ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত

একটি বেঞ্চের বিচারপতিদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

২০১৯ মে ১৬ ১৪:০৮:৩৫
একটি বেঞ্চের বিচারপতিদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ন্যাশনাল ব্যাংকের অর্থ ঋণ সংক্রান্ত এক রিট মামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে ডিক্রি জারির মাধ্যমে রায় দিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের বিরুদ্ধে। এ জন্য এই বেঞ্চের বিচারপতিদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আপিল বিভাগে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই প্রশ্ন তোলেন। সেই সঙ্গে ওই রায় বাতিল করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে, ওই মামলায় হাইকোর্টে রিটকারীকে এক কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

তবে, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা ওই বেঞ্চের বিচারপতিদের নাম উল্লেখ করেননি আদালত।

জানা গেছে, ওই রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

আজ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কত টাকার বিনিময়ে এই রায় হয়েছে? আমাদের তা জানান। এমন আদেশ হাইকোর্ট দিতে পারেন না। এটা নজিরবিহীন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

আজ আদালতে রিটকারী মিজানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাবেক আইনজীবী শফিক আহমেদ। ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ মজুমদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফএম হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল ও এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন।

শুনানির সময় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফএম হাসান আরিফ, ফিদা এম কামালসহ অন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

অনৈতিকভাবে রায় প্রদানকারী বেঞ্চের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা।

এরপর ঋণ সংক্রান্ত এই মামলায় হাইকোর্ট ও বিচারিক আদালতের সব রায় বাতিল ঘোষণা করেন আদালত এবং রিটকারীকে এক কোটি টাকা জরিমানা করে আদেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, একটি মামলার শুনানি সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের কাছে একটা বক্তব্য রাখলেন।

তখন অর্ডার হয়েছিল হাইকোর্ট বিভাগে। যেটার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, হাইকোর্টের ওই রায়ে যারা ওই বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে (১৬ সংশোধনীর রায়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বাতিল হয়ে যাওয়ার) শব্দটি তিনি ব্যবহার করেননি। তবে, তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি পাঠানো যেতে পারে।

তিনি জানান, সেখানে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি এবং আরও দুজন ও বারের সভাপতি ছিলেন। আমরা সবাই এটার সমর্থন জানিয়েছি। এটার ব্যাপারে আপিল বিভাগও সংক্ষুব্ধ। এ ধরনের রায়ে আদালতের মর্যাদা ব্যাহত হয়, ক্ষুণ্ন হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আদালতের কাছে আবেদন রেখেছি, বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে হোক বা আদালত যেভাবে বিবেচনা করে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু এটি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। দ্বৈত বেঞ্চের আদেশটা যৌথ আদেশ। সুতরাং যদি কোনো দায় দায়িত্ব থাকে, এটা যৌথ দায় দায়িত্ব। সেজন্য যদি কোনো পদক্ষেপ নিয়ে নেন। তাহলে দ্বৈত বেঞ্চে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেই।

(ওএস/এসপি/মে ১৬, ২০১৯)