ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

প্রচ্ছদ » আনন্দ বেলা » বিস্তারিত

ছোটদের শিক্ষামূলক গল্প

২০২১ জুলাই ২৪ ২১:০৩:২০
ছোটদের শিক্ষামূলক গল্প








এক অসৎ বন্ধুর কাহিনি :
এক সময় এক গ্রামে দুই বন্ধু বাস করত। তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধুত্ব ছিল যেএকজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারত না। তাছাড়া তাঁরা পরস্পরকে অত্যন্ত বিশ্বাস করত। একদিন এক বন্ধু বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে কয়েক মাসের জন্য অন্য একটা শহরে রওনা দিয়েছিল। এ সময় সে তার বন্ধুটির দায়িত্বে লোহার সিন্দুকটি রেখে গেল ।

কয়েক মাস পরে শহর থেকে ফিরে এসে তার লোহার সিন্দুক টা সেই বন্ধুটির কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার জন্য সে তার বাড়ি গেল ।কিন্তু বন্ধুটি তাকে বলল যে তার সিন্দুকটা উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে । বন্ধুটি তখন অন্য বন্ধুটিকে কিছু না বলে নিজের বাড়িতে ফিরে এল। সে তাকে একটা উচিত শিক্ষা দেবে বলে ঠিক করলএবং উপযুক্ত সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

একদিন তার বন্ধুর ছেলেকে এক জায়গায় একা একা খেলা করতে দেখে তাকে অপহরণ করল।অন্য বন্ধুটি পরিষ্কার বুঝতে পারল তার বন্ধুই তার ছেলেকে অপহরণ করেছে। সেইমতো তাকে বলল তার ছেলেকে ফেরত দিতে ।বন্ধুটি তখন বলল তার ছেলেকে চিলে নিয়ে গেছে ;তার কথা শুনে অবশেষে অসৎ বন্ধুটি নিজের ভুল বুঝতে পারল এবং উচিত শিক্ষা পেল।এরপর সে তার বন্ধুর লোহার সিন্দুকটি ফিরিয়ে দিয়ে তাঁর নিজের ছেলেকেও সে ফেরত পেল।

নীতিকথা: “মন্দকাজের জন্য ফলভোগ করতেই হবে ”

বুদ্ধি খাটিয়ে গণনা :
একবার আকবর তার আদালতে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন যা সবাই কে অবাক করেছিল । রাজসভার সবাই যখন উত্তর বের করার চেষ্টা করছিল তখন বীরবল এগিয়ে গিয়ে জানতে চিইলেন কি ব্যাপার। আর তাই তারা বিরবলকে প্রশ্নটি করে জানতে চাইল ,

“শহরে কতগুলো কাক আছে?’

বীরবল সাথে সাথেই হাস্য বদনে আকবরের কাছে গিয়ে ঘোষণা করলেন যে তাঁর প্রশ্নের উত্তর হল, একুশ হাজার পাঁচশো তেইশটি কাক গোটা শহরে উপস্থিত। যখন সম্রাট জানতে চাইলেন যে বীরবল কিভাবে উত্তরটি দিতে পারলেন, তখন বীরবল উত্তরে বলেছিলেন , ‘ মহারাজ ,আপনার লোকেদের কাকেদের সংখ্যা গণনা করতে বলুন।

যদি আরো কাক থাকে, তাহলে শহরের বাইরে থেকে কাকেদের আত্মীয়রা তাদের দেখা করতে এসেছে অর যদি কম থাকে, তাহলে কাকেরা শহরের বাইরে তাদের আত্মীয়–স্বজনের সাথে দেখা করতে গেছে। ‘ উত্তর পেয়ে খুশী হয়ে, আকবর বীরবলকে পুরস্কৃত করেছিলেন ।

নীতিকথা: “প্রত্যেক উত্তরের ইএকটি সঠিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন”।

রাখাল ছেলে আর নেকড়ে :
এক গ্রামে একটি রাখাল ছেলে বাস করত। তার বাবা তাকে ভেড়াদের যত্ন নিতে আদেশ দিয়েছিল। প্রতিদিন ছেলেটিকে ঘাসের মাঠে ভেড়া দের ছড়াতে নিয়ে যেতে হতো।রাখাল ছেলেটির এই কাজ একদম পছন্দ ছিল না কারণ সে দৌড়তে আর খেলতে চাইত। তাই একদিন সে গ্রামের লোকের সাথে মজা করার সিদ্ধান্ত নিল।

হঠাৎ সে চিৎকার করে বলল “নেকড়ে ,নেকড়ে!” রাখাল ছেলেটির চিৎকার শুনে পুরো গ্রামের লোক নেকড়েকে তাড়ানোর জন্য পাথর, শাবল, লাঠি যে যা পারল নিয়ে এল। কিন্তু বনে এসে গ্রামবাসীরা যখন দেখল যে কোনও নেকড়ে নেই ,রাখাল বালকটি তাদের সময় নষ্ট করেছে এবং তাদের ভয় দেখাবার জন্যই মিথ্যা কথা বলছে তখন তারা বিরক্ত বোধ করল এবং যে যার বাড়িতে ফিরে গেল

পরের দিন ছেলেটি আবার চিৎকার করে বলল ,”নেকড়ে নেকড়ে”! আর গ্রামবাসীরা আবারও নেকড়ে তাড়াতে রাখাল ছেলেটির কাছে দৌড়ে এল ।ছেলেটি তাদের ভয় দেখে যখন হেসে উঠল গ্রামবাসীরা চলে গেল এবং কেউ কেউ খুব রাগান্বিত হল রাখাল ছেলেটির কীর্তিকলাপ দেখে।

তৃতীয় দিন ছেলেটি ভেড়া চড়াবার জন্য ছোট্ট একটি পাহাড়ে উঠেছিল আর হঠাৎ সে দেখল সত্যিকারের একটা নেকড়ে বাঘ তার ভেড়াদের ওপর আক্রমণ করেছে। সে প্রাণপণ চিৎকার করে বলল “নেকড়ে ,নেকড়ে!!”

কিন্তু গ্রামবাসীরা ভাবল রাখাল ছেলেটি বুঝি তাদের আবার বোকা বানানোর চেষ্টা করছে তাই এবার কেউ ছেলেটিকে উদ্ধার করতে এল না। মিথ্যে বলার কারণে রাখাল ছেলেটি তার তিনটি ভেড়াকে হারাল।

নীতিকথা : “মিথ্যে গল্প বানানো কখনো উচিত না কারণ আসল প্রয়োজনে কেউ সাহায্যের হাত বাড়াবে না”।