ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » ঘুরে এলাম » বিস্তারিত

স্বপ্নের জগৎ স্বপ্নপুরী!

২০২২ নভেম্বর ০৪ ১৮:২৩:৪০
স্বপ্নের জগৎ স্বপ্নপুরী!

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : স্বপ্নের জগৎ অপূর্ব লীলা ভূমি দিনাজপুরের স্বপ্নপূরী। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পিকনিক স্পট বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী দিনদিন পর্যটক ও দর্শনপিপাসুদের অবকাশ কাটানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার আবতাবগঞ্জে অবস্থিত এটি।ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোরম পরিবেশে নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক অপূর্ব লীলা ভূমি বিনোদন জগত এই স্বপ্নপুরী। জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ হাটের স্বত্তাধীকারী প্রয়াত ডাঃ আফতাফ উদ্দীনের ছেলে সদ্য নির্বাচিত দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন ও প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন স্বপ্নপূরী। প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু’র ছেলে শিবলী সাদিক এখন এই (দিনাজপুর-৬) আসনের সংসদ সদস্য।

প্রথমে ১৯৮৯ সালে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে ১’শ একর জমির ওপর স্বপ্নপুরী নামক র্পযটন কন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এখনও চলছে এর র্কাযক্রম। নতুন নতুন দর্শনীয় স্থাপনা তৈরি চলছে নিয়মিত।বর্তমানে দিনাজপুর ৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো: শিবলি সাদিক এমপি'র অধীনে এটি চালু রয়েছে।

নামের সঙ্গে মিল রেখে সৌন্দর্য পিপাসী ও ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট স্বপপুরী।

দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে এর প্রবেশ দ্বারে, গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে মোহনীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে প্রস্তর নির্মিত ধবধবে সাদা ডানা মেলে দু’টি সুবিশাল পরী। স্বাগত জানাবে। কিছুদুর যেতেই ত্রিভুজ আকারের পুকুর, ১টি বশিাল মানব মূর্তি’র যাদুঘর, ১টি জীবন্ত প্রাণি’র চিড়িয়াখানা,১টি যাদুঘর, রয়েছে কৃর্তিম পশুর দুনিয়া। র্পযটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫০/৬০টি অভিজাত রেষ্ট হাউজ। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতি বছর স্বপ্নপূরীতে পরিবর্তন এবং নতুন নতুন সংযোজন করা হচ্ছে।

সেখানে রয়েছে দেশী বিদেশী বিভিন্ন পশু পাখীর অবিকল ভাস্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা, কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম এবং বিশাল লেক।আছে বাংলাদেশের সুবিশাল মানচিত্র, চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, দীঘিতে স্পিডবোট, ক্যাবল কার, ইলেকট্রিক দোলনা, নাগরদোলা। বিভিন্ন রাইডস, চিড়িয়াখানা, রেস্ট হাউজ, বাগান, হ্রদ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, 'রংধনু' আর্ট গ্যালারি, ভুতের বাড়ি, 'মহা মায়া ইন্দ্রজাল' নামে জাদুর গ্যালারী এবং পিকনিকের জন্য রয়েছে মনরম পরিবেশে জায়গা । ভি,আই,পি, রেস্ট হাউস ১৫টি, মধ্যম শ্রেণির ২০ টি এবং অন্যান্য ২৫ টি রেষ্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে আরও রেষ্ট হাউস নির্মাণসহ স্বপ্নপুরীর উন্নয়ন কাজ চলছে। কেবলকার, ঘোড়াগাড়ী, চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম মস্য জগত, রেষ্টুরেন্ট আছে। কৃত্রিম মাছ এবং বিভিন্ন প্রাণিদের সঙ্গে, বিশ্বকে খুঁজে পেতে পারবেন দর্শনাথীরা। বিনোদনের জন্য রয়েছে ছোট ছটো অনেক রাইডস।

প্রাণি জগতের, এমি, মোরাল, ডাইনোসর, কাব্যপ্রভাতিভা এবং অনেক অন্যান্য প্রাণির মতো হুবুহু কিছু প্রাণির কৃত্রিম মূর্তিও রয়েছে। ভাস্কর্য এবং চিত্রকলার বিভিন্ন ধরনের 'রংধনু' আর্ট গ্যালারি। পরিবারসহ কৃত্রিম ও প্রাাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে তার পুরো দিন ভোগ করতে পারবেন। রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় রেস্ট হাউস ও কটেজ। স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা বিশিষ্ট ফুলের বাগানগুলো সৃষ্টি করেছে স্বাপ্নিক আবহ।

দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের দুসপ্রাপ্য বৃক্ষও আছে এ বাগানে। আর্কষণীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করে এখানে অনেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। ‘‘রেলগাড়ী ঝমঝম পা পিছলে আলুর দম’’ এ এলাকায় রেল যোগাযোগ না থাকলেও বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে রেল লাইন। এই লাইন দিয়েই চলে বিনোদন রেল গাড়ীটা। নাই মাস্টার, নাই স্টেশন তবুও যাত্রীরা রেলগাড়ীতে একটু আনন্দ পাবার আশায় উঠছেন। পুকুরকে সমুদ্র মনে করে ওরা স্টিমারে উঠে এক প্রান্তর থেকে অন্য পান্তে চলাচল করছেন অনেকে।

বাস্তবে সাতসাগর তেরো নদী পাড়ী না দিতেই পারলেও ওরা ময়ূর পঙ্খিতে উঠে পুকুরে পাড়ি দিচ্ছেন। জমিদার সাজে কেউ ঘোড়ার গাড়ীতে উঠছে। কেউ বা পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় উঠে যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি নেয়ার ভঙ্গিমা করছে। কেউ বাহারাম বাদশা, কেউ সিরাজ-উদ-দৌলা হয়ে হাতে রজনীগন্ধা নিয়ে আলেয়ার সন্ধানে ঘুরেই চলছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, একাত্তরের বীর সেনাদের প্রকৃতিও রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে।

অজগর, বাঘ, সিংহ, হাতি, জেব্রা, পেগুইন পাখি ইত্যাদি’র প্রতিকৃতি পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ঝরনা না থাকলেও চালু করা হয়েছে শ্যালো চালতি ঝরনা। মৎস জগৎ নামে একটি নতুন ভুবন চালু রয়েছে। দেশের প্রখ্যাত জল মানব নওশাদ দীর্ঘদিন স্বপ্নপুরীতে কাজ করে তার নৈপূর্ণ্য প্রর্দশণ করেছেন। এখানে বেড়াতে আসা উৎসুক জনতার অনেকেই পুকুরে গোসল করে স্বস্থি পাচ্ছনে। প্রতিদিন শত শত বাস, মাইক্রোবাস, মটর সাইকেল, রিক্সা, ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ দর্শনার্থী সমবেত হয়।

স্বপ্নপুরীর ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, দেশের র্শীষ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সরকারি উচ্চপদস্থ র্কমর্কতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাজের অবসরে দেখতে আসেন স্বপ্নপুরীর এই অপরূপ দৃশ্য। এ র্পযন্ত প্রায় শতাধিক র্পূণদর্ঘ্যৈ বাংলা ছায়াছবি এবং নাটক চিত্রায়িত হয়েছে এখানে।

স্বপ্নপুরীর স্বত্তাধিকারী দেলওয়ার হোসেন জানান, নিজ উদ্যোগে নির্মিত এই বিনোদন কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার দেড় শতাধিক বেকার মানুষের র্কমসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিধি আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনাজপুর-৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য সিবলী সাদিক বলেন, স্বপ্নপূরী আমি স্বপ্নের জগৎ হিসেবেই গড়তে চাই। তাই.দর্শনার্থীরা যা চাইছে, নিত্য নতুন সব কিছুই সংযোগ হচ্ছে।

(এস/এসপি/নভেম্বর ০৪, ২০২২)