ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » ঘুরে এলাম » বিস্তারিত

রণকাইলের পদ্ম ও শাপলার বিলে একদিন

২০২২ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৬:৩০:৫৮
রণকাইলের পদ্ম ও শাপলার বিলে একদিন

মো. শাহীন সরদার


ফরিদপুর জেলার পল্লী কবি জসিমউদদীনের বাড়ী থেকে প্রায় ১৮ কি.মি দূরে রণকাইল গ্রাম। রাস্তার দু’পাশে গ্রাম তার দুপাশে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ। যেখানে কৃষকের ঘামে সোনা ফলে। সোনালি আঁশ ও পিঁয়াজে ভরে ওঠে দ’ুপাশের মাঠ। রণকাইল গ্রামের পূর্ব পাশে দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ যেন বিশাল মাঠের উত্তর ও দক্ষিণে নেমে পড়েছে। মাঠের উত্তর দিকে বিখ্যাত অচিন গাছ, দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন বটতলা যেখানে প্রতিবছর মাঘি পূর্নিমার দিনে মেলা বসে তারই মাঝে অবস্থিত একসাথে তিনটি হরাই, চাপাই ও রঘুয়ার বিল। বিলের চারপাশে পশ্চিমে রণকাইল; পূর্বে ভাবুকদিয়া ও জটারকান্দি; উত্তরে ফুরসা গ্রাম। বিল হলো এমন এক উন্মুক্ত জলরাশি যেখানে সারাবছর পানি থাকে বর্ষাকালে তা বিশালতা ধারণ করে। বর্ষাকালে রণকাইলের বিল তার বিশালতা ফিরে পায়, বৈচিত্রপূর্ণ দেশি মাছে ভরে ওঠে বিল। দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি এমনিতেই সৌন্দর্যপিপাসুদের হৃদয় আকৃষ্ট করে। এতে আরো নতুন মাত্রা যোগ করে বিলজুড়ে সাদা রঙে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় ফুল শাপলা, গোলাপী রঙের অপরুপ সৌন্দর্যের জলজ ফুলের রানি পদ্ম ফুল। এছাড়া আরো কচুরি ফুল, জানা অজানা বাহারি রঙের জলজ ফুল।

আমরা দুই ভাইবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বেশিরভাগ সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকা হয়। গ্রামে এলে বাড়ির সাথেই হওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সবসময়ই একবার ঢু মেরে যাওয়া হয়। এবারও নির্মল প্রকৃতির হাতছানিতে পরিবারের সাথে নৌকায় গিয়েছিলাম আমাদের রণকাইল গ্রামের হরাই ও চাপাই বিলের সৌন্দর্যে নিজেদের বিলিয়ে দিতে। দুই বলিইে ফুটছেে শাপলা ও পদ্ম ফুল । বিলে কাক ডাকা ভর দুপুরে চারপাশে মানুষ পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। চারপাশে পাট, পাটখড়ি শুকাতে দিছে, বিস্তৃর্ণ মাঠ, মাঠভরা বিস্তৃর্ণ জলরাশি, পানি ঢেউ খেলছে, বাতাস চুল উড়িয়ে নিচ্ছে বিলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলছে নৌকা। এ যেন পল্লী কবি জসিমউদদীনের এক অপরুপ পল্লী, জীবনানন্দ দাশের রুপসি বাংলার প্রতিচ্ছবি। চোখ জোড়ানো নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ। জোৎস্না রাতে নিরিবিলি বিলে পানির কলকাকলি, ফুলের সৌরভ, বাতাস আর চাঁদের সাথে সেই মিতালি জমে ওঠে এখানে। মুহুর্তেই মনে আনে প্রশান্তি, দূর করে সব ক্লান্তি অবসাদ।

ফরিদপুর জেলা শহর থেকে বাসে কানাইপুর নেমে এখান থেকে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করে রণকাইল গ্রামের যেতে পারবেন। ভাড়া লাগবে ফরিদপুর থেকে কানাইপুর ২০টাকা কানাইপুর থেকে রণকাইল ২০টাকা করে। রণকাইল সরদার বাড়ির পাশেই হরাই বিল। রণকাইল স্কুলের রা¯তা দিয়ে চাপাই বিল ও পাকুরপাড়া থেকে হরাই বিলের দিকে রাস্তা রয়েছে। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় জেলেদের নৌকা রয়েছে। কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন পর্যটকদের সুবিধা জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

রণকাইল গ্রামের মো. মুন্নু সরদার জানান, ধূলা-বালি আর ইট পাথুরের জীবন থেকে পরিবার নিয়ে কিছু ভালো মুহুর্ত কাটানোর জন্য এই বিল হতে পারে এক আদর্শ স্থান। স্বানীয় বিষ্ণু মাঝি বলেন, ছোটবেলা থেকেই এ বিলে বেড়ে ওঠা। একেক ঋতুতে একেক সাজে সজ্জিত হয় বিলটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্থানীয় জুলিয়া সুলতানা বলেন, প্রকৃতি যে কাউকে সহজে আকৃষ্ট করে। পড়ালেখা জন্য বাইরে থাকা হলেও বাড়ি এলে এখানে যাওয়া হয়। এত বড় মাঠ ও সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিল আমি কম দেখেছি।

(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২২)