ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন

জাপান থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ

২০২৩ অক্টোবর ০১ ১৪:২০:১৯
জাপান থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে জাপান থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী এলাকায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্টের উন্নয়নকাজ। এই ঋণে সুদের হার এক দশমিক ৬ শতাংশ।

জাপান সরকারের ৪৪তম ওডিএ লোন প্যাকেজের ২য় ব্যাচের আওতাধীন মাতারবাড়ী প্রকল্পের ৭ম পর্যায়ে ঋণের জন্য বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে বিনিময় নোট ও ঋণচুক্তি সই হয়েছে। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এনইসি-২ সভাকক্ষে এ ঋণচুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান এবং জাপান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি এতে সই করেন। এছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তমোহিদে ঋণচুক্তিতে সই করেন। ইআরডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ঋণচুক্তির আওতায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৬ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন (এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহায়তা দেবে। ঋণের বার্ষিক সুদের হার নির্মাণ কাজের জন্য এক দশমিক ৬০ শথাংশ। পরামর্শক সেবার জন্য শূন্য দশমিক ১০ এবং এককালীন শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে এ ঋণ।

অব্যাহত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী এলাকায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রকল্পে জাইকা কর্তৃক পর্যায়ক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ৬টি পর্যায়ে মোট ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৫৪ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েনের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। ৪৪তম ওডিএ লোন প্যাকেজের (২য় ব্যাচ) আওতায় ৭ম পর্যায়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৬ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন দেওয়া হবে।

দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে জাপান সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, পল্লি উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতের প্রকল্পে ঋণ ও বিভিন্ন প্রকার অনুদান সহায়তা হিসেবে ৩০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০১, ২০২৩)