ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

কারাগারেও অগ্নিখেলা !

২০১৯ মে ২৭ ১৬:২৬:০২
কারাগারেও অগ্নিখেলা !

রহিম আব্দুর রহিম


সম্প্রতি অগ্নিদগ্ধে জীবন্ত মানুষ হত্যা, আত্মহত্যা, আগুন নিয়ে তামাশা বা অগ্নিখেলা করার মত ঘটনার সংবাদ পত্র-পত্রিকায়, অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হচ্ছে। সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে,‘ কারাগারও অনিরাপদ !’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। লেখাটি পঞ্চগড় জেলা কারাগারে অগ্নি দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পলাশ কুমার রায়কে নিয়ে। লেখক তাঁর মানবিক বোধ ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই লেখাটি লেখেছেন। তাকে ধন্যবাদ এই বলে যে, পৃথিবীর সকল মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। একজন অভিযুক্ত আসামীর জান-মালের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। জেলখানায় আটক কোন ব্যক্তিকে কেউ হত্যা করতে পারে না। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’ স্লোগানে পরিচালিত রাষ্ট্রের এই সেবা প্রতিষ্ঠানের অন্তঃমহলে কাউকে নিরাপত্তাহীনতায় রাখার সুযোগ নেই। এরপরও শিরোনামটি ‘কারাগারও অনিরাপদ!’ হয়েছে।

হওয়ার কারণটির উদ্ভব ঘটেছে ১৯৭৫ সনে ৩রা নভেম্বর। তৎকালীন অবৈধ মোস্তাক আহম্মেদ এর সরকার আমলে পৃথিবীর সকল আইন কানুন, নিয়ম শৃঙ্খলাকে পাঁয়ে মাড়িয়ে জেলে হত্যা করা হয়েছিল জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর এবং এইচ এম কামরুজ্জামানকে। যে দিনটিকে এই সভ্য পৃথিবীর একমাত্র আওয়ামীলীগ সরকার জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। পঞ্চগড়ে কারাগরে পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যু ঘটনাটিকে রিটকারী আইনজীবী ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের সাথে তুলনা করে বিভিন্ন চ্যানেলে মতামত দিয়েছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

১৯৭৫ এর জেল হত্যা আর পঞ্চগড় কারাগারে পলাশ রায়ের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা আকাশ পাতাল তফাৎ। তবে পলাশ রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এখনো যার রেশ কাটেনি। ঘটনা এ বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। দীর্ঘদিন পর এই নিয়ে লেখা কতটা যৌক্তিক বা সম-সাময়িক তা নিয়ে হয়তো পাঠক সমাজে ভাবনা থাকতেই পারে। তবে আমি আমার দায়বদ্ধতা থেকেই মৃত্যু যেন অপমৃত্যু না হয় কিংবা অপমৃত্যু যেন কাউকে কষ্ট বা বিপদে না ফেলে এ জন্যই আমার এই লেখা।

পলাশ রায়ের মৃত্যুকে নিয়ে পঞ্চগড়ের সাংবাদিকরা তেমন কিছু লেখেনি, কারণ হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবীর আবেদনে বর্ণিত অভিযোগ, পলাশ রায়ের গ্রেপ্তার কাহিনী, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর পশাশ রায়ের দেওয়া জবান বন্দী এবং বাস্তবতার মধ্যে যে ফাঁক-ফোঁকর, ঘটনা-রটনা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে করে একজন সাংবাদিক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যেই পড়ার কথা। ঘটনা হতে পারে, আত্মহত্যা, হতে পারে অগ্নিদগ্ধে মেরে ফেলার মতো ন্যাক্করজনক ঘটনা বা অগ্নিখেলা। পলাশ রায় অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিষয়টি যথেষ্ট হাস্যকর। অথচ স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে এ যাবৎ তথ্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশ করা সাংবাদিকদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

তবে বিবেকতাড়িত মানবাধিকার কর্মী, লেখকরা যার যার অবস্থান থেকে মন্তব্য বিশ্লেষণ করে যাচ্ছে। পলাশ রায়ের জীবন,কর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং তার আচার-আচরণ, প্রভাব-প্রতাপ সম্পর্কে যে তথ্য মিলেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখায় পলাশ রায় আত্মহত্যা করেছে, না কেউ তাকে গায়ে আগুন দিয়ে মেরে ফেলেছে? তা তদন্ত সাপেক্ষে বিচার্য। পলাশ রায়ের হাজত বাস, রাজনীতি, আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ-দখল, পারিবারিক অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে যে তথ্য মিলেছে তা একে বারেই কম নয়। পলাশ রায় পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারি উপজেলার বর্ষালুপাড়ার বড় সিঙ্গীয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধা প্রনব কুমার রায়, মারা গেছেন। মা মিরা রাণী বিগত টার্মে আটোয়ারি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মৃত পলাশ রায় পঞ্চগড় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। কর্মজীবনে পলাশ রায় কোহিনূর নামক একটি উৎপাদককারী প্রতিষ্ঠানে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই কোম্পানি কোন এক সময় তার বিরুদ্ধে ৩১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর মামলা দায়ের করে ।

পরে পলাশ কুমার রায় এই মামলায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকা ছেড়ে জন্মস্থান পঞ্চগড় চলে আসে। পলাশ রায় মুক্তিযোদ্বা সন্তান, তার মা মিরা রাণী রায় আটোয়ারি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং তার পুরো পরিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের দলীয় ঘরনার হওয়ায় পঞ্চগড় পুলিশ প্রশাসন এই ফেরারি আসামির ধারে কাছেই আসতে পারেনি। পলাশ কুমার রায় বিগত ২০১৭ সালের ১৬ই মে মঙ্গলবার পঞ্চগড়ে এক তোলপাড় কান্ড ঘটিয়ে জেলায় পরিচিত হয়ে উঠে। চর্ম রোগে আক্রান্ত পলাশ রায় প্রথমে সংবাদ শিরোনামে আসে ওই দিনই । ২০১৭ খ্রি: ১৬ মে, “The report 24.com” নামে একটি অনলাইনে আপলোড করা একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল, ‘চিকিৎসা না পেয়ে সিভিল সার্জেনের বাসার সামনে অবস্থান।’ সংবাদ শিরোনামের বডিতে উল্লেখ্য ছিলো,‘পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে এবং সকলের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে সিভিল সার্জনের বাস ভবনের সামনে প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছেন পলাশ কুমার রায় (৩৫) নামের এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার ১৬মে দুপুরে হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি পঞ্চগড় শহরে সিভিল সার্জনের বাস ভবনের সামনে শুড়ে পড়ে এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। এ সময় উৎসুক জনতার ভীড়ে কিছুক্ষণের জন্য পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। প্রতিবাদ অবস্থানকালে পলাশ কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সোরিয়াসিস নামের এক প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ দিন আগে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। এই ৪ দিনে হাসপাতালের কোন ডাক্তার আমার চিকিৎসা করেন নি, দু একবার খোঁজ খরব নিয়েছে মাত্র। পরে আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি। উপর মহলে যোগাযোগের খবরটি চিকিৎসকরা জানতে পারলে মঙ্গলবার সকালে আমাকে জোর কারে ছাড়পত্র দড়িয়ে দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তাই আমি পঞ্চগড়ের একজন বাসিন্দা হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকার সঠিক চিকিৎসা সেবার দাবিতে এই অবস্থায় কর্মসূচী পালন করেছি।’

এই সময় তিনি আরও বলেন,‘৪ দিন ধরে হাসপাতালে আছি, এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, নিম্ন মানের খাবার পরিবেশনসহ অপরিষ্কার টয়লেটগুলোর একটা দরজাতেও কোন সিটকারী নেই।’ প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থানের পর স্থানীয়রা তাকে পুনরায় চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. পিতম্বর রায় বলেছেন, পলাশ চন্দ্র রায়ের সম্ভবত মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া আমাদের হাসপাতালে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। তাকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।’ এই সময়েই পলাশ রায়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে যায়। সাধারণের দাবি নিয়ে করা আন্দোলনে পলাশ রায় সবার পরিচিত মুখ। সিভিল সার্জন পলাশ রায়কে মানসিক রোগী হিসেবে সন্দেহ করায়, সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে নাজেহাল হন তৎকালীন ডা. পীতম্বর বাবু, ওই সময়ের পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডলও বিব্রতকর অবস্থায় পরেন।

পলাশ কুমার রায়ের দ্বিতীয় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের ঘটনা ২৫ শে মাচর্, সোমবার, ২০১৯। ওই দিন পলাশ রায় তার বিরুদ্ধে কোহিনুর কোম্পানীর অর্থ আত্মৎসাতের মামলাটি মিথ্যা, এই মামলা গ্রত্যাহারের দাবিতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি প্রদান শেষে পঞ্চগড় শহরে সড়ক অবরোধ করে মানব বন্ধন করছিল। মানববন্ধনে ভাষণ প্রদানকালে পলাশ রায় একপর্যায় জামায়াত ও বিএনপিকে স্বাক্ষী রেখে বলতে থাকে, ‘এই মিথ্যা মামলায় যদি আমার কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয় তার দায়-দায়িত্ব শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।’ এক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে অশ্লীল বেফাঁস কথাবার্তা শুরু করলে উপস্থিত জনমানুষের একাংশ পলাশ রায়কে মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করে থানা হাজতে নিয়ে যায়। ওই দিনই পঞ্চগড়ের স্থানীয় এক ব্যক্তি পলাশ রায়ের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করে।পুলিশ পলাশ রায়কে পরের দিন ২৬ মার্চ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। জেল হাজতে গিয়ে পলাশ রায় অসুস্থ হয়ে পড়লে জেল কর্তৃপক্ষ কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন।

‘পঞ্চগড় কারাগার’ নামক ফেইসবুক পেইজে দেখা গেছে পলাশ রায় কারাগারে নববর্ষ উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। এব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পলাশ রায় অত্যন্ত ভদ্র আচরণের সাধারণ হাজতি ছিলেন, তিনি প্রতিভার অধিকারীও বটে। জেলখানার সার্বিক অবস্থা নিয়ে তাঁর লেখা কবিতা জেলখানায় অনুষ্ঠিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তবে পলাশ রায় কি রোগ হলে সার্বক্ষনিক কারা হাসপাতালে থাকা যায় সে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন। কারাকর্তৃপক্ষ জটিল কোন রোগ ব্যধি না থাকলে কারা হাসপাতালে থাকার কোন বিধান নেই বলে জানিয়ে দেন। তারপরও পলাশ রায়, দুই পর্যায়ে কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

কারা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পলাশ রায়ের আচার-আচরণ কখনো খারাপ ছিলো না তবে অসুস্থতা দেখিয়ে মাঝে মাঝে কারাগার হাসপাতালে থাকার আবেদন করেছেন। মানবিক কারণে জেল কতৃপক্ষ তার আবেদন রেখেছে। হাজত বাসের এক পর্যায়ে ঢাকা আদালত থেকে পঞ্চগড় জেল কতৃপক্ষের কাছে একটি পত্র আসে, যে পত্রে উল্লেখ্য করা হয় পলাশ রায় কোহিনুর কোম্পানীর করা একটি মামলায় আসামী, তাকে ২৮ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালতে হাজির হতে হবে। অপর দিকে পঞ্চগড় থানায় করা মামলায় ২৯ এপ্রিল পঞ্চগড় আদালতে পলাশ রায়ের হাজিরা রয়েছে। ২৮ তারিখে ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে হলে তাকে ২৬ তারিখ দিনে অথবা ওই রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠাতে হবে। আবার ঢাকা ২৮ তারিখে হাজিরা শেষে ওই রাতেই পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে ঢাকার আদালত ত্যাগ করতে হবে। এ ধরনের জরুরী শিডিউল পঞ্চগড় কারা কতৃপক্ষকে বেকায়দায় ফেলে। এরপরও কারাকর্তৃপক্ষ ২৬ এপ্রিল পলাশ রায়কে ঢাকা আদালতে হাজির করানোর জন্য পুলিশ পাঠানোর আবেদন করে। ২৬ এপ্রিল পলাশকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে এ তথ্য তাকে আগেই জানানো হয়। ২৬ এপ্রিল বিকেল ৩টায় পুলিশ পলাশকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অফিসিয়াল প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় পলাশ রায় বাথরুমে গেলে তার শরীরে আগুন লেগে যায়। অগ্নিদগ্ধ পলাশ রায় কে প্রথমে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ৩০ শে এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশ রায় মারা যায়। পলাশ রায়ের মৃত্যুর পর সায়েদুল হক সুমন নামের এক আইনজীবী বাদি হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত ৮ মে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগ, পলাশ রায়ের শরীরে কে একজন টাইগারের বোতল থেকে দাহ্য পদার্থ গাঁয়ে ছিটিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে (মৃতকালে পলাশের জবানবন্দি অনুযায়ী)। প্রশ্ন উঠেছে, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী কারাগারে দাহ্য পদার্থ কিভাবে ঢুকলো? জেলকোড অনুযায়ী একজন আসামী প্রতিদিন ৮টি বিড়ি অথবা সিগারেট পান করতে পারবে। যে কারণে হাজতি বা কয়েদিরা ম্যাচ বা গ্যাসলাইট ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে থাকে। পলাশ রায়ের গাঁয়ে যদি কেউ আগুন দিয়ে থাকে, তাকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি সর্ব মহলের; আর যদি তা না হয়ে, কোন আগুন খেলা বা পুড়ে যাওয়া রোগীর ঢাকা যাওয়া সম্ভব না, এধরনের নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে কিনা? তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব তদন্ত কমিটির উপরই বর্তায়।

আমাদের দা্বি, তদন্ত শেষে যৌক্তিক প্রতিবেদন জনসম্মুক্ষে প্রকাশ হোক। আমরা নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি। রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকান্ডের উদ্ধার তৎপরতায় গুরুতর আহত ফায়ারম্যান সোহেল রানার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। একইভাবে আমাদের অবস্থান আত্মহত্যা বা আগুন নিয়ে খেলারও বিরুদ্ধে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামনিস্ট ও নাট্যাকার।