ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

প্রচ্ছদ » বিশেষ খবর » বিস্তারিত

ঝিনাইদহের ঐতিহ্য গলাকাটা মসজিদ

২০১৫ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৫:৫৬:৩৫
ঝিনাইদহের ঐতিহ্য গলাকাটা মসজিদ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের গলাকাটা মসজিদটি, ঝিনাইদহের বারোবাজার - তাহেরপুর রাস্তার পার্শ্বে অবস্থিত। চারটি ৬ কোণাকৃতি বড় মোটা পিলারের উপর বর্গাকৃতি মূল মসজিদটি দণ্ডায়মান এবং প্রত্যেক বাহু ২৫ ফুট লম্বা ও দেয়াল ৫ ফুট চওড়া। এতে ৩টি প্রবেশ দ্বার আছে। মসজিদটির পূর্ব পাশে পাকা প্রাঙ্গন ছিল। ভিতরে পশ্চিমের দেয়ালে ৩টি মেহরাব আছে এতে পোড়ামাটির কারুকাজ, ফুল, লতাপাতা, ঘন্টা, চেইন ইত্যাদির নকশা আছে। কালো পাথরের ৮ ফুট উচ্চতার দু'টি স্তম্ভ ছাদের পিলার হিসেবে আছে। স্তম্ভের সামনে পিছনে ৬টি মাঝারি আকৃতির গম্বুজ আছে।

শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে হুসাইনের আমলের ৮০০ হিজরীর আরবি-ফার্সিতে লেখা কয়েকটা পাথর খননের সময় এগুলো এখানে পাওয়া গেছে। মসজিদের সাথে সাদৃশ্য আছে গৌরের ধবীচক ও ঝনঝনিয়া মসজিদ, ঢাকা রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, শৈলকুপার শাহী মসজিদ ও বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের। ইসলামী স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে গলাকাটা মসজিদ বাংলাদেশের পুরাকীর্তিকে সমৃদ্ধ করেছে।ঝিনাইদহের গলাকাটা মসজিদের পাশে গলাকাটা দীঘি অবস্থিত। খান জাহান আলী (রা.) এর সমসাময়িক এ দীঘি বলে প্রবল জনশ্রুতি আছে। এ দীঘিটি চর্তুদিকের পাড়সহ বারো বিঘা জমির উপর অবস্থিত। এ দীঘির দক্ষিণ পাড়েই গলাকাটা মসজিদ। দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি ছোট অনুচ্চ ঢিবি আছে।ঝিনাইদহের বারোবাজার তাহেরপুর সড়কের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত গলাকাটা মসজিদ।

যা প্রত্নতত্ব বিভাগ ধ্বংসস্তুপ থেকে পুর্নউদ্ধার করেছে। মসজিদটির পূর্ব দিকে তিনটি প্রবেশপথ উত্তর ও দক্ষিনপার্শ্বে উভয় দিকে দুইটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশ দ্বারের উপরে রয়েছে সুচাল খিলান। উত্তর ও দক্ষিন পার্শ্বের প্রবেশ দ্বার দুইটি ইটের জাল করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভিতর দিকের কেবলা দেয়ালে তিনটি অর্ধবৃত্তাকৃতির সুসজ্জিত মেহরাব রয়েছে। এই মেহরাব গুলির দুই পাশে অবস্থিত পোড়া মাটির দিগন্ত রেখাকৃতির বাধন। বিভিন্ন প্রকার জ্যামিতিক ও ফুলের নকশা। তাদের ভিতর দিকে আছে পোড়া মাটির ঘন্টা ও চেইন নকশা। তিনটি মেহরাবের প্রান্তভাগ আয়তক্ষেত্রাকৃতির ফ্রেম দ্বারা বাঁধানো। উত্তর ও দক্ষিন পার্শ্বের মেহরাবের আরো ক্ষেত্রাকৃতির ফ্রেমের মধ্যে পোড়া মাটির জ্যামিতিক নকশা রয়েছে। আয়ত ক্ষেত্রাকৃতির ফ্রেমের উপরে আছে বন্দ মার্শনের সারি। এলাকাবাসী জানায় সংস্কার ও সংরক্ষনের পূর্বে মসজিদের দেয়ালগুলি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় অবস্থিত ছিল এবং এর কোন গম্বুজ ছিলনা। সম্প্রতি কয়েকটি গম্বুজসহ মসজিদটি পুর্ননির্মিত হয়েছে। খননের পূর্বে এই ঢিবিটি সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ ছিল। কেউ এটিকে মন্দির বলেও দাবি করতো। কিন্তু বৃটিশ সরকারের পরগনা শাহা উজালা ভূমি রেকর্ডে মসজিদরুপে রেকর্ডকৃত ছিল এবং খননের পর তারই প্রমাণ মেলে।

(জেআর/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৫)