ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

প্রসঙ্গ: নির্বাচন এবং ঋণখেলাপি

বাংলাদেশ ব্যাংক এখনই যা করতে পারে

২০২৩ নভেম্বর ২৮ ১৫:২১:০৯
বাংলাদেশ ব্যাংক এখনই যা করতে পারে

চৌধুরী আবদুল হান্নান


দেশে আইন আছে, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না, করতে হলে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রত্যাশা করা যায়, দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের আটকে পড়া খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য এ সুযোগটি এবার কাজে লাগাতে ভুল করবে না।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী বছর ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। হাতে সময় বেশি নেই, এখনই নির্বাচনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী ঋণখেলাপিদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংকের নির্বাহীদের নির্দেশ দিতে পারে। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে ঋণ আদায়ের জন্য ব্যংকারদের মধ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে; দায়িত্ব পালনে বেশি তৎপর হবে। কারণ এখানে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতারও একটা বিষয় রয়েছে।

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে ইতোমধ্যে যারা সামাজিকভাবে দাপুটে অবস্থানে রয়েছেন তারা অনেকেই রাজনৈতিকভাবেও ক্ষমতাবান হতে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে অংশ নিতে চেষ্টা করবেন।

যারা গ্রাহক নির্বাচন করে ঋণ দিয়েছেন, আদায়ের দায়িত্ব মূলত তাদেরই; কিন্ত ব্যাংকাররা এখন ঋণখেলাপিদের দাপটে অনেকটাই অসহায়।

ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনাম নেই, ব্যর্থতাও আছে; বিশেষজ্ঞ প্রবীণ ব্যাংকারদের এমনই বিশ্বাস।

বাহির থেকে রাজনৈতিক, প্রাইভেট ব্যাংক মালিক সমিতি, ক্ষমতাবান ঋণখেলাপি বিভিন্ন পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছে।

প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে— এ মর্মে সকল ব্যাংকের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক অবিলম্বে নির্দেশনা জারি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন- “আগামী নির্বাচনে যেন কোনোভাবেই ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর থাকতে হবে।”

ঋণখেলাপি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে আটকানোর কাজটা সহজ নয়, কারণ তার টাকা আছে আর টাকার বাড়তি ক্ষমতাও আছে এবং যে টাকা কষ্টার্জিত নয় তার ক্ষমতা অসীম। অনেক সময় এসকল ক্ষেত্রে আইনের বাণী নীরবে কাঁদে।

অর্থলোভী নীতিহীন লোকেরা ব্যাংক থেকে জনগণের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না।

খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যাংকগুলো শক্তিহীন হয়ে পড়েছে, সেখানে অবিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদেরকে কিছুটা শক্তির যোগান দিতেই হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, সোনালী ব্যাংক।