ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি

২০১৯ অক্টোবর ০৪ ১৬:২০:২১
ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের দাবি জানিয়েছে পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। এই অমানবিক শ্রমকে চিরতরে বিলীন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়ম-নীতি প্রণয়নের কথাও জানায় সংগঠনটি।

শুক্রবার বিশ্ব প্রাণী দিবস- ২০১৯ উদযাপনের দিন নির্যাতিত প্রাণি বিশেষ করে ঘোড়া ও ঘোড়ার শ্রমের ওপর প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯ অনুযায়ী নীতিমালা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। এ সময় তারা মোট ১০টি দাবি জানায়।

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, ‘ঘোড়ার গাড়ি ও ঘোড়ার শ্রম অনেক দিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যের নামে একটি অমানবিক চর্চা। আমাদের শহর ও গ্রামে ঘোড়া দিয়ে অধিক যাত্রী, মালামাল বহন, অসুস্থ-আহত অবস্থায় গাড়ি টানানো, চিকিৎসার অভাব, অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেয়া, বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত আস্তাবল না থাকা– এমন নানা রকম নির্যাতনের চিত্র আমরা দেখতে পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘোড়ার গাড়ি বা ঘোড়ার শ্রমকে বন্ধ করলে শত শত ঘোড়াকে কীভাবে পুনর্বাসন করা হবে এবং এর সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর বিকল্প জীবিকা কী হবে? ঘোড়ার শ্রম সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নজরদারিতে আনা জরুরি এবং একটি নিয়ম-নীতির কাছে দায়বদ্ধ করা দরকার। একই সাথে ঢাকা শহরের মতো একটি যান্ত্রিক নগরে মোটরগাড়ির সঙ্গে এই পুরনো পেশিশক্তির বাহন কতটা যৌক্তিক, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।’

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্রমজীবী ঘোড়ার শ্রমকে আইনের নজরদারিতে আনা, নতুন করে ঘোড়ার গাড়ির প্রস্তুতি ও পরিচালনা বন্ধ করা, প্রজননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার উৎপাদন প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯ এর আওতায় আনা, ঘোড়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসক ও উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা না করে ঘোড়া ব্যবহার বন্ধ করা, শ্রমজীবী ঘোড়া অসুস্থ বা বয়স হয়ে অবসরে গেলে পুনর্বাসনের দায় ঠিক করা, শহর ও পর্যটন এলাকায় অসুস্থ ঘোড়াকে অযত্নে রাস্তায় ছেড়ে দিলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব নেয়া, প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯ অনুযায়ী পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাণিদের কল্যাণে দ্রুত বিধিমালা তৈরি করা, দেশের প্রতিটি ঘোড়া প্রজনন কেন্দ্র ও শ্রমিক ঘোড়াকে তালিকাভুক্ত করে স্বাস্থ্য সনদের ব্যবস্থা করা, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অদীনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণী অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা এবং মনিটরিং কমিটির স্বচ্ছতার জন্য সমাজে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা।

(ওএস/এসপি/অক্টোবর ০৪, ২০১৯)