ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত

করোনা সতর্কতা : খাবারে যেসব পরিবর্তন আনা জরুরি

২০২০ জুন ২২ ১৫:৫০:১৩
করোনা সতর্কতা : খাবারে যেসব পরিবর্তন আনা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : করোনাভাইরাস এসে বদলে দিয়েছে আমাদের পরিচিত পৃথিবী। জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ধাপে এসেছে পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি এসেছে সম্ভবত খাবারের ক্ষেত্রে। এখন আমরা এমন অনেক খাবার খাচ্ছি যা উপকারী জানা সত্ত্বেও খাওয়ার ব্যাপারে আগে উদাসীন ছিলাম। এখন সুস্থ থাকার জন্য সেসব খাবার প্রাধান্য পাচ্ছে তালিকায়। শুধু স্বাদের কথা না ভেবে শরীরের উপকারিতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সঠিক পুষ্টির অভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে না। তাই করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হলে খাবারে আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। এমনটাই জানাচ্ছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

* আগে যেমন মাঝে মাঝে বেনিয়ম চলতো, এখন সেসব না করাই ভালো। যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে চলুন।

* সকালে উঠে ক্ষুধা লাগুক বা না লাগুক খেয়ে ফেলতে হবে। খেতে হবে ৩ ঘণ্টা পরপরর, দিনের কোনো খাবার বাদ দেয়া যাবে না। একদিন ব্রেকফাস্ট না করলে কিছু হবে না, এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়ে, ওজনও আয়ত্তে থাকে।

* যত ক্ষুধা লাগুক, পেট খানিকটা খালি রেখে খান। পানির বোতল সঙ্গে রাখুন। মাঝেমধ্যে চুমুক দিন।

* রাতের খাবার যত হালকা হয় তত ভালো। শুতে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে খান। খাওয়ার পর একটু পায়চারি করুন। ওজন যাতে না বাড়ে সে দিকে খেয়াল রাখুন। তবে ক্র্যাশ ডায়েট করে নয়।

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন পুষ্টিকর খাবার বা ভেষজ খান নিয়মিত।

* শান্ত হয়ে বসে, ভালো করে চিবিয়ে, মন দিয়ে খান। একে বলে মাইন্ডফুল ইটিং। এভাবে খেলে হজম ভালো হয়। খাবারের পুষ্টি ভাল ভাবে শোষিত হয় শরীরে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

যেসব খাবার যোগ করবেন:

* সকালে খালিপেটে খান হলুদ দুধ। গরুর দুধে বা আমন্ড দুধে এক চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, আধ চামচ দারচিনির গুঁড়া, সিকি চামচ গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে বানান। সুগার না থাকলে মধু মেশাতে পারেন। এরপর আধঘণ্টা কিছু খাবেন না।

* সকালে চা-এর বদলে আয়ুর্বেদিক ক্বাথ খেতে পারেন। তুলসি, আদা ও মধু দিয়ে বা তুলসি, আদার সঙ্গে গোলমরিচ, দারুচিনি, কিশমিশ, মধু ও লেবুর রস দিয়ে বানাতে পারেন। নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়বে, বাড়বে হজমশক্তি। গলায়ও আরাম হবে।

* সকালে এমন খাবার খান যাতে কোনো অস্বাস্থ্যকর উপাদান নেই। গম ও ছোলা শুকনো খোলায় ভেজে তাতে মেশান ওটস ও বার্লি। তার পর মিক্সিতে গুঁড়ো করে দুধ বা পানি দিয়ে ফুটিয়ে ফল মিশিয়ে খান। আমন্ড দুধে কাঁচা হলুদ, ওটস ও মধু মিশিয়ে পরিজ বানাতে পারেন।

* দুপুরে ভাতের সঙ্গে কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচ বাটা খান। ডাল-সবজির সঙ্গে খান লেবু বা খাওয়ার পর কোনো টক ফল খান।

* লেবু দিয়ে ধনেপাতা বা পুদিনার চাটনি বা ১৫ মিলি আমলকির রস খেতে পারেন।

* রান্নায় সব ধরনের মশলা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করুন। যেমন, ধনে, জিরে, হলুদ, গোলমরিচ, আদা, রসুন, মেথি, কালোজিরা।

* ইমিউনিটি বাড়ে এমন একটি মশলা বানিয়ে রাখুন। ৩ চামচ করে জিরা, ধনে, ৬ চামচ মেথি ও এক চামচ গোলমরিচ শুকনো খোলায় ভেজে, গুঁড়া করে নিন। তাতে মেশান এক চামচ আদার গুঁড়া, ৬ চামচ হলুদ গুঁড়া ও সিকি চামচ দারুচিনির গুঁড়া। যেকোনো রান্নায় মেশানোর আগে এক চামচ ঘি অল্প গরম করে তাতে এক চামচ মশলা দিয়ে নেড়ে নিন। ভাত, সেদ্ধ সবজি, ডাল, স্যুপ সবকিছুতে মেশাতে পারেন।

(ওএস/এসপি/জুন ২২, ২০২০)