ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

ফাগুনের প্রকৃতিতে যেন আগুন লাগিয়েছে শিমুল ফুল 

২০২৪ মার্চ ২৯ ১৬:০৭:১৬
ফাগুনের প্রকৃতিতে যেন আগুন লাগিয়েছে শিমুল ফুল 

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুরের প্রকৃতি এখন মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানের সাথে ফাগুনের উত্তাল হাওয়া দিচ্ছে দোলা। একদিকে গাছে গাছে পাতাঝরার শব্দ অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন সবুজ পাতা। আ¤্রমুকুল আর শিমুলফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে বসন্ত। ঋতু পরিক্রমায় বছর ঘুরে বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে শিমুল ফুলের লাল রঙে, এ যেন প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। শীতের রিক্ততা কাটিয়ে ফাগুনের আগুনে প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। পাতা ঝরা বৃক্ষগুলির মাথায় দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা, কলি ও ফুল। বসন্তের আগমনে শিমুল গাছে ফাগুনের ছোয়ায় চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের ফুল শোভা পাচ্ছে। গৌরীপুরের রাস্তার ধারে, বাড়ির কোণে, পতিত ভিটায় ঠায় দাড়িয়ে থাকা শিমুল গাছগুলি নতুন কুড়ি ও রঙিন ফুলে ভরেগেছে। প্রকৃতি যেন অনাবিল আনন্দ ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে। গাছে গাছে রঙিন ফুল প্রকৃতিকে করেছে সৌন্দর্যমন্ডিত।

এক সময় এ উপজেলায় প্রচুর পরিমানে শিমুল গাছ ছিল। বসন্ত এলে গাছে গাছে লাল রঙের ফুলে ভরে যেত। ফুলে ফুলে প্রকৃতি সাজতো অপরূপ রূপে। শিমুল ফুল ফুটেই জানান দিতো বসন্তের আগমনি বার্তা। কালের বিবর্তনে উপজেলায় কমেছে কমেছে শিমুল গাছ। তারপরও গ্রামঞ্চলের শিমুল গাছগুলো এখন সেজেছে বাহারি রঙের ফুলে। মাঘ মাসের শেষে ফালগুনের শুরুতে ফুল ফুটে চৈত্র মাসের শেষের দিকে পুষ্ট হয় এ গাছের ফল। বৈশাখে মাসের দিকে ফলগুলো পেকে গিয়ে আপনা আপনিই ফল ফেটে তুলা ও বীজ বাতাশের সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকে গাছের জন্ম হয়। আবার অনেকে নিজে থেকেই গাছ রোপন করে থাকে।

প্রাকৃতিকভাবেই শিমুল গাছ বেড়ে উঠছে। শিমুল গাছ শুধু ফুল দিয়ে পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এই গাছে রয়েছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ভেষজ গুনাগুন। এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন রোগিদের। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম বোমবাক্স সাইবালিন। শিমুল তুলা আরামদায়ক বেডিং শিল্পে ঐতিয্যবাহি কাঁচামাল। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। শিমুল তুলা ও গাছ মানব জীবনে নানা উপকারিতা এবং অর্থনৈতিকভাবে ও বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

কয়েক দশক আগেও রাস্তার ধারে, বাড়ির কোণে, পতিত ভিটায় প্রচুর পরিমানে শিমুল গাছ ছিল। ফাল্গুন মাস এলে গাছে গাছে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের ফুল শোভা পেত। কিন্তু অবাধে গাছপালা নিধন করার সময় বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে শিমুল গাছও কমে গেছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো ঠায় দায়িয়ে থাকা গাছ গুলোতে ফুল ফুটে প্রকৃতিকে সাজিয়েছে নতুন রূপে জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনি বার্তা।

আরামদায়ক হওয়ার কারণে শিমুলের তুলার চাহিদার সাথে দামও অনেক বেড়ে গেছে। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ৮/১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। শিমুল গাছ ফুল দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এর রয়েছে ঔষধি গুন। এছাড়াও গাছ বিক্রি করে এককালীন আয় করা সম্বব। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ কমে গেছে শিছুল গাছ।

লেপ তোষক তৈরিকারক ও বিক্রেতা সোহেল জানান, বর্তমানে শিমুল তুলা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুচিশীল মানুষ লেপ-তোষক ও বালিশে শিমুল তুলাই ব্যাবহার করেন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শিমুল গাছ বিভিন্নভাবে আমাদের আর্থিক চাহিদার যোগান দিয়ে থাকে। প্রকৃতি ও ঋতু বৈচিত্রের বাহক শিমুল গাছ রোপনে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।

(এস/এসপি/মার্চ ২৯, ২০২৪)