ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

আখ চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার যুবলীগ নেতা

২০১৯ অক্টোবর ০৪ ১৭:২১:৫৮
আখ চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার যুবলীগ নেতা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা :আখ চুরি করতে যেয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এক মাদকাসক্ত যুবলীগ নেতা। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বাজে খোরদো গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গণপিটুনির শিকার যুবলীগ নেতার নাম মাহাবুবর রহমান (২৮)। তিনি কলারোয়া উপজেলার বাজে খোরদো গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ও খোরদো ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

বাজে খোরদো গ্রামের গোলাম রব্বানী ওরফে ঘেদু গাজীর ছেলে আ: রউফ জানান, কয়েক বছর মালয়েশিয়ায় কাটিয়ে সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। গ্রামে কয়েক বিঘা জমি কিনে আখ চাষ শুরু করেন তিনি।আখের ক্ষেত পাহারা দেওয়ার জন্য একহাজার টাকা মাসিক বেতনে রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে নিয়োগ করেন।বুধবার গভীর রাতে মাদক সেবন করে মাহাবুব তার ক্ষেতে খেতে আখ চুরি করতে যায়। জানতে পেরে পাহারাদার রফিক চিৎকার করলে গ্রামবাসি এসে মাহাবুবকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে সে কোন রকমে বাড়ি ফিরে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরে সাক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। বৃহস্পিতিবার স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান মফে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশি বৈঠক করেন কিন্তু মাহাবুবের লোকজন সালিম না মেনে নিজের অপরাধ ঢাকতে সে তাকে ও রফিকের নামে থানায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করে।

খোরদো গ্রামের নিত্যরঞ্জন সরকার, বাজে খোরদো গ্রামের মিল্টন, দলুইপুরের আব্দুল কুদ্দুস, রিপন, খোরদোর মাসুমসহ কয়েকজন জানান, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবর রহমান একজন সবজী বিক্রেতা। তিনি বর্তমানে ইয়াবা সেবন করে থাকেন। এলাকার বহু মানুষকে তিনি প্রতারণা করেছেন। মাদকের টাকা যোগাড় করতে না পেরে তিনি বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকেন। কিছুদিন ধরে ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে বাজে খোরদো গ্রামের রব্বানী গাজীর ছেলে আব্দুর রউফ ও রফিক গাজীর খেতের আখ চুরির অভিযোগ রয়েছে। আত্মীয়তার সুবাদে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের নাম ভাঙিয়ে সে এসব অপকর্ম করে রেহাই পেয়ে যায়।

জানতে চাইলে মাহাবুবর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান তার আত্মীয় ঠিকই। কিন্তু তার পরিচয় বহন করে অপকর্মের অভিযোগ ঠিক নয়। রফিক ও রউফ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তাকে মারপিট করেছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির উল গিয়াস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ০৪, ২০১৯)