ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

প্রচ্ছদ » আনন্দ বেলা » বিস্তারিত

নমিতা সরকার’র একগুচ্ছ ছড়া

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৬:৫৭:৩২
নমিতা সরকার’র একগুচ্ছ ছড়া







ক্ষুধার্ত

মেটাতে ক্ষুধার জ্বালা
দেহ পুরে করে কালা
তবুও পায়না অন্ন।
অলিতে গলিতে ঘোরে
ফুটপাতে ঘুমিয়ে পরে
সবার কাছে তারা ঘৃণ্য।।
আকুতি মিনতি করে
দাও কিছু টাকা মোরে
লেগেছে বড্ড ক্ষুধা।
করুণা হয়না কারো
ধনীর অহংকার বরো
পায়না কারো স্নেহের সুধা।।
বলে ওহে বড়বাবু
ক্ষুধায় হয়েছি কাবু
দাও নাগো একটি কাজ।
বড়বাবু ক্রোধে বলে
সরে যা দূরে চলে
নেইকি তোর কোনো লাজ?
অলিতে গলিতে ঘোরে
বোতল কুড়িয়ে বস্তা ভরে
শোনে কত জনের কত কথা।
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসে
ধুকে ধুকে দীর্ঘশ্বাসে
লুকিয়ে রাখে শত ব্যথা।।
শহরে কত অট্টালিকা
ধনীদের কত টাকা
দুটাকা দেয়না তারে।
কেঁদে কেঁদে ঘোরে ফেরে
মানুষের দ্বারে দ্বারে
বিনিময়ে লাথি ঝাটা মারে।।
ধনীরা করে আরাম আয়েশ
খায় বিরিয়ানি পায়েস
বেশী হলে ফেলে ডাস্টবিন।
জোটেনা অন্ন দুঃখির
টোকাই বা রাস্তার ফকির
অনাহারে তাদের যায় দিন।।
মুখে বলে বড় কথা
বুঝে নাকি দুঃখির ব্যথা
সত্যিই কি বাস্তব?
আহারে বেচারা
ক্ষুধায় দিশেহারা
মানুষ বড্ড আজব।।
এটাই কি মানুষের নীতি
এটাই কি সহানুভূতি
এটাই কি বিবেকবোধ?
মরে গেছে মানবিকতা
মরে গেছে মায়ামমতা
এটাই কি মূল্যবোধ?

পুষ্প

পুষ্প প্রস্ফুটিত হয়
দিন ও রজনীতে,
পুষ্প দিয়ে পুষ্পাণ্জ্ঞলি দেয়
শ্রীপ্রভুর চরনেতে।
পুষ্প বড় সৌভাগ্যবতী
অপূর্ব রূপের সৃষ্টি,
সৌন্দর্য গন্ধ মধুরতা দেখে
ফেরেনা চোখের দৃষ্টি।
পুষ্পে পুষ্পে ঘুরে অলি
মধু করিতে পান,
প্রেমিক প্রেমিকা পুষ্প দিয়ে
করে ভালোবাসা আদান প্রদান।
পুষ্প দিয়ে সুসজ্জিত করে
বিয়ের আসর বাসর,
ময়ূর ময়ূরী লুটিয়ে পরে
পুষ্প সজ্জার উপর।
বাগবাগিচা বনলতার মাঝে
ছাদে কিংবা উঠানে,
রং বাহারি সৌন্দর্য নিয়ে
প্রস্ফুটিত হয় ঘ্রাণে।
জানাতে শহীদের বিনম্র শ্রদ্ধা
অর্পন করে শতশত পুষ্পতোরা,
মান্যগন্য ব্যক্তি যারা
সম্মানিত করে তাদের পুষ্প দ্বারা।
পুষ্পে মধু পুষ্পে শোভা
পুষ্পে আছে ঘ্রাণ,
পুষ্প স্পর্শে জাগে ভালবাসা
ভরে হৃদয় মন প্রাণ।
পুষ্প শোভা পায়
নারীর খোপাতে,
বন্ধনের সূত্রে জরায়
নর নারীর গলাতে।
পুষ্প অতি পবিত্র
পুষ্প মধুময়,
সকল শুভ কর্ম
পুষ্প দ্বারা হয়।
পুষ্পে পুষ্পে সজ্জিত
সারা বিশ্বময়,
অকারনে ছিরে তবু
পুষ্প তোমার হৃদয়।

সমুদ্র সৈকত

ছন্দে ছন্দে উত্তাল তরঙ্গে
বহে সমুদ্র স্রোত,
দেশ দেশান্তর থেকে
পর্যটক আসে সমুদ্র সৈকত।
আনন্দ উল্লাসে ভাসে মন
জল তরঙ্গের শব্দে,
উত্তাল হাওয়ার স্পর্শতায়
হৃদয় নাচে ছন্দে।
সমুদ্র সৈকতে প্রেমের অাবেশে
ঘুরছে কত নর নারী,
রঙ্গ রসে অঙ্গ ভঙ্গিতে
তুলে ফটো কত বাহারি।
বন্ধুরা সবে মিলে অাসে
কেউ পরিবার নিয়ে,
কেউ অাসে হানিমুনে
দূর দূরান্ত পারি দিয়ে।
মুগ্ধ হয় মন প্রাণ
সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যে,
উত্তাল উর্মি উল্লাসে ভেসে
সৈকতের নীরে মিশে।
বিশাল নীল গগনের নীচে
বিস্তীর্ণ জল তরঙ্গের মেলা,
হাওয়ায় হাওয়ায় হৃদয় নাচে
জাগে প্রেমের দোলা।
উথালী পাথালি মন
ভেজাই অঙ্গ জলের ছটায়,
হৈ- হুল্লরে আত্মহারা
প্রেমের অনুভুতিতে মন মাতায়।
ঝিনুক পরে থাকে
বালিকনার মাঝে,
সেই ঝিনুকের ভিতর
মুক্ত সবাই খুঁজে।
শঙ্খ কিনে ঝিনুক কিনে
কিনে মুক্তার মালা,
হৈ- হুল্লর খুশীর মাঝে
নেমে আসে গোধুলি বেলা।
গোধুলি লগনে সূর্য অস্ত
লাগে খুব মিষ্টি,
বিশ্বের সেরা সমুদ্র সৈকত
নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সৃষ্টি।