ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রচ্ছদ » শিল্প-সাহিত্য » বিস্তারিত

আগমনী চক্রবর্তী’র দুটি কবিতা 

২০২০ জুন ২৬ ১৪:৩৩:৫০
আগমনী চক্রবর্তী’র দুটি কবিতা 







প্রিয়ন্তীকা

প্রিয়ন্তীকা, তুমি অভিসারিকার বেশে
এসেছিলে সেদিন, এলোচুলে
বাহির আঙ্গিনাতে ।
তোমার ঠোঁটে, গালে, কপালে
ঝির ঝির বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এলোচুল !!
বিধাতা বড় যত্ন করে গড়েছেন তোমায়।
বলতে পারো কার অভিসারিকা তুমি?

নীলোৎপল উৎসর্গ করতে চেয়েছিলাম তোমাকে,
আমি দেবো বলে অমনি মুখ ফিরিয়ে নিলে।
.......পছন্দ নয় বুঝি?
রংধনুর সবকটা রংকে হার মানিয়েছো তুমি,
রঙের যাদুকর তুমি, রং নিয়ে খেলা কর,
সারা অঙ্গে রং মেখে--- মাখিয়ে দাও আমাকেও।
আমি উদ্ভ্রান্ত এক রঙিন ফানুস হয়ে যাই।
বাতাসে ভেসে আসে কামিনী, বেলি ফুলের মত
সুতীব্র তোমার কেশের গন্ধ;
মনে বাজে তোমার চলার রিমঝিম ছন্দ ।

তাই তো পথ চেয়ে থাকি প্রিয়ন্তীকা, তোমার।
এ তোমার চতুরতা নয়,....... অসীম ভালোবাসা।
যার ছোঁয়ায় আছে দিগন্ত- বিস্তৃত
উদার আকাশ, ধূসর মরু -প্রান্তর
অথবা সাগরের বিশালতা ।
তাই বুঝি কাক ডাকা ভোরে, স্বর্নাভ সকালে,
কিংবা উদাস দুপুরে,
তোমার আলিঙ্গন করা দুটি হাতে
জড়িয়ে রাখো প্রকৃতিকে।

আমি বিমুগ্ধ কবি, আপন মনে ভাবি
তোমার সদ্যস্নাত মোহনীয়তা,
আবার কখনো তোমার
প্রার্থনার নিবিষ্টতা ।
তোমার হরিণী চোখের অপলক দৃষ্টি,যেন প্রশ্ন বিধূর ।
দূর- সীমান্তের কাছাকাছি
অকুতোভয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা।
প্রশ্নে বিধ্বস্ত হই আমি ।
কোনোমতে জোড়াতালি দেওয়া হৃদয়ে
শুরু হয় কম্পন ।
" শুক্লা- দ্বাদশীর চাঁদ কেমন লাগে ?",
বলেছিলে একদিন... আমি তখন বলেছিলাম,
লাগে বেশ, কিন্তু তোমার চেয়ে বেশি নয় ।"
অরণ্যের সবুজ, দুরন্ত প্রজাপতির বর্ণিল রং
চাঁদের কিরণ, জোছনার শুভ্রতা সব দিয়ে
সাজিয়েছ তোমার হৃদির বরণ ডালা।
তাইতো অপেক্ষায় থাকি, প্রিয়ন্তীকা...
কখন আসবে অভিসারিকা হয়ে,
এলোচুলে বাহির আঙ্গিনায় ?
তোমার হৃদয়-পট পূজিব আমি,
আমার হৃদয় -মন্দিরের প্রেমার্ঘ্য দিয়ে ।

বীভৎস করোনা

"কোভিড - 19"
কী স্মার্ট নাম!
মানুষ খেকো মৃত্যুর লাল -নিশান।
তার অঙ্গে, চলনে -বলনে, অঘটন - ঘটন পটিয়সী...
ধূপছায়া, ধুম্রজাল ।
ডাক্তার - নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, দেশের সৈনিক দল,
সোনার দেশের সোনার ছেলেদের জীবন হলো নিশ্চল।
তবুও গেলনা মহামারী করোনা...
আর কত যাবে প্রাণ?
সাহিত্য বেকার, বিজ্ঞান স্তম্ভিত, কৃষিও হতচকিত ।
বিশ্বগ্রাসী করোনা বিশ্ব আজ,
" কে নেবে আমাদের বাঁচানোর গুরুভার? "
অর্থনীতির চাকা এখন ঘুরছে উল্টোপথে,
কলের মানুষ বানিয়ে করোনা খেলছে আপন রথে।
করোনা যুদ্ধে বাঁচানোর লড়াইয়ে
কত জ্ঞানী - গুণী - বিশেষজ্ঞ দিশেহারা,
সাধারণও আজ পথভোলা।
অস্ত্রবিহীন এ কোন সমর -- যাবে কী কখনও ভোলা?
মৃত্যু -মিছিলে বুক ফাটছে, মুখ ফুটছে না আর;
কত অভাগী মা সন্তান হারিয়ে
রিক্ত - নিঃস্ব আজ।
সারাজীবন সঙ্গী থেকেও লাশ যদি হয় করোনায়,
⁰ ধরা যাবেনা, ছোঁয়া যাবেনা -- এ কোন অন্তরায়?
পি.পি.ই পরা বাবার বুকে
পলিথিনে মোড়ানো সন্তান,
ব্যর্থ চুম্বনে জানিয়ে দিলো
হাহাকার ভরা এ প্রাণ।
আশাবাদী মানুষ নিরাশায় মরে -
সব আশা ভেঙ্গে চুরমার,
নিস্ফল হলো ভালোবাসার মন্ত্র
জয়ী হলো জ্বালাময়ী করোনার বাহক, মৃত্যুজাল।
যুদ্ধের দামামা, মেঘের বাজ,
ছাপিয়ে আওয়াজ ;
নিভৃতে প্রাণ নিয়ে খেলছে করোনা
জুয়ারীর বেশে, করছে বাজিমাত।
ঘর থেকে বেরুলেই বন্দী মুখ - এ কোন নির্যাতন?!
অশীতিপর বৃদ্ধের বুকেও বাজে করোনা মৃত্যু-শেল।
এমন সময় তথ্য প্রযুক্তি টিকিয়ে রেখেছে বিশ্ব,
প্রযুক্তি ছাড়া না জানি করোনা
হতো আরও কত বীভৎস !!

স্কুলের ঘণ্টা বাজুক আবার - মুখরিত বিদ্যাঙ্গন,
উত্তাল -যৌবনে আন্দোলিত হোক
কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিস্রাবক তরুণ দল।
প্রিয়তমা স্ত্রী নিরালায় কাঁদে , বাতায়নও পাশে বসি ,
স্বামী হারানোর কঠিন বেদনা চেপে;
মনে মনে ভাবে.....
" সংহাররুপী করোনা, একটু করো করুণা! "
যুদ্ধ করি মোরা ভালোবাসা দিয়ে,
হৃদয় উজাড় করে বাঁচি একসাথে...
মানবতার মহান মন্ত্র তাই শিখিয়েছে মোদের।
নিয়তির বিধান খন্ডানো দায়,
আমরা মানুষ নিরুপায়;
আত্মযুদ্ধে বাঁচার লড়াই,
এই নিয়েই মোরা আছি সবাই।
হে নটরাজ, স্রষ্টা,
আমাদের বিশ্ব, আগের বিশ্ব, ফিরিয়ে দাও নবসাজে....
অদৃশ্য অণুজীব করোনার আতঙ্ক
যখন সবার বক্ষমাঝে ।।

কবি : প্রভাষক (বাংলা), চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, চাটমোহর, পাবনা।