ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

বাগেরহাটের ভাষা স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে রাখা ১৯ ল্যাপটপ চুরি, ৮৬ দিনেও হয়নি মামলা

২০২৩ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:২৮:৪৩
বাগেরহাটের ভাষা স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে রাখা ১৯ ল্যাপটপ চুরি, ৮৬ দিনেও হয়নি মামলা

সরদার শুকুর আহমেদ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বি. সি ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবের ১৭টিসহ ১৯টি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। এ বছরের ২৫ জুন এসব ল্যাপটপগুলি চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়ে রহস্যজনক কারনে ৮৬ দিনেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কেউই থানায় মামলা দায়ের করেনি। তবে এতদিনে ঘটনাটি চেপে রাখার পর শনিবার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বিষয়টি প্রকাশ হবার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

কচুয়া উপজেলার বি. সি ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপতি রঞ্জন দাস স্কুলের ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈদ উল আজহার বন্ধে গত ২৫ জুন বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব রুমের তালাগুলো ভেঙ্গে ল্যাবের ১৭টিসহ ১৯টি ল্যাপটপ নিয়ে যায় চোরেরা। এ ঘটনায় পরের দিন ২৬ জুন বিষয়টি থানায় জানান হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ফয়জুল হক ও ল্যাব সহকারী সিদ্ধার্ত সরকার পাইককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম খোকন ও থানা পুলিশ সালিশি বৈঠকে নৈশপ্রহরী ফয়জুল হক ১০টি ল্যাপটপ কিনে দেবে বলে জানায়। বিদ্যালয়ের সভাপতি এটাতে সম্মত হয়েছিলেন। ইতোমধ্যে নৈশপ্রহরী ৮টি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে স্বীকার করেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাইফুল ইসলাম খোকন জানান, ঘটনার পর মামলা করা হয়েছিল। থানা পুলিশ সবকিছুই জানে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাইকৃত ল্যাপটপ উদ্ধার হলে তো নৈশপ্রহরীর চাকুরী থাকার কথা নয় এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত আছেন।

এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তখন বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম খোকন সাহেব বলেছিলেন, তারা ল্যাপটপ পেয়েছেন। সে কারনে তারা মামলা করবেন না।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান জানান, ২৫ জুন রাতের ঘটনা হলেও কেউই বিষয়টি আমাকে জানায়নি। শনিবারই আমি জানতে পেরেছি। কচুয়া উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার মেহেদী মান্নানকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। তদন্ত রিপোর্ট পেলে দায়িত্ব অবহেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(এসএসএ/এএস/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩)