ঢাকা, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

র‌্যাব সোর্স এর আড়াই লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা

খলিশাখালির ভূমিহীন পল্লীতে অস্ত্র রেখে র‌্যাব দিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ ভূমিদস্যুদের 

২০২২ জানুয়ারি ০২ ১৯:১২:৫৭
খলিশাখালির ভূমিহীন পল্লীতে অস্ত্র রেখে র‌্যাব দিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ ভূমিদস্যুদের 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ভূমিহীন জনপদে অস্ত্র ও মাদক রেখে ভুমিহীনদের উৎখাত করতে অগ্রিম দেওয়া টাকা ফিরিয়ে না দেওয়ায় র‌্যাব সোর্স ওয়ালিউল্লাহ এর আড়াই লক্ষাধিক টাকা ও মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালির কথিত জমির মালিকরা। এ ঘটনায় ওয়ালিউল্লাহ বাদি হয়ে চারজনকে আসামী করে গত বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বচারক সুবর্ণা পাল আদেশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামীরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার সখীপুর গ্রামের রাজাউল্বলাহ সরদারের ছেলে আলম, একই গ্রামের ফজর গাজীর ছেলে রাশেদ গাজী, আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে আজগার আলী ও একই উপজেলার গোদাড়া গ্রামের এসএম মহিউদ্দিনের ছেলে তাজমীর হোসেন।

শনিবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলা গোদাড়া গ্রামের কথিত সাংবাদিক মহিউদ্দিনের বাড়িতে বসে এক প্রেস ব্রিফিং এ দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে ওয়ালিউল্লাহ,একই গ্রামের জিয়াদ আলীর চেলে আল আমিন ও একই উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের ছকির আলী পাড়ের ছেলে আবু মুছা জানান, তারা সাংবাদিক মহিউদ্দিনের সাথে র‌্যাব এর সোর্স হিসেবে ২০১০ সাল থেকে কাজ করছেন। সম্প্রতি ভূমিহীনরা উচ্চ আদালতের রায় দেখে খলিষাখালির স্বাধীনতার পরোবর্তী সময়ে চণ্ডী চরণ ঘোষের ফেলে যাওয়া ১৩০০ বিঘা জমি খাস হিসেবে বসবাস শুরু করে। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দখলে রাখা ওই জমি উদ্ধারে কথিত ভূমির মালিক সখীপুরের ডাঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আনারুল ইসলাম, পারুলিয়ার রফিকুল হাজী, রেজাউল ইসলাম, আব্দুল মাজেদসহ কয়েকজন চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দিতে না পেরে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়ে সুবধিা না হওয়ায় তারা ভূমিহীন জনপদে অবৈধভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ, মাদক রেখে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে ডাঃ নজরুল ইসলামসহ ওই কথিত ভূমিদস্যুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। র‌্যাব দিয়ে অভিযান চালানোর অংশ হিসেবে তাদেরকে কিছু টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়।

বিষয়টি তারা সাংবাদিক মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ও নিজেরা মোবাইলে র‌্যাব- সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। সে অনুযায়ি গত ২৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা কুলিয়া ব্রীজের কাছে আসা মাত্র ডাঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আনারুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব এর সোর্স গোদাড়ার তাজমীর দূর থেকে তাদের তিনজনকে ডেকে দু’টি পিস্তল, একটি বড় পাইপ গান, কয়েকটি বোমা, ইয়াবা, চাপাতি ও দাসহ একটি ব্যাগ তাদের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করে। ভূমিহীন জনপদে ওই ব্যাগ রাখার পর সেখানে আরো অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে তাদেরকে জানায় ওই ভূমিদস্যুরা। এ ধরণের সাজানো ঘটনায় কাউকে ফাঁসানো যাবেনা মহিউদ্দিন সাংবাদিকের পরামর্শে তারা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ওই ভূমিদস্যুরা অস্ত্র ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে সখীপুর মোড়ে র‌্যাব সদস্যরা এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যান। এরপর ডাঃ নজরুলসহ ভূমিদস্যুরা তাদেরকে জীবননাশের হুমকি দেন।

ওয়ালিউল্লাহ জানান, তিনি সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য জগন্নাথপুরের আবু মুছার সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিবদ্ধ হন। সে অনুযায়ি ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে তিনি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে মোটর সাইকেলে সখীপুরে যাওয়ার সময় হাজী কেয়ামুদ্দিন মহিলা কলেজের সামনে ডাঃ নজরুল ইসলাম ও কাজী গোলাম ওয়ারেশসহ খলিষাখালির কথিত জমির মালিক দাবিবারদের কাছের লোক বলে পরিচিত দেবহাটা উপজেলার সখীপুর গ্রামের আলম, একই গ্রামের রাশেদ গাজী, বড়দল গ্রামের আজগার আলী ও গোদাড়া গ্রামের তাজমীর হোসেন তার মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে । পরে তাকে বিল, চড় ও ঘুষি মেরে কাছে থাকা দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা ও নাম্বার বিহীন প্লাটিনা মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার আগে ছিনতাইকারিরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে খুন করার হুমকি দিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের ব্যাপারে থানা মামলা না নেওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি থানায় মামলা করেছেন। প্রয়োজনে তারা ভূমিহীনদের অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা জানতে ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের শরনাপন্ন হবেন।

জানতে চাইলে এনজিও কর্মী ডাঃ নজরুল ইসলাম রবিবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে জানান, ওয়ালিউল্লাহসহ যারা এ ধরণের অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে খুলনা র‌্যাব-৬ এর অধিনায়কের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ওবায়দুল্লাহ এর আদালতে দায়েরকৃত মামলার কপি ও বিচারকের আদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ০২, ২০২২)