ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

সেলফি 

২০২৩ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৬:২৭:৫১
সেলফি 

শিতাংশু গুহ


লিখেছিলাম, শেখ হাসিনা-বাইডেন বৈঠকের চেষ্টা হচ্ছে। দিল্লিতে তা হয়নি। অন্তত: প্রকাশ্যে কিছু হয়নি। ভেতরে ভেতরে কিছু হয়েছে কিনা জানতে সময় নেবে। তবে সেলফি হয়েছে। বাইডেন সেলফি নিয়েছেন। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, পুতুল সবার সাথে বাইডেন ছবি তুলেছেন। এটি ভালো দিক। কারো কোন অসুবিধা হবার কথা নয়, তবে হচ্ছে, কারো কারো জ্বলছে। এতে খুশি হবারও তেমন কারণ নেই, এসব সৌজন্য। আবার বিষয়টি এতটা হালকা নাও হতে পারে। কথা হচ্ছে, যা হয়েছে, ভালই হয়েছে।

বাইডেন যখন সেলফি নিচ্ছিলেন, ফরেন সেক্রেটারি ব্লিঙ্কেন তখন দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, ‘প্রেসিডেন্টও তাহলে সেলফি নেন’! আমাদের বিদেশমন্ত্রী তখন পাশেই ছিলেন। বাইডেন বেশ হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। সেলফি তিনি নিতেই পারেন, তারপরও লোকে বলছে, আমেরিকায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে কটু কথা হচ্ছে, এমনও বলা হচ্ছে যে, তিনি কি ২০২৪ পর্যন্ত মেকআপ করতে পারবেন? বাইডেনের মনে হয়তো এসব ছিলো, তিনি প্রমান করতে চেয়েছেন, তিনি ফিট।

এতে লাভ বাংলাদেশের। শেখ হাসিনা সম্ভবত: তৈরিই ছিলেন, সুযোগ খুঁজছিলেন। সেই সুযোগ পেয়েও যান। এটিও এক ধরনের কূটনীতি। শত্রু’র সাথে ছবি তোলা। বাইডেন শত্রু নন, ততটা বন্ধুও নন, এ অবস্থায় কিছুটা ‘নেক নজর’ পাওয়া গেলে মন্দ কি? লক্ষ্ন শুভ। পরবর্তী কোন পদক্ষেপ নিতে গেলে বাইডেন এই সেলফি’র কথা মনে করতেও পারেন। তিনি কিছুটা নমনীয় হতেও পারেন। কন্যাসম পুতুল-র কথা তাঁর মনে দাগ কেটেছে কিনা কেজানে, কাটতেও পারে?

বলেছিলাম, দিল্লিতে সফল না হলে শেখ হাসিনা-বাইডেন বৈঠক নিউইয়র্কে হবার সম্ভবনা থাকবে, চেষ্টা চলছে। আমাদের বিদেশ দফতর নয়, অন্যরা এটি দেখছেন। যেই দেখুক, বৈঠক হলেই হলো। বৈঠক যদি নাও হয়, জাতিসংঘ করিডোরে বা কোন ভোজসভায় দেখা হলে, শেখ হাসিনা হয়তো বলতে পারবেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ মিষ্টার প্রেসিডেন্ট ফর দা সেলফি, আওয়ার পিপল লাইকড ইট, থ্যাংকস এগেইন’। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এনিয়ে তো আরো কথাবার্তা হতেই পারে। এতে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই।

তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বৈঠক না হলে, অন্তত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কথাবার্তা না হলে বুঝতে হবে, মার্কিন নীতি পাল্টায়-নি? এটি খুশির খবর নয়! সবাই বলেছিলো, সেপ্টেম্বর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিক্সে কিচ্ছু হয়নি। দিল্লিতে একটু দোলা হয়তো লেগেছে। এখন অপেক্ষা নিউইয়র্কে কি হয় তা দেখার। প্রধানমন্ত্রী রোববার ১৭ই সেপ্টেম্বর আসছেন। লেট্স, ওয়েট এন্ড সী। এটিও সত্য ডঃ ইউনুস বিতর্ক ঘনীভূত হচ্ছে।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।