ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি

পবিত্র মক্কায় মোশাররফের সাথে ওরা চারজন কারা!

২০১৯ মে ০১ ২১:৩১:১০
পবিত্র মক্কায় মোশাররফের সাথে ওরা চারজন কারা!

প্রবীর সিকদার


পরম শ্রদ্ধাভাজন আপা,
ফরিদপুর সদরের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন মক্কায় রয়েছেন ওমরাহ্‌ পালনের জন্য। তার সাথে রয়েছেন বহুল বিতর্কিত চার ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা করিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমার প্রশ্ন, ওই বিতর্কিত চারজনকে সাথে নিয়েই কেন তাকে ওমরাহ্‌ পালনে যেতে হল? তার সহযাত্রী হওয়ার মতো আপন ভাই কিংবা ছেলে কি তার নেই?

কারা এই চারজন : আঙুল ফুলে কলাগাছ নয়, রীতিমতো তালগাছ হয়ে যাওয়া এই চারজন হলেন, সাজ্জাদ হোসেন বরকত ওরফে বরকত মণ্ডল ওরফে চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, এএইচএম ফুয়াদ ও আরিফুর রহমান দোলন। এদের একটু সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে না ধরে পারছি না।

সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, আপন দুই ভাই। এরা দুইজনই বিএনপি ক্যাডার ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারের আপন ভাগিনা। এরা দুই ভাই-ই খোকন রাজাকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহযোগিতা করেছেন। তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট মহিউদ্দিন খোকনের খুনিও এরা দুই ভাই। এই মহিউদ্দিন খোকনের কবরে ফুল দিতে ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ফরিদপুরে এসেছিলেন আপনিও। একসময় বিএনপি ক্যাডার হিসেবে বাস প্রতি দুই টাকা চাঁদা তুলতেন বলে ওই দুই ভাইকে অনেকেই বলেন দুই টাকার দুই টোকাই! রুবেল আবার ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দখলদার সভাপতি! এরা দুই ভাই এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। তারা দুই ভাই অবশ্য অতি সম্প্রতি বলে বেড়ান, তাদের নামে থাকা সকল অর্থ-সম্পদের মালিক আসলে তারা নন, সবকিছুরই মালিক একজন ভাইজান!

এএইচএম ফুয়াদ, সাবেক মন্ত্রী মশাররফ হোসেন এমপির এপিএস। ফরিদপুরের নগরকান্দার বিলনালিয়ার দুর্ধর্ষ রাজাকার মোজাহার চোকদারের ছেলে এই ফুয়াদ মন্ত্রী নামের এক পরশপাথরের ছোঁয়ায় এখন হাজার কোটি টাকার মালিক!

আরিফুর রহমান দোলন, পেশায় সাংবাদিক। বিএনপি জামায়াতের আমলে তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী কামাল ইউসুফের ভাতিজি জামাই। তার পরিচিতিও ছিল বিএনপি জামায়াত ঘরানার সাংবাদিক হিসেবেই। বিএনপি ঘরানার এক শিক্ষক নেতার সাথে ছিল তার দারুণ দহরম-মহরম। জনশ্রুতি আছে, তারা তখন মিলেমিশে কামাই রোজগার করতেনও নাকি বেশ! আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুনছি, দোলন নাকি মন্ত্রী মোশাররফের ভাগিনি জামাই! আওয়ামীলীগের দুই মেয়াদে মোশাররফ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রী ছিলেন। ওই দুই মেয়াদেই মন্ত্রীর অলিখিত পরামর্শক ছিলেন জামাই আরিফুর রহমান দোলন! তিনি নিয়মিত অফিস করেছেন শ্বশুর মন্ত্রীর পাশের কক্ষে বসেই! মন্ত্রীর পাশের রুমে তাকে কেন অফিস করতে হয়, এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি কখনো! এখন তিনি প্রাডো গাড়ি হাকান, প্রাডো চাপা দিয়ে মানুষ মারেন, বিচার হয় না! হাজার কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের মালিক এখন এই সাংবাদিক সাহেব! এমনও শোনা যায়, সাবেক এক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তিনিই পরিচালনা করতেন!

আপা,
এদের নিয়ে আমার মাথা ব্যথার কারণ প্রথমত আপনি ও আপনার ক্লিন ইমেজ। এদের কোনও অপকর্ম পরোক্ষে যদি আপনাকে ছুঁয়ে যায়, মহা-সর্বনাশ হবে আমাদের, বাংলাদেশের! দ্বিতীয় কারণটি আমি নিজেই। আমার বাবা কাকা দাদুর রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশে আমি কাউকেই লুটপাট চালাতে দিতে পারি না!

শ্রদ্ধেয় আপা,
সবশেষে আপনার কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন কেন মক্কায় ওমরাহ্‌ পালনে ওই চার বিতর্কিত ব্যক্তিকেই সহযাত্রী করলেন? মক্কায় সঙ্গী হওয়ার মতো আপন ভাই কিংবা সন্তান কি তার নেই? নাকি খোন্দকার মোশাররফ ইচ্ছে করেই বিতর্ক উস্কে দিতে ওদেরকে সহযাত্রী করেছেন! কেননা তাকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হলে তো তার কিংবা তাদের কোনও ক্ষতি নেই, ক্ষতি কিংবা সর্বনাশ তো হবে আপনার, আমাদের ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের!