ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

রংপুরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

২০১৯ জুন ১১ ২১:৫৯:১০
রংপুরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। এতে করে বিচলিত হয়ে পড়েছন গ্রাম গঞ্জের সাধারণ মানুষ। সব’চে বেশি বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। শুধুমাত্র গত মে মাসেই রংপুরে গড়ে একজন করে ৫ বছর বয়সের শিশুসহ মোট ১৪ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৫ জন। একই মাসে জেলায় খুন হয়েছেন ৭জন। এর মধ্যে জেলায় ৫ এবং মেট্রোপলিটনে ২জন। এই তথ্য মিলেছে খোদ জেলা প্রশাসনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সভাতেই। তবে বেসরকারীভাবে এর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেই সচতেন মহলের ধারণা। তবে গত এক মাসে জেলা ও মহানগরীতে ট্রফিক পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কিংবা যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসা না করে কোন উপায় নেই। ঈদের অনেক আগে থেকেই ট্রাফিক পুলিশের এই দলটি ভাল ভূমিকা রেখেছে জেলার যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে।


আর গত কয়েক মাসে জেলাজুড়ে আশংকাজনকভাবে বেড়েছে জুয়ার আড্ডা। বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেটে বাজি রেখে জুয়া খেলা চলছে যত্রতত্র। জেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকার অলিতে গলিতে পুলিশের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে এই জুয়ার আসর। এতে করে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু কওে বয়স্করাও বসছে এই জুয়ার আসরে। কিন্তু জনবলের অভাব নাকি অজ্ঞাত রহস্যে এসব বন্ধ করাতো দুরের কথা, ধমক দিয়েও থামানো হচ্ছে না এসব। এছাড়া জেলায় বন্ধ হচেছ না চুরি ছিনতাই ডাকাতি ও রাহাজানির ঘটনা।

সভায় দেয়া তথ্য মতে, মে মাসে রংপুর জেলায় খুন হয়েছে ৫টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ২জন মিলে ৭জন। জেলার ৮ উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬জন মিলে ১৪ জন। গত মাসে জেলা ও মেট্রেপলিটন এলকায় মাদকদ্রব্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে মোট ১৪২টি। জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় চুরি সংগীঠত হয়েছে ৬টি। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে প্রায় আড়াইশ’টি। অপরাধ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অন্যসব সময়ের চেয়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে বেশি। তবে গত এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে চুরি কমেছে। মে মাসে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে মোট অভিযান পরিচালিত হয়েছে ২২৮টি। এরমধ্যে মেট্রো পুলিশ ৬৭টি, জেলা পুলিশ ৪৭টি,র‌্যাব ৬টি, চোরাচালান প্রতিরোধ ৬টি, এবং জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ১০১টি অভিযান পরিচালনা করেন। এব অভিযানে মামলা হয়েছে ১৪৯টি এবং গ্রেফতার হয়েছে ১৭১জন। অন্যদিকে র‌্যাব পুলিশের দল ভিজিএফের চাল চুরি করে বিক্রির সময় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারসহ প্রায় ৮’শ বস্তা চাল উদ্ধার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রসহ রংপুরের ৪ তালিকাভূক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। তবে তারপরও সচেতন নগরবাসী মনে করেন, জেলায় পুলিশের জনবল বাড়ানো দরকার এবং তা হলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।

(ওএস/পিএস/১১ জুন, ২০১৯)