ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬

প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত

কানেকটিকাটের ড্যানবুরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী

২০২০ মার্চ ০৭ ১৭:১০:৫৬
কানেকটিকাটের ড্যানবুরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী

প্রবাস ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীকে সনাক্ত করেছে ড্যানবুরি হাসপাতাল। এ খবর নিশ্চিত করেছেন রাজ্য গভর্ণর নেড ল্যামন্ট। ড্যানবুরি হাসপাতাল প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা কেরি ইটনের ধারনা ড্যানবুরি অথবা নরওয়াক হাসপাতালে কোন কর্মচারির নিকট থেকে সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সে নিউ ইয়র্কের ওয়েসচেস্টার কাউন্টির বাসিন্দা। খবর বাংলা প্রেস।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এ যাবত ৪২ জন রোগিকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের কারো কাছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের নমুনা মেলেনি। তবে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরো ২০০ জন রোগির শরীরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদের দেহের নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাজ্য গভর্ণর নেড ল্যামন্ট।

কানেকটিকাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ জার্সি ও নিউ হ্যাম্পশয়ার অঙ্গরাজ্যেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগির সন্ধান পেয়েছেন রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতির খামতি লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নার্সদের বড় ইউনিয়নের স্বাস্থ্যবিধি বিশেষজ্ঞ জেন টমসন বলেছেন, ‘আমাদের দেশের বেশির ভাগ হাসপাতাল কোভিড–১৯ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত নয়।’

ন্যাশনালে নার্সেস ইউনাইটেডের পরিচালক বনি ক্যাস্টিলো বলেছেন, নার্সদের করোনা নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীরও অভাব আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের প্রকোপের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চীন থেকে শুরু হওয়া এর প্রাণঘাতী ভাইরাস ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়েছে। কিন্তু এসব দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরাই বলছেন, তাঁদের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শেয়ারবাজারগুলোর অবস্থা নাজুক। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষ মারা গেছে। বিশ্বের ৮৫টি দেশের প্রায় এক লাখ মানুষ এখন করোনায় আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়, পর্যটন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা—সবকিছুতেই একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি শিক্ষার্থী এখন স্কুল ছেড়ে বাড়িতে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রস্ততি নিয়ে তাদের অভিযোগ জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি বলেছেন, অনেকে দেশেরই করোনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে। সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাডানম ঘেবরিয়াসাস জানান, এটা হেলাফেলার বিষয় না। এখন আড়মোগড়া ঝেড়ে সক্রিয় হওয়ার সময়। কোনো অজুহাত এ সময় দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

টেড্রোস অ্যাডানম ঘেবরিয়াসাস জানান, সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে ফেলার সময় এসেছে।

(পিআর/এসপি/মার্চ ০৭, ২০২০)