ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শাস্তির দাবি স্থানীয়দের

মা-বাবা ভাই-বোনকে হারিয়ে আরেক মায়ের কোলে শিশু মারিয়া

২০২০ অক্টোবর ১৭ ২৩:০৯:৫৫
মা-বাবা ভাই-বোনকে হারিয়ে আরেক মায়ের কোলে শিশু মারিয়া

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : গর্ভধারিনী মায়ের কোল হারা চার মাসের শিশু মারিয়া আরেক মায়ের মুখের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকছে। সে হাসছে, কাঁদছে, আবার সব কথা কান পেতে বেশ শুনছে। শুধু সে জানেনা সে হারিয়েছে তার জন্মদাতা বাবা ও মাকে। আরও এক ভাই এক বোনকে হারিয়ে সে এখন সর্বস্বহারা।

বৃহস্পতিবার ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলসি গ্রামের একই পরিবারের চার খুন ঘটনার পর শিশু মারিয়াকে ঘাতকরা নিহত মা ও ভাইবোনের পাশে রেখে যায়। সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে জিম্মায় দেন। এরপর থেকে সদস্য নাসিমা খাতুন মাতৃমমতা ও উষ্ণ আদর স্নেহে তাকে লালন করছেন। তবে মারিয়ার বাবা, মা ও ভাইবোনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন স্থানীয়রা।

হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন বলেন, তিনি শিশুটিকে লালন করার সুযোগ পেয়ে কৃতার্থ হয়েছেন। তার হেফাজতে যতদিন থাকবে ততদিন ধরে আমি তাকে তিল তিল করে গড়ে তুলবেন। তিনি ও তার পরিবারের সব সদস্য শিশুটিকে আনায় দারুন খুশী। মারিয়া তার কোলে পিঠে হাসছে, কঁদছে। কান খাড়া করে সবই শুনছে। মা হারা অবুঝ শিশু সন্তানটি এখন তার নিজের বলে গর্ব বোধ করছেন। মারিয়াকে নিয়ে খুশী তার স্বামী ও সন্তানরা।

গ্রামের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজনও শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছে । তারা তার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন।
খলসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হায়দার আলি বলেন ‘ শিশুটির বাবাকে আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। সে চলে গেছে। এখন শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। আমরাও এতিম শিশুটির দেখভাল করছি’।

একই গ্রামের গৃহবধু শাহানারা খাতুন বলেন,শাহীনুর ও তার ভাইরা ভাল মানুষ। যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। একমাত্র শিশু মারিয়া যেন ভাল থাকে তার জন্য সকলে দোয়া করবেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে কলারোয়ার নির্বাহী অফিসারও শিশুটির দেখভাল করছেন।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন ‘শিশুটিকে ইউপি সদস্যের হেফাজতে রেখে দেখভাল করছি। তার জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনে দিয়েছি। তার স্বাস্থ্য সেবারও ব্যবস্থা করেছি’।

কলারোয়ার ফোর মার্ডার মামলার তদন্ত ভার নিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন ‘আমরা আইনগত বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি শিশুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তাকে দেখভাল করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে’।

শিশুটির দায়িত্ব নিতে পেরে জেলা প্রশাসকও গর্ব বোধ করছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন ‘শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই আমার মনে ভেসে উঠছে চারখুনের নৃশংসতা। শিশুটি যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে আমি সে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। আপাততঃ তাকে কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রেখেছি এবং তার খোঁজখবর নিচ্ছি’।

এদিকে খলসি গ্রামের গৃহকর্তা শাহিনুর তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন দুই শিশু সন্তান সিয়াম হোসেন মাহি ও তাসমিন সুলতানাকে জবাই করে হত্যার পর পুরো বাড়ি জুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। কৌতুহলী মানুষ এখনও আসছে। তারা চোখের পানি ফেলছেন।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ১৭, ২০২০)