ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা প্রতিমার রঙ হচ্ছে

২০২৩ অক্টোবর ১৭ ১৫:০৩:১৯
আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা প্রতিমার রঙ হচ্ছে

স্বপন কুমার কুন্ডু; ঈশ্বরদী : আর মাত্র চার দিন পরেই সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঈশ্বরদীসহ আশেপাশের মন্দিরগুলোতে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। একমাটি এবং দো-মাটির কাজ শেষ করে শেষ মুহূর্তে শুরু হয়েছে প্রতিমা রঙয়ের কাজ। সনাতনি পদ্ধতিতে তুলি দিয়ে রঙ এর স্থান দখল করেছে স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন ধরণের আধুনিক যন্ত্র। তবে প্রতিমার চোখসহ মুখমন্ডল এখনো হাত দিয়ে তুলিতেই রঙ হচ্ছে।


সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করে মহাসম্মেলন ঘটে বাংগালির সার্বজনীয় পূজায়। শরৎকালের সেই শারদীয় দুর্গাপূজা দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ইতোমধ্যেই দেবী দুর্গা প্রতিমার তৈরীতে খড়-কাঠ ও কাদামাটির কাজ শেষ করে চলছে রঙয়ের কাজ। নিখুঁতভাবে প্রতিমার মূখের অবয়ব রং তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ শিল্পীদের।

প্রতিমা শিল্পী গণেন পাল বলেন, প্রতিমার মাটির কাজ শেষে এখন চলছে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিমার রঙের কাজ শেষ হবে। এখন খুব ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে। খাওয়ার সময়ও নেই। সময় যেহেতু শেষের দিকে, তাই এখানে দ্রুত কাজ শেষ করে কমিটির কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে।

আরেক কারিগর সঞ্জিব পাল বলেন, বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে আসছি। বছরে ৩-৪ মাস এই কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতে হয়। তবে যেভাবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ছে, সে তুলনায় আয় নেই।

ঈশ্বরদীতে ৩২টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় ১৭৫ বছরের প্রাচিনতম মৌবাড়ি দূর্গা মন্দিরে রীতি অনুযায়ী রবিবার ( ১৫ অক্টোবর) প্রতিপদে ঘটস্থাপন করে পূজা শুরু হয়ে গেছ। ব্যতিক্রমি এ মন্দিরে আদিকাল হতে ২২ পুতুলের প্রতিমা হয়। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগে সনাতন ধর্মীয় অবতারদের মূর্তি দেবী দুর্গা প্রতিমার সাথে আসনে স্থান পেয়ে পূজা গ্রহন করেন। আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে প্রতিমা আসনে অধিষ্টিত করার মধ্য দিয়ে সকলস্থানে মহোৎসব শুরু হবে। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবির কুমার দাশ মন্দিরগুলো পরিদর্শন করে সকল প্রস্তুতির খোঁজখবর করছেন। রবিবার ঠাকুরবাড়ি সত্য নারায়ণ মন্দির পরিদর্শনকালে বলেন, সকল মন্দিরে সিসিটিভি ও আইপি ক্যামেরা বসানোর জন্য বলা হয়েছে। উপজেলার কর্মকর্তাদের দিয়ে টিম তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি প্রস্তুত রয়েছে। কন্ট্রোল রূম থেকে সার্বক্ষনিক তদারকি করা হবে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। আমাদের সাদা পোশাকের পুলিশ সার্বণিক পর্যবেক্ষণ করছে, দিনে-রাতে টহল দিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিট ভাগ করে পুলিশের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, ঈশ্বরদীতে সকল ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হয়। যেকোন ধরণের উস্কানি বা অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি এখানে সমকল ধর্মের মানুষ আন্তরিক।

(এসকেকে/এএস/অক্টোবর ১৭, ২০২৩)