ঢাকা, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

মৃত্যু দিনে ভাসানী : স্মরণের আবরণে মরণেরে যত্নে রাখি ঢাকি

২০২১ নভেম্বর ১৭ ১৫:১৫:১৯
মৃত্যু দিনে ভাসানী : স্মরণের আবরণে মরণেরে যত্নে রাখি ঢাকি

রণেশ মৈত্র


পাকিস্তান আমল থেকে যে কয়জন মনীষী আমার খণ্ডিত-অখণ্ডিত, সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির অঙ্গণে অত্যন্ত সম্মানিত স্থান পেতে অধিকারী-মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তাঁদের মধ্যে যেমন অগ্রগণ্য তেমনই আবার তাঁকে নিয়ে বিভ্রম অথবা বিদ্বেষ-অশ্রদ্ধাবশ: বিতর্কিতও বটেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য সংশয়হীন প্রগতিশীল আন্দোলনের সূচনা ঘটাতে তাঁর সাহসী এবং নিষ্ঠাশীল ভূমিকার কারণে।

এ কথা ঠিক, বাঙালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলা, তাকে বিকশিত করা, তার ভিত্তিতে সমগ্র পূর্ব বাংলার সাত কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যে প্রচণ্ড উদ্যমী ও সাহসী ও ধারাবাহিক ভূমিকা বাংলাদেশকে একটি পাকিস্তান সৃষ্টি ইসলামী ধারা থেকে অসাম্প্রদায়িক ধারায় আনতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন । কিন্তু ইতিহাস এ কথঅও বলে, বৃহৎ কোন ব্যাপারে ভ্যক্তির ভূমিকাও অনেক সময় নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তেমনই আবার ব্যক্তির ভূমিকা আদৌ এককভঅবে কোন বড় বা ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে না।

এখানেই মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। যে পরিণতিতে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সে পথ প্রশস্ত করার লড়াই সংগ্রামের উন্মেষ ও বিকাশ ঘটাতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও ম ওলানা ভাসানীর মধ্যে কে বড়-কে ছোট, এমন কোন বিতর্ক মূর্খতার পরিচায়ক। বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুর অবস্থানে যেমন শ্রেষ্ঠ, তেমনই মওলানা ভাসানী তাঁর অবস্থানে শ্রেষ্ঠ।

ছোট বেলায় একটি বিতর্ক শুনতাম রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠ? না কি নজরুল শ্রেষ্ঠ। যাঁরা এমন প্রশ্ন তুলতেন তাঁরা উভয়েই সমভঅবে মূর্খ। ইতিহাস বলে নজরুল যেমন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন তেমনই আবার রবীন্দ্রনাথও বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামকে গভীর শ্রদ্ধা স্নেহের চোখে দেখতেন। তাঁদের মনে মিল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল অতুলনীয়।

তেমনই বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানী এক পর্য্যায়ে প্রচণ্ড রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা কোনদিন নি:শেষিত হয় নি। মওলানা ভাসানীর মৃত্যু ঘটলে বঙ্গবন্ধু ছুটে গিয়েছিলেন তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি সশরীরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।

আমি গর্বিত-যৌবনের প্রারম্ভেই এই দুই জাতীয় নেতার সাথে সেই পঞ্চাশের দশকের আঁধার ঘেরা দিনগুলিতে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল এভং উভয় নেতাই সাথেই তাঁদের জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত সেই ঘনিষ্ঠতা ও শ্রদ্ধা অটুট ছিল। এমন ভাগ্যবান আর খুব একটা কেউ আজ বেঁচে নেই।

যা হোক, আজ আমার আলোচ্য বিষয় মওলানা ভাসানী। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর জন্ম তারিখ জানা না গেলেও জন্মসাল ছিল ১৮৮০। তাই তাঁর জীবন কাল ছিল ৯৬ বছল-এটা যেমন দীর্ঘ, তেমনই তাঁর বহুমুখী কর্মকাণ্ডের তালিকাও তেমনই দীর্ঘ।

মওলানা ভাসানী যিনি ব্যাপকভাবে অভিহিত হতেন হুজুর হিসেবে জন্মেছিলেন বৃহত্তর পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ধান গড়া গ্রামে। অজ পাড়া গঁঅয়ে অবস্থিত এই গ্রামটি, যতদূর মনে পড়ে, সিরাগঞ্জ শহর হতে ২০ মাইল দূরে। একটিচ উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐ গ্রামে ২০ মাইল পায়ে হেঁটে গিয়ে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্যও রেখে আবার ফোলা পা ও প্রচণ্ড বেদনা নিয়ে ঐ রাতেই সিরাজগঞ্জ শহরে ফিরে এসেছিলাম। মওলানা ভাসানী এবং আমাদের প্রার্থী ছিলেন ভাষা সংগ্রামী ন্যাপ নেতা সাইফুল ইসলাম-আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের ডাঃ জসিম উদ্দিন। গ্রামের সকল কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জিতেন শহরে (অতি আত্মবিশ্বাস জনিত কারণে নির্বাচনী প্রচার যথাযথভঅবে না চালানোর কারণে) ন্যাপ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বল্প ব্যবধঅনে পরাজিত হয়েছিলেন ।

মওলানা ভাসানী গ্রামের স্কুলে প্রাইমারী পর্য্যায়ে লেখা পড়া শেষ করে চলে যান টাঙ্গাইলের কাগমারী। সেখানে তিনি শিক্ষকতা (প্রাইমারী শিক্ষালয়ে) সুরু করেন। পরে তিনি হালুয়াঘাটে মাদ্রাসায় লেখাপড়া এবং অবশেষে সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন।

অত:পর যোগ দেন খেলাফত আন্দোলনে। এখান থেকেই মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৪৯ সালে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। দক্ষিণ টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত এক উপনির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় অর্জন করেন। আসাম প্রাদেশিক বিধান সভায়।

অত:পর আসামে বাঙাল খেদা আন্দোলন শুরু হলে মওলানা ভাসানী বাঙালি রক্ষা আন্দোলনে আসাম প্রবাসীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে তীব্র আন্দোলন সুরু করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং এক পর্য্যায়ে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মূলত: কংগ্রেসে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে একাংশ সাম্প্রদায়িক জমিদার জোতদার মুসলিম প্রজাদের উপর নির্য্যাতন অত্যাচার চালানোর প্রতিবাদেই তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।

১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানে চলে আসেন। ১৯৪৯ সালে আবার ফিরে যান আসামের ধুবড়িতে। আন্দোলন করতে গিয়ে সেখানে কারারুদ্ধ হন। পরে মুক্তিলাভ করে পাকিস্তান ফিরে আসেন। আসাম সরকার তাঁকে স্থায়ীভাবে আসামে আর প্রবেশ না করার নির্দেশ জারী করেন।

এবার শুরু হলো পাকিস্তানী বিশেষ করে, পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে তিনি এই নতুন দলটির সভাপতি নির্বাচন এবং ১৯৫৭ পর্য্যন্ত দলটির সভাপতির পদ অলংকৃত করে থাকেন। তার আগেই ১৯৫৫ সালে তিনি ও শেখ মুজিবর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন দলটির নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি তুলে দিয়ে দলটিকে পূরোপূরি অসাম্প্রদায়িক একটি দলে পরিণত করেন।

এর আগে ১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পরিচালনার জন্য অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে গঠিত হয় “সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পরিচালনা কমিটি”। এর সভঅপতি নির্বাচিত হয়েছিলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল শক্তি ছিলো তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কমিটিতে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশিত হয়। কমিউনিষ্ট পার্টি প্রস্তাব রাখে ১৪৪ ধারা জারী হলে তা ভেঙ্গে মিছিল করা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাঁরা ছিলেন ১৪৪ ধারা ভাঙআর বিরোধী। তবে তাঁরা এ কথাও স্পষ্ট করে জানালেন যে ২১ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে যে বিশাল ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হবে তাতে ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষের ও বিপক্ষের মত ব্যাখ্যা সহকারে তুলে ধরতে হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্যের সপক্ষে যে মতটি একমত হয়ে সমর্থন দেবে তবে তো কথাই নেই কিন্তু যদি তা না হয় তবে বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী যে মত দিবেন সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। গাজীউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বিশাল ছাত্র সভায় উভয় মতই যথার্থভাবে তুলে ধললে বেশীরভাগ ছাত্র-ছাত্রী ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন।

ইতোপূর্বে গঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি গঠিত হলে আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ও আহ্বায়ক আবদুল মতিন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষের যুক্তিসমূহ তুলে ধরাযুক্তিসমূহ তুলে ধরা মাত্র ছাত্র সমাজ হাত তুলে তাদের অধিকাংশ মত ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জানালে স্থির হয় ১০ জন করে সারিবদ্ধভাবে মিছিল সুশৃংখলভাবে বেরুবে তবে পুলিশ উস্কানী দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশেকেই নিতে হবে।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ১৪৪ ধারার খড়গ মাথায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করলে কয়েকজন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। প্রতিবাদে মুখরিত ঢাকা-মওলানা ভাসানীসহ সকল নেতৃবৃন্দ।

এর পরবর্তীতে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকার আমেরিকার সাথে পাক-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর করে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনেরও মওলানা ভাসানী ও ছাত্র সমাজ। ওই চুক্তি বাতিলের দাবীতে সংগঠিত গণ স্বাক্ষর অভিযানে অন্যতম স্বাক্ষরকারী হন শেখ ম ুজিবর রহমান। তৎকালীন ডাকসু ভিপি. ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা এস.এ. বারি এটি এই অভিযানের অন্যতম নেতৃত্ব দেন। সারা দেশের ছাত্র সমাজও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নানা শ্লোগানে দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন।

আওয়ামী লীগও তার মেনিফেষ্টোতে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল, কল সা¤্রাজ্যবাদী শীক্তর বিরোধিতা স্থান পেয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের পশ্চিমাঘেঁষা অপর নেতা হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে মুসলিম লীগের সাম্রাজ্যবাদের তলাবাহী বৈদেশিক নীতির প্রতি সমর্থন জানালে দলীয় সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী তার তীব্র বিরোধিতা করেন। এই পর্য্যায়ে মওলানা ভাসানী কাগমারীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যগণ ও আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রীসভার সকল সদস্য ও সারা দেশের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাতে অংশ গৃহণ করেন। সেখানে পাকিস্তানের সোহ্রাওয়ার্দী অনুসৃত বৈদেশিক নীতি এবং পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তসাশন প্রশ্নে তুমুল বিতর্কের পর দলীয় সাবেক কাউন্সিলের প্রস্তাব ও মেনিফেষ্টো বর্ণিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নীতি অব্যাহত রাখার প্রশ্নে সংখ্যাধিক্য দেখা দিলে তা অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথে শহীদ সোহরাওয়াদী সম্মেলন স্থল ত্যাগ করে করে ঢাকায় চলে গিয়ে পাল্টা বিশেষ কাউন্সিল আহ্বান করে বৈদেশিক নীতি ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে সোহ্রাওয়াদী অনসৃত নীতি অনুমোদিত বলে ঘোষণা দিলে মওলানা ভাসানী তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৫৭ সালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একটি প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নিখিল পাকিস্তান ভিত্তিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন-পাকিস্তানের সকল প্রদেশে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় ছয় দফার অসাধারণ শক্তিতে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গোটা পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ন্যাপ মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানের? যেখানে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জোয়ার অত তীব্র ছিল নাÑছিল বৈষম্য অবসান, সাম্প্রদায়িকতার অবসান, সাম্র্রাজ্যবাদ বিরোধিতা ও সমাজতন্ত্রের দাবীগুলিই প্রধান-সেখানে দুই-দুইটি প্রদেশে ন্যাপ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং প্রায় সবগুলি আসন তাদের দখলে আসে। ফলে বেলুচিস্তানে গাউস বখস বেজেঞ্জোর নেতৃত্বে এবং উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ন

ন্যাপ সভাপতি ওয়ালি খানের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে পশ্চিম পাকিস্তানের ন্যাপ নেতারা তাতে সমর্থন ঘোষণা করে ইয়াহিয়া সরকারের নির্য্যাতন হাসিমুখে বরণ করেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিতে যা ছিল অত্যন্ত দু:সাহসী।

কিন্তু তার অনেক আগেই যদি মওলানা ভাসনী ছীনপন্থী রাজনীতি গ্রহণ করে আইউবকে সমর্থন দিয়েছিলেন। সেই মওলানা ভাসানীই ১৯৭১ এ তাজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বধীন মুজিবনগর সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, কমরেড মনি সিংহ, মনোরঞ্জন ধর প্রমুখ ছিলেন যে উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য।
কিন্তু তাঁর শেষ জীবনে তাঁর নামে প্রকাশিত হক কথা নামক সাপ্তাহিক পত্রিক বাবুর উগ্যোগে পাকিস্তান মার্কা প্রতিবেদন, নিবনন্ধাদি প্রকাশ করায় এবং মওলানা ভাসানী স্বয়ং আওয়ামী লীগ সরকারের একটি অংশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন ভূমিকা গ্রহণ করলে মওলানা ভাসানী স্বয়ং দেশের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হন। তাঁরা সুদীর্ঘ জীবনকালের সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ভূমিকা জীবন সায়াহ্নের কিছু অনাকাংখিত ভূমিকার জন্য কোন প্রগতিশীল শক্তি ভূলে যেতে পারে না।

এদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদকে চিনিয়েছেন মওলানা ভাসানী সাম্প্রদায়িকতার আপোষহীন ভূমিকা পালন করেন মওলানান ভাসানী, সমাজতন্ত্রকে এদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করেছিলেন মওলানা ভাসানী গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে আওয়ামী লীগে ও পরে ন্যাপে টেনে নিয়ে জনপ্রিয় হতে সহযোগিতা করেছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁকে জানাই অভিবাদন। এ অভিবাদন দেশের সকল বাম-প্রগতিশীল শক্তির কাছেই তাঁর প্রাপ্য।
৯৬ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে তাঁর প্রয়ান ঘটে।


লেখক : সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ, সাংবাদিকতায় একুশে পদক প্রাপ্ত।