ঢাকা, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শিশুর হাতে দেশীয় অস্ত্র, ফেসবুকে ভাইরাল

২০২৪ মে ২৪ ১৮:০২:০১
শিশুর হাতে দেশীয় অস্ত্র, ফেসবুকে ভাইরাল

শেখ ইমন, শৈলকুপা : ঝিনাইদহের অপরাধপ্রবণ শৈলকুপা উপজেলায় খুনোখুনি ক্যাইজা আর হানাহানিতে বিভিন্ন সময় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে অন্যতম হলো ধারালো রামদা! তবে ছোট্ট শিশু সেইসব অস্ত্র নিয়ে রাস্তা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে সামনের দিকে! আবার কেউ দেশীয় এই অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন ছবিগুলো শৈলকুপার দৃশ্য বলে ফেসবুক ইউজাররা লিখছে! শৈলকুপায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্যকর এই ছবি দুটি। একটি শিশু রামদা হাতে সামনে ছুটে চলছে, আরেক শিশু রামদা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

স্যোশাল মিডিয়ায় অবুঝ শিশুর হাতে অস্ত্রসহ এমন ছবি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ সহ সাধারণ মানুষ। ছবি দেখে তারা শৈলকুপার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ আর সংশয়-শঙ্কা প্রকাশ করছে, শেয়ার করছে, কমেন্ট করছে।

ফেসবুকের হোম বা স্ক্রলের সময় দেখামাত্র ইউজাররা লাইক,কমেন্ট করছে যা ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ছবি দুটি, অনেকে রিল বানাচ্ছে, স্টোরীতে রাখছে আবার অনেকে ট্রল করছে! ঘৃণা প্রকাশ করছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের সম্ভাবনা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছে। ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার চলছে।

শৈলকুপা পাবলিক হল ও লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক স্বপন বাগচী জানান, যদি ক্রিয়েট বা পরিকল্পিত ভাবে শিশুর হাতে অস্ত্র তুলে ছবি করে স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় তবে প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারেনা। একই সাথে তিনি বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকে দায়িত্বশীল নয়। ফেসববুকে কি লেখা যায় কি লেখা যায় না বা কোন টা দেয়া যায় না, তা সম্পর্কে ধারণা নেই বা তাদের অজ্ঞতায় বিপর্যয় য় ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন, তিনি পুলিশের দায়-দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

শৈলকুপা শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী শৈলকুপা উপেজলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন অরণ্য জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শৈলকুপার অনেক ফেসবুক ইউজারদের পোস্টে ছবিটি প্রথম দেখতে পান। তিনি বলেন, এটা সত্য হলে বুঝতে হবে শৈলকুপায় চরমভাবে সামাজিক অবক্ষয় ঘটে চলেছে, যার প্রমাণ শিশুর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া। তবে তিনি মনে করেন কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুর হাতে এভাবে দেশীয় অস্ত্র তুলে ছবি করে ফেসবুকে ছেড়ে দিতে পারে, যা গুরুত্বর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহিন আক্তার পলাশ বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে প্রায় একই রকম ছবি তিনি ফেসবুকে দেখেছেন। তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় কোন কিছু ঘটলে কোন কোন মহল এমন কিছু ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় যা দুঃখজনক। এসবের প্রতিকার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

ছবি দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলেছে, সত্যিই কি শিশুটি নিজে নিজে অস্ত্র হাতে রাজপথে মুভ করছে ? এই অস্ত্র শিশুটি পেল কোথায়, অভিভাবক বা পরিবার কি তার হাতে তুলে দিয়েছে ? নাকি তার হাতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়াবহ এমন অস্ত্র তুলে দিয়ে একটি মহল শৈলকুপার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতি যে 'অবনতিশীল' তা বোঝানো বা দেখানোর অপচেষ্টা চেষ্টা করছে।

অনেকে কমেন্টে বলছেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি বা মহল এমনটি করে থাকে তবে সাইবার ক্রাইম অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানা পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছে?

গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আছে কি বিষয়টি? যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা তাদের কোন পদক্ষেপ বা বক্তব্য না থাকে তবে ঘটনাটি সত্য বলে বিশ্বাস করবে জনগণ। আর শৈলকুপা যে ভয়ঙ্কর এক অপরাধপ্রবণ জনপদ হিসাবে এখনো চিহ্নিত এবং শিশুরা অপরাধী হিসাবে বেড়ে উঠছে। তার সপক্ষে এই শিশুর অস্ত্র ধরা অকাট্য প্রমাণ বহন করতে পারে বলে মনে করছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এদিকে শৈলকুপায় দুপুর থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া শিশুর হাতে অস্ত্র সহ ছবি প্রসঙ্গে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ছবিটি তার নজরে এসেছে, তবে কােন মহল উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এটি ছড়িয়েছে বলে জানান। তিনি বিষয়টির খোঁজ খবর করবেন বলে জানান।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, স্যােশাল মিডিয়া ফেসবুকে শিশুর হাতে দেশীয় অস্ত্র সহ ছবিটি তার নজরে এসেছে, তবে কে কোথা থেকে ছেড়েছে তার বিস্তারিত জানতে পারেননি। তিনি বলেন, এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেও কোন মহল এটি করতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহব্বান জানিয়ে বলছেন, এ ব্যাপারে কোন তথ্য পেলে দ্রুত তাকে অবগত করিয়ে যেন সহযোগীতা করা হয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।

এমন পরিস্থিতিতে শৈলকুপার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা শৈলকুপা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং জেলার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে।

(একে/এসপি/মে ২৪, ২০২৪)