ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রচ্ছদ » মুক্তিযুদ্ধ » বিস্তারিত

২ জুলাই, ১৯৭১

‘বাংলাদেশ থেকে পাকসেনা খতম করে তবে থামব’

২০১৯ জুলাই ০২ ০০:০৭:২৮
‘বাংলাদেশ থেকে পাকসেনা খতম করে তবে থামব’

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ডেস্ক :মোঃ হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল কুমিল্লার লাটুমুড়ায় পাকহাদারদের অবস্থানের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর ১২ জন সৈন্য নিহত ও ৪ জন আহত হয়।

জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদল পাকিস্তানি পুলিশ ও রেঞ্জারদের অবস্থান মতলব থানা আক্রমণ করে। এতে ৫ জন পুলিশ নিহত ও ৭ জন আহত হয়। অপরদিকে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।

সুনামগঞ্জ শহরের কাছে মুক্তিবাহিনীর একটি দল পাকবাহিনীর একটি টহলদার দলের ওপর আক্রমণ চালায়। মুক্তিবাহিনী এই অতর্কিত আক্রমণে পাকসেনাদের পুরো দল নিশ্চিহ্ন হয়।

সিনেটর চার্লস এ্যাথিয়ান ও সিনেটর বেডফোর্ড মোর্সে পাকিস্তানে নতুন করে সমরাস্ত্র সরবরাহের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ এবং মঞ্জুরীকৃত লাইসেন্স বাতিল জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উভয় পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মুক্তিফৌজ নেতা মেজর কালেদ মোশারফ বৃটিশ টেলিভিশন রিপোর্টারদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশে একটি লোক ও জীবিত থাকা পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে। বাংলাদেশ থেকে পাকসেনা খতম করে তবে থামব। নিজ পরিবার সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অন্যান্য বহু পরিবারের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা আমি নিজের চোখেই দেখেছি। নিজের কথা চিন্তা করার অধিকার এখন আর আমার নেই। বাংলাদেশই আমার পরিবার।

ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ৪শ’ ৪৬ জন।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সুযোগ করে দেয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান কমনওয়েলথের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।

পাকিস্তান সরকার বাণিজ্য সংক্রান্ত ছাড়া সকল প্রকার বেসরকারী পর্যায়ের বিদেশ ভ্রমন বন্ধ করে দেয়।

সিরিয়া ও গাম্বিয়া পাকিস্তানের অখন্ডতার সপক্ষে তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা ঘোষণা করে।

তাহরিক-ই-ইশতেকলাল পার্টি প্রধান এয়ার মার্শাল (অবঃ) আসগর খান সপ্তাহব্যাপী সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বলেন, পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য আগামী তিনমাস সঙ্কটপূর্ণ। সরকারকে জনগণের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মিটিয়ে দিতে হবে। কে সরকার গঠন করবে তা বড় সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আদৌ কোনো সরকার গঠন করা যাবে কিনা এবং দেশের গণতন্ত্র টিকবে কি না।

আখাউড়ায় স্বাধীনতা বিরোধীদের এক সভায় জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক বলেন, ‘তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা দুষ্কৃতকারীরা দেশকে ধ্বংস করতে চায়। এরা ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুস্তানের প্রচারণা ও কুমতলবে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ এনেছে।’

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

(ওএস/এএস/জুলাই ০২, ২০১৯)