএস এই০১৭১----নাম্বারে অনুদানের জন্যে যোগাযোগ করুন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে একজন আদর্শিক সারাজীবন মুজিবাদর্শের লড়াকু সৈনিক কি কারনে তাঁর আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে ঐ পিএস এর সাথে যোগাযোগ করবে? এবং ঐ পিএস তো তার এলাকারও মানুষ নয়।সাবেক শিবির কর্মী। সেকি দুর্দিনের লড়াকু সৈনিকের মর্যাদা বুঝবে?ধরুন সে যোগাযোগ করলো,যদি সে তার সম্মানটুকুই হারায় তখন সে কি আত্মহননের পথটি বেছে নিবে না? শিবিরের তো অনেক প্রমোদ বালক আছে। এবং ঐ পিএসের বিরুদ্ধে প্রমোদ প্রণোদনার খ্যাতিও লোকে মুখে শুনা যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এভাবেই চলছে আপনার ক্ষমতার আওয়ামীলীগ। এভাবেই হাসেম আলীরা হারিয়ে যায়।এভাবেই আবু শামা মেম্বার, জাবেদ হোসেন পুতুলেরা হারিয়ে যাবে। ইথারে ভাসবে প্রবঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস। একদিন আপসোসহীন সময়ও হয়ত হারিয়ে যাবে। এসব কথা লিখতাম না, লিখছি এই কারনে আপনার পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম দেশ স্বাধীন করেছে, আর আমরা আপনার ডাকে সাড়া দিয় আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। কারন আপনিও আপনার পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু আপনার পিতা না, একটি জাতির আবেগ অনুভূতির সঞ্চারণ সঞ্চালক। আর আপনি সেই আবেগ অনুভুতি প্রেম ভালোবাসার প্রেরণা দাত্রী। ধাই, বোন ভগ্নি, মা, খালা নেত্রী। এই প্রবিত্র অনুভূতির ধবধবে সাদা মুজিবাদর্শের পতকায় একটুও যদি কালিমা লাগে সাথে সাথে ধ্বক ধ্বক করে কলিজায় হাতুড়ির বাড়ি লাগে বুবু। আপনার চির মঙ্গল মানে দেশের মঙ্গল জাতির মঙ্গল মানুষের মঙ্গল।জয় হোক আপনার।

লেখক : কবি ও নব্বইয়ের নির্যাতিত ছাত্রনেতা, কক্সবাজার।