ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

প্রচ্ছদ » কৃষি » বিস্তারিত

ব্রি ধান ৪৮ : আউশ মৌসুমে ধানের একটি সম্ভবনাময় জাত

২০১৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫৫:৪৯
ব্রি ধান ৪৮ : আউশ মৌসুমে ধানের একটি সম্ভবনাময় জাত

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি),গাজীপুর, ফলিত গবেষণা বিভাগ কর্তৃক Transforming Rice Breeding (TRB) প্রকল্পের আওতায় গত ০৬ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে আউশ মৌসুমে ব্রি ধান৪৮ এর বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কর্মসূচীর (SPDP) উপর কৃষক সমাবেশ, শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ভাগ্য রাণী বনিক, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মো: শাহজাহান কবীর, পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা); ও ড.মো সফিকুল ইসলাম মমিন, সিএসও এবং প্রধান, ফলিত গবেষণা বিভাগ, ব্রি গাজীপুর।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ নির্মল কুমার দে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানীবৃন্দ এবং দামুড়হুদা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান। উক্ত মাঠ দিবসে প্রায় ১৫০ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আগত সকল কর্মকর্তা, অতিথি ও কৃষক সহ ব্রি ধান৪৮ এর বীজ উৎপাদন মাঠ পরিদর্শন করা হয়। ব্রি ধান৪৮ এর মাঠ দেখে কৃষকগণ এ ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শস্য কর্তনে ব্রি ধান৪৮ এর গড় ফলন হয় ৬.৩ টন/হে. (২১ মন/বিঘা)।

মাঠ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উক্ত গবেষণা কর্মসূচীর সাথে সম্পৃক্ত ব্রি’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, ব্রি কর্তৃক সম্প্রতি আবিষ্কৃত ব্রি ধান৪৮ আউশ মৌসুমে অত্যন্ত সম্ভবনাময় জাত, জীবনকাল কম, ফলন বেশী। অনষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. মো: সফিকুল ইসলাম মমিন বলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল যেখানে অন্য জাতের ধান আবাদ করে তেমন ফলন পাওয়া যায় না সেখানে ব্রি ধান৪৮ খুবই উপযোগী। উৎপাদনকৃত সকল ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে কৃষকদের মাঝে বীজ বিনিময় ও বিক্রয়ের মাধ্যমে এ জাতের আবাদ সম্প্রসারণ করতে পরামর্শ দেন। ব্রি’র পরিচালক (প্রশাসন) ড.মো: শাহজাহান কবীর বলেন ব্রি ধান৪৮ এর ফলন আউশ মৌসুমের অন্য যে কোন জাতের চেয়ে বিঘা প্রতি গড়ে প্রায় ৪-৫ মন বেশী, জীবনকাল মাত্র ১০৭ থেকে ১১০ দিন। এ জাতের বিশেষ গুন হচ্ছে ব্রি ধান৪৮ এর গাছ শক্ত, তাই সহজে হেলে পড়ে না, ছড়ায় ধানের সংখ্যা বেশী এবং চিটার সংখ্যা খুবই কম। ফলে আউশ মৌসুমে এ জাতের আবাদ বৃদ্ধি করে এদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও টেকসই করে বিদেশে চাল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফলে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় ব্রি’র গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই হবে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রি’র মহাপরিচালক ড. ভাগ্য রাণী বনিক বলেন, আউশ মৌসুমে আবাদের জন্য ব্রি ধান৪৮ ব্রি’র এক অসাধারণ আবিস্কার। আমাদের আবাদী জমি প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে অন্যদিকে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ফলে কম জমিতে বেশী ধান উৎপাদন করতে হবে। আউশ ধান পরিবেশ বান্ধব। বোরো ধান চাষে প্রচুর পানি সেচ লাগে, সেখানে আউশে ব্রি ধান৪৮ ধানে ২/১ টি সম্পূরক সেচ প্রায় বোরো ধানের সমান ফলন পাওয়া যায়। এ জাতের ভাত খেতে ভাল এবং অনেক কৃষকভাই বলেন এ ধানের খড়ও গরু ভাল খায়। অনষ্ঠানের সভাপতি কৃষিবিদ নির্মল কুমার দে বলেন এ জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনকে আরও টেকসই করবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ব্রি’র গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদারকরনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকগণ ব্রি ধান৪৮ এর বীজ পেয়ে খুবই খুশী এবং তাঁরা এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এলাকার কৃষকগণ এ ধান দেখে তা আবাদে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

(বিএস/অ/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬)