ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

প্রচ্ছদ » প্রবাসের চিঠি » বিস্তারিত

ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত

২০২১ আগস্ট ১৮ ১৯:২৮:১৪
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত

হাকিকুল ইসলাম খোকন, যুক্তরাষ্ট্র : ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এ দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্মমভাবে নিহত হন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যবৃন্দের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এবং বিশ্ব ব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। অতঃপর রাষ্ট্রদূত আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি, শফিউল আলম এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।খবর বাপসনিউজ।

রাষ্ট্রদূতের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখার এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করার মাধ্যমে শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন এবং জাতির অগ্রগতি বিপন্নকারী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দ্বারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার এ জঘন্য কাজের নিন্দা জানান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, কেননা তিনি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে জনাব মঞ্জু উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান লক্ষ্যনীয়ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত এবং শেষ দিন পর্যন্ত জাতির প্রতি তার দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাঁর অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের মত একটি নব্য স্বাধীন দেশকে পরিচালিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন যে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ আইন, বিধি এবং প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজটি বঙ্গবন্ধু তার রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে হয় সম্পন্ন করেছিলেন নতুবা সূচনা করেছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৫ আগস্টের সকল শহীদ এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয়।

(কে/এসপি/আগস্ট ১৮, ২০২১)