ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

প্রচ্ছদ » মুক্তিযুদ্ধ » বিস্তারিত

১৬ মে, ১৯৭১

পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্নকারীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত মুসলমান ভাইয়েরা ঘরে ফিরবে না

২০১৯ মে ১৬ ০০:০৫:৩২
পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্নকারীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত মুসলমান ভাইয়েরা ঘরে ফিরবে না

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ডেস্ক :চুনারুঘাট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে তেলিয়াপাড়ার কাছে ক্যাপ্টেন মতিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর সৈন্যদের এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে পাকবাহিনীর একটি গাড়ি ধ্বংস হয় এবং অনেক পাকসেনা হতাহত হয়।

মুক্তিবাহিনীর যুব শিবির কর্মসূচির সূত্রপাত হয়। এর আগে যোদ্ধা নিয়োগ সম্পর্কিত কোনো নীতিমালা ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা নিজেরাই প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠিত করে।

রাজশাহীতে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ওপর আকস্মিক আক্রমণ চালায়। এ সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ২৫ জন সামরিক শিক্ষার্থী নিহত হয়।

চট্টগ্রাম মুসলিম হলে সিরাত সম্মেলনের শেষ দিনে সিরাত সম্মেলনের অজুহাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বাধীনতা-বিরোধী ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল চৌধুরী রহমত এলাহী বলেন, পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্নকারীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত মুসলমান ভাইয়েরা ঘরে ফিরবে না। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম চৌধুরী।

পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী নারায়নগঞ্জ ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। তিনি দুষ্কুতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা)কঠোর হস্তে দমনের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। পরে নিয়াজী ঢাকার কয়েকটি অঞ্চলও পরিদর্শন করেন।

ঢাকায় ৫৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক,কলেজ শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পী এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, গত মার্চে দেশের প্রতিষ্ঠিত বৈধ সরকারকে অমান্য করার কাজ পুরোদমে চলছিলো। নির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ম্যান্ডেট পেয়ে চরমপন্থীরা স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবিতে সম্প্রসারিত ও রূপায়িত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলো। যারাই জনতার অর্পিত আস্থার প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতায় অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে তাদের ওপর দুর্দিন নেমে এসেছিল। এ সময় ব্যাপকভাবে শিক্ষা অঙ্গনকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কাজে অপব্যবহার করা হতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে বাংলাদেশ মুক্তি ফৌজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সমরাস্ত্রের গোপন ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের শাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের অভাব-অভিযোগ রয়েছে। আমাদের এই অসন্তোষ আমরা প্রকাশ করেছি একই রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ব্যাপক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ভোট দিয়ে। কিন্তু আওয়ামী লগের চরমপন্থীরা এই সহজ সরল আইনসঙ্গত দাবিকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবিতে রূপান্তরিত করায়আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা কখনও এটি চাইনি, ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ হয়েছি। পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু প্রদেশ হিসেবে সারা পাকিস্তানকে শাসন করারঅধিকার আমাদের আছে। আর তা আমাদের আয়ত্বের মধ্যেই এসে গিয়েছিল। কিন্তু ঠিক তখনই চরমপন্থীরা জাতীয় অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুললো। নেমে এলা জাতীয় দুর্যোগ। কিন্তু আমাদের ভবিষৎ সম্পর্কে আশাবাদী হবার সঙ্গত কারণ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত বর্তমান সরকার অবস্থা অনুকূল হবার সাথে সাথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। এ অবস্থায় আমরা আমাদের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে কোনো রকম হস্তক্ষেপের বিরোধিতা ও নিন্দা করছি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন: ড. সাজ্জাদ হোসেন, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, মীর ফখরুজ্জামান, ড. কাজী দীন মোহাম্মদ, নূরুল মোমেন, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব, খান আতাউর রহমান, আশকার ইবনে শাইখ, ড. মোহ আলী, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, মুনির চৌধুরী, এ. এইচ. চৌধুরী, আবদুল্লাহইউসুফ ইমাম, শাহনাজ বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, আবদুল আলিম, খন্দকার ফরিুক আহমদ, এম.এ. হামিদ, নীনা হামিদ, লায়লা আর্জুমান্দ বানু, শামসুল হুদাচৌধুরী, বেদারুদ্দিন আহমদ, সাবিনা ইয়াসমিন, ফেরদ্যেসী রহমান, মোস্তফা জামান আব্বাসী, সরদার জয়েনউদ্দীন, সৈয়দ মুরতাজা আলী, কবি তালিম হোসেন, শাহেদ আলী, কবি আবদুস সাত্তার, ফররুখ সিয়ার, কবি ফররুখ আহমদ, সম্পাদক আবদুস সালাম, সম্পাদকবদরুদ্দিন, সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন, ফতেহ লোহানী, হেমায়েত হোসেন, বি রহমান, মবজুলুল হোসেন, আকবর উদ্দিন, এ.এফ.এম আবদুল হক, অধ্যক্ষ এ.কিউ.এম আদমউদ্দিন, আলী মনসুর, কাজী আফসারউদ্দিন আহমদ, সানাউল্লাহ নূরী, সামশুল হক, সরদার ফজলুল করিম, বদিউজ্জামান, শফিক কবির, ফওজিয়া খান ও লতিফা চৌধুরী।


তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
(ওএস/এএস/মে ১৬,২০১৯)