ঢাকা, সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

এক ম্যাচে তিনবার ‘শেষ বাঁশি’ বাজালেন রেফারি

২০২২ জানুয়ারি ১৩ ১৬:৩২:৫৯
এক ম্যাচে তিনবার ‘শেষ বাঁশি’ বাজালেন রেফারি

স্পোর্টস ডেস্ক : বুধবার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে আফ্রিকান নেশনস কাপে। এফ গ্রুপে তিউনিশিয়া ও মালির মধ্যকার ম্যাচে তিনবার শেষ বাঁশি বাজিয়েছেন রেফারি সিকাজুই। এমনকি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের পুরোটা না খেলিয়েই সমাপ্ত করতে হয়েছে ম্যাচ।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন সিকাজুই। কিন্তু হাতঘড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নেশনস কাপে রীতিমতো তামাশারই জন্ম দিলেন তিনি। যেখানে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মালি। নির্ধারিত সময় শেষ না করেই ফিরে গেছে তিউনিশিয়া।

ম্যাচটিতে ৪৮ মিনিটের মাথায় পেনাল্টিতে থেকে গোল করেন মালির স্ট্রাইকার ইব্রাহিম কোন। এই গোলেই নিশ্চিত হয়েছে মালির জয়। তবে সব ছাপিয়ে গেছে রেফারির একাধিক ভুল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৮৫ মিনিট হতেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন তিনি।

প্রথমবার শেষ বাঁশি বাজানোর আগে ৭৭ মিনিটের সময় পেনাল্টি পেয়েছিল তিউনিশিয়াও। কিন্তু তাতে গোল করতে পারেননি স্ট্রাইকার ওয়াহবি খাজরি। এরপর যখন ৮৫ মিনিটেই বাজিয়ে দেওয়া হয় শেষ বাঁশি, তখন সহকারী রেফারিসহ অন্যান্যরা তা ধরিয়ে দেন।

তাই কিছুক্ষণ পরই শুরু করা হয় খেলা। কিন্তু এরপর ৮৯ মিনিট হতেই আবার বাঁশি বাজান রেফারি। এটি খেয়াল করে তিউনিশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হয় ঠিক। কিন্তু ততক্ষণে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ট্রফি এবং সংবাদ সম্মেলনও হয়ে যায়।

নেশনস কাপের বুধবারের তামাশার এখানেই শেষ নয়। দুই দফায় ৮৫ ও ৮৯ মিনিটে খেলা শেষ করে পুরস্কার বিতরণীয় ও সংবাদ সম্মেলন হয়ে যাওয়ার পর আয়োজক হুঁশ ফেরে নির্ধারিত সময় শেষ করার ব্যাপারে। তাই তারা প্রায় ৪০ মিনিট পর দুই দলকে ডাকে ম্যাচটি সমাপ্ত করার জন্য।

এবার বেঁকে বসে তিউনিশিয়া। মালির খেলোয়াড়রা মাঠে এলেও তিউনিশিয়া মাঠে আসতে রাজি হয়নি। তারা পরাজয় মেনে নিয়ে ফিরে যায় টিম হোটেলে। আর রেফারি সিকাজুই আরও একবার মাঠে নেমে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজিয়ে খেলার সমাপ্তি ঘোষণা দেন।

তিউনিশিয়ার কোচ মন্ধার কেবায়ের বলেছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা আইস বাথ নিচ্ছিল। প্রায় ৩৫ মিনিট পর তাদের আবার ডাকা হয় খেলার জন্য। আমি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করাচ্ছি। কখনও এমন কিছু দেখিনি। সহকারী রেফারি অতিরিক্ত সময় দেখানোর বোর্ড উঠানোর জন্য তৈরি ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন।’

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ১৩, ২০২২)