ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত

পিসিওএস’র ৪ ধরন, লক্ষণেই বুঝে নিন আপনার কোনটি?

২০২১ অক্টোবর ০৬ ১৯:১৬:১১
পিসিওএস’র ৪ ধরন, লক্ষণেই বুঝে নিন আপনার কোনটি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক : পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বা পিসিওএসে বর্তমানে অনেক নারীই ভুগছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে এ রোগে আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। নারীর প্রজনন হরমোনের তারতম্যই পিসিওএস হওয়ার কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে ওভারিতে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়। অনিয়মিত মাসিকের কারণে ডিম্বাণুগুলো ফোটে না। এ কারণেই সেগুলো একসময়ে সিস্টে পরিণত হয়। এ সমস্যার কারণে সন্তান ধারণেও সমস্যা তৈরি হয়।

পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ৫ জন ভারতীয় নারীর মধ্যে ১ জন এ অসুখে আক্রান্ত।

তবে এর চিকিৎসা করানোর আগে জানতে হবে আপনার কোন ধরনের পিসিওএসে ভুগছেন। ৪ ধরনের পিসিওএস ও এর লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন। চলুন তবে তা জেনে নেওয়া যাক-

ইনসুলিন রেসিসটেন্স পিসিওএস

প্রায় ৭০ শতাংশ পিসিওস রোগীর মধ্যেই এটি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ইনসুলিনের প্রভাবে কোষগুলো অবশ হয়ে যায়। ইনসুলিনের প্রভাবেই এ ধরনের পিসিওএস হয়।

ফলে পেটের মেদ বেড়ে যায়। মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। একইসঙ্গে দেখা দেয় ক্লান্তিও হয়। এ ধরনের পিসিওএস এর সমাধান মিলবে প্রতিদিন ব্যায়াম করলে।

একইসঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একটি নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দুশ্চিন্তা কমাতে। ভালো ঘুম জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম, ক্রোমিয়াম, ন্যাক ও ইনোসিটলের মতো সাপ্লিমেন্ট সাহায্য় করতে পারে।

অ্যাড্রেনাল পিসিওএস

যেসব নারীর মাসিকের সময় অনেক যন্ত্রণা হয় তারা এ ধরনের পিসিওএসে আক্রান্ত। কর্টিসল ও ডিএইচইএ এর উচ্চ মাত্রার ইঙ্গিত দেয় এটি।

নিয়মিত যোগাসন, মেডিটেশন ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে। অত্যন্ত ভারী ব্যায়াম করবেন না। ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি-৫, ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে।

ইনফ্লেমেটরি পিসিওএস

অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে এ ধরনের পিসিওএস হয়। ফলে টেস্টোটেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। যা পিসিওএসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের পিসিওএস গলে মাথাব্যথা, অত্য়ন্ত ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।

এক্ষেত্রে সঠিক খাবার খেতে হবে। যাতে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ঠিক থাকে ও হজম ক্ষমতা বাড়ে। এমন কোনো খাবার খাবেন না, যা পেটের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। হলুদ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট খাবার বেশি করে খেতে হবে।

পোস্ট-পিল পিসিওএস

যেসব নারীরা ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল খাওয়া হঠাৎ করে বন্ধ করে দেন তাদের পোস্ট পিল পিসিওএস হতে পারে। কারণ কৃত্রিম প্রোজেস্টেরন ওভারিতে সমস্যা তৈরি করে পিল বন্ধ করার পর। যা পিসিওএস এর কারণ হতে পারে।

এ ধরনের পিসিওএস সামায়িক। এর থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। ভালো ঘুম ও দুশ্চিন্তা কম করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি৬ ও জিঙ্ক খেতে হবে।

তবে কোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্য়ই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনা জরুরি।

(ওএস/এসপি/অক্টোবর ০৬, ২০২১)