ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

প্রচ্ছদ » মুক্তিযুদ্ধ » বিস্তারিত

২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মস্কো রওয়ানা হন

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৪:০৩:৫৫
ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মস্কো রওয়ানা হন

উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ডেস্ক: মুক্তিবাহিনীর গেরিলা দল পাকসেনাদের একটি দলকে মাগুলা বাজার থেকে রসদ নিয়ে দোহার থানার ক্যাম্পে যাবার পথে আক্রমণ করে। এই আক্রমণে ১৪ জন পাকসেনা নিহত ও ৮ জন আহত হয়। গেরিলা যোদ্ধারা পাকসেনাদের সমস্ত রসদ দখল করে।

৪নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি দলকে রসদ নিয়ে বড়াইল ক্যাম্পের দিকে যাবার পথে এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে ২ জন পাকসেনা নিহত হয়।

মুক্তিবাহিনী মর্টারের সাহায্যে নওয়াবগঞ্জ থানার পাকসেনাদের রামচন্দ্রপুর ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ৭ জন সেনা নিহত হয়।

৬নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী কমান্ডার মোত্তালিব ও কমান্ডার এস.এম. ফারুকের নেতৃত্বে হিলিতে পাকসেনাদের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়। আড়াই ঘন্টা ব্যাপী এই যুদ্ধে ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়। অপরদিকে মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধা কমান্ডার মোত্তালিব মর্টারের গুলিতে আহত হন।

মুক্তিবাহিনী ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় পাকসেনাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ২ জন সৈন্য নিহত হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য তিনদিনের সরকারী সফরে মস্কো রওয়ানা হন।

পাকবাহিনী ৪টি লঞ্চে করে নবাবগঞ্জের দিকে অগ্রসর হলে ৫০ জন গেরিলার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধা দল গালিমপুরের কাছে লঞ্চগুলোকে আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনসহ ৩৫ জন সৈন্য নিহত এবং অনেক আহত হয়। বাকী পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতাকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে ভারতে অবস্থানকারী শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আওয়ামী লীগের সাথে একটি মীমাংসায় আসার জন্য পাকিস্তানিদের প্রাত আহ্বান জানান।

মওলানা এম.এম.মান্নানের নেতৃত্বে মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির একটিপ্রতিনিধিদল ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লে: জেনারেল নিয়াজীর সাথে দেখা করেন। সাক্ষাতে মওলানা মান্নান বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষকরা লে: জেনারেল নিয়াজীকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
তিনি লে: জেনারেল নিয়াজীকে একখানা কোরাআন শরিফ উপহার দিয়ে তাঁকে আশ্বাস দেন ওলেমা ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাষ্ট্রবিরোধীদের উৎখাতের ব্যাপারে সেনাবাহিনী সাহায্য করতে প্রস্তুত।


তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

(ওএস/অ/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯)