ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

নির্বাচনী ভূমিকম্পে দেশ কাঁপছে 

২০২৩ ডিসেম্বর ০৩ ১৫:১৯:৩২
নির্বাচনী ভূমিকম্পে দেশ কাঁপছে 

শিতাংশু গুহ


বাংলাদেশে গাড়ীঘোড়া, ব্যাংক, স্কুল-কলেজ, সবকিছু চলছে, অবরোধ-হরতালও চলছে। আগে আমরা লিখতাম ‘হরতাল হয়েছে, হরতাল হয়নি’। অবস্থা এখনো একই। ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, ভাগ্য ভাল বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্পে’ দেশ কাপছে। সবাই ভাবছেন, কি হবে? বিদেশমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, মার্কিন বাণিজ্যনীতি নিয়ে দু:শ্চিন্তার কোন কারণ নেই? যদিও মিডিয়া বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হুমকির মুখে জিএসপি পণ্যের সুবিধা। রবিবার তাঁরা (ইইইউ) নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে কি বার্তা শুনিয়েছেন কে জানে? লক্ষ্যণীয় যে, আবুল মাল মুহিত-র ভাই মোমেন-এর চেয়ে এ সময়ে মাসুদের পুত্র মোমেন কূটনীতিতে বেশি ব্যস্ত, এটি শুভদিক, আরো আগেই তা হওয়া উচিত ছিলো।

বাংলাদেশের মানুষ একঘেয়ে নির্বাচন দেখতে অভ্যস্ত নয়, তাঁরা বৈচিত্রময় নির্বাচনে বিশ্বাসী। ২০০৮-এ তারা একটি সুন্দর নির্বাচন দেখেছে, ২০১৪-ত ১৫৩জন বিনা-প্রতিদ্ধন্দ্বতায়, এবং ২০১৮-তে দিনের ভোট রাতে দেখেছে। এবার কি দেখবে? আপাতত: তাঁরা বৈদেশিক চাপ দেখছে, দেখছে সরকারের মুখে চিন্তার বলিরেখা। সমস্যা বহুবিধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বউ রোজালিন কার্টার মারা গেছেন। কার্টার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একবার মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন। জহুর হোসেন চৌধুরী তখন দৈনিক সংবাদে এক কলামে লিখেছিলেন, ‘কার্টারের বিচি ফাঁটা বাঁশে আটকে গেছে’। নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থা দেখে তিনি কি লিখতেন কেজানে?

ডিসেম্বর, মহান বিজয়ের মাস। জয়বাংলা। এ মাসে সচরাচর স্বাধীনতা বিরোধীরা কিছুটা চুপসে থাকে। এবার তাঁরা বেশ চাঙ্গা। রামায়ণ রচয়িতা মহামুনি বাল্মীকি নিজমুখে বলেছেন, তিনি চেষ্টা করেছিলেন রামায়ণের শেষটা ‘মেলোডি’ অর্থাৎ রামসীতার মিলন দিয়ে সমাপ্তি ঘটাতে, কিন্তু ‘নিয়তি’ তা হতে দেয়নি, সীতাকে পাতাল গ্রাস করে। ঢাকার মাঠে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীন-রাশিয়া-ইইইউ’র ফুটবল খেলায় ‘নিয়তি’ কি সিদ্ধান্ত নেবে কেউ জানেনা। এ মাসে বাংলার মাটিতে পাকিস্তানীরা পরাজিত হয়েছিলো। ৫২ বছর পর অন্য এক ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশে অন্য কোন ঘটনা ঘটবে না-তো? তবে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী ট্রেন চলছে, চলবে, কারো বাধায় থামবে না।

ডামি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী কনফিউশনে আওয়ামী লীগ কিছুটা অস্বস্তিতে আছে। সুযোগ পেয়ে অনেকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, এবং এতে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের হেরে যাবার সম্ভবনা দেখা দিচ্ছে। যদিও প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষার সময় আছে, তবে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা দলে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করছে। বরিশাল-৪ আসনে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ড:শাম্মী আহমদকে ডেকে এনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বর্তমান এমপি পঙ্কজ দেবনাথ লোকাল ইক্যুশনে, বিশেষত: স্থানীয় শেখ হেলাল পরিবারের দাপটে মনোনয়ন পাননি। তিনি ডামি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, বলেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন টিকলে তিনি প্রত্যাহার করবেন। মিডিয়া জানাচ্ছে, শাম্মী আখতারের মনোনয়ন বাতিল হবার সম্ভবনা উজ্জ্বল, সেক্ষেত্রে পঙ্কজ দেবনাথের কপাল খুলবে।

বিএনপি’র খুব বেশি নেতা দল না ছাড়ায় দলটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগকে ভালবেসে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। অনেক দিন আগে খুব সম্ভবত: সংবাদে একজন কলামিষ্ট (নাম মনে নেই) লিখেছিলেন, ‘একজন মুসলমান হিসাবে যখন নিউজ দেখি যে একটি মেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তখন মন্দ লাগেনা। কিন্তু পরের লাইনে যখন পড়ি, আমি লালমিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, তখন বুঝতে অসুবিধা হয়না যে, আকর্ষণ ধর্মের নয়, অন্যত্র’। বিএনপি’র বহিস্কৃত ভাইস-প্রেসিডেন্ট শাহজাহান ওমরের আওয়ামী লীগের প্রতি ভালবাসায় কেন জানি এ গল্পটি মনে এলো?

এখন পর্যন্ত সকল আসনে নৌকার প্রার্থী থাকায় জাপা’র প্রার্থীদের শঙ্কা বাড়ছে। রওশন এরশাদ একুল-ওকূল দুইকূল হারিয়েছেন। মেনন, ইনু বা অন্য শরিকদের ভাগ্যে কি হবে তা স্পষ্ট নয়! এদিকে কারাগারে বিএনপি’র দুই কর্মী মারা গেছেন। এ সময়ে এ ধরণের ঘটনা অন্য কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছেনা তো? বিএনপি নেতা রিজভী বলেছেন, ভারত জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, হ্যাঁ, চিঠি দিয়েছে, দিতেই পারে, তবে আপনাদের দেশপ্রেমের অভাব আছে বলেই আপনারা গোপন চিঠি নিয়ে নিউজ করেন!! সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যাই বলুক, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটি হচ্ছে তো? আর যদি হয়ই, তারপর কি? নাকি আমরা গাইবো সেই বিখ্যাত গান, ‘তার আর পর নেই’?

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।