ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

বন্ধুর নাম ঘুম

২০২০ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৬:৫২:১৯
বন্ধুর নাম ঘুম

স্বাস্থ্য : অনেক রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কাজ এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যস্ত থাকার ফলে ঘুম কমে গেছে অনেকেরই। ফলে বাড়ছে রোগ। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা কম ঘুমায় কিংবা যারা বেশি ঘুমায় তারা নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এমনকি মোটাও হয়ে যেতে পারেন কম ঘুমানোর ফলে। মোটের ওপর অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুম প্রত্যেকের প্রয়োজন। জেনে নেওয়া যাক কম ঘুমের জন্য শরীরে কী কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বৃদ্ধি করে

উচ্চ রক্তচাপ ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। নীরবে উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ জন্যই উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত এবং চিকিৎসাবিহীন উচ্চ রক্তচাপ থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম হলে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। চিকিত্সকদের মতে আমরা না ঘুমালে আমাদের শরীরের ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার টেনশনের মতো সমস্যা।

হার্টের সমস্যা বৃদ্ধি করে

আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হৃদযন্ত্র। যতদিন হৃদপিণ্ড সচল আছে ততদিন আমরাও সুস্থ আছি। কিন্তু হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলেই বিপদ। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালী কিছুটা হলেও বিশ্রাম পায়। কিন্তু ঘুম না হলে বা কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। এর ফলে হার্টের সমস্যা বাড়তে থাকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়

ডায়াবেটিস হলে কিডনি রোগ, চোখের রোগ, হার্টের সমস্যা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে এসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হৃদযন্ত্রের বড় সমস্যা বা অন্ধত্ব পর্যন্ত গড়াতে পারে। দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যহত হয়। যার ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে

মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং কোন উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেটি নিয়ে নানামুখী গবেষণা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে অল্প অসুস্থতাতেও মানুষ খুব সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগের আক্রমণও জোরালো হয়। ঘুম মূলত আমাদের শরীরের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি উপায়। যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অরগানিজম’ (Living organisms) কাজ করতে থাকে। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়

মানসিক স্বাস্থ্যের দরুন একজন মানুষ সেই ক্ষমতা অর্জন করে, যা তাকে নিজের সঙ্গে এবং তার চারপাশে থাকা অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হতে বা একাত্ম হতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই দক্ষতার জোরে মানুষ তার জীবনের নানাবিধ চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়। মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা কমতে থাকে। মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম না পেলে অতিরিক্ত বিষণ্ণতা, হ্যালুসিনেশনের, স্মৃতিভ্রংশের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে দিনে নিজের বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও লোপ পেতে পারে।

হজমের সমস্যা বৃদ্ধি করে

কম খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব, অত্যধিক ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত মদ খাওয়া, মানসিক চাপ এবং পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে হজমের সমস্যার জন্য যে বিষয়টিকে দায়ী করা হয় তা হলো ঘুমের ঘাটতি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বাড়তে পারে হজমের সমস্যাও। আমরা না ঘুমালে আমাদের শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলি উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণে বাধা পায়। তাই হজমের নানা সমস্যা শুরু হয়।

(ওএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০)