প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
অবশেষে চন্দ্রকুমার দে'র স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নিল নেত্রকোণা জেলা পরিষদ
২০২২ মার্চ ০৫ ১৬:৪২:০১
সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : অবশেষে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলা লোকসাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক প্রয়াত চন্দ্রকুমার দে’র স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নিল নেত্রকোনা জেলা পরিষদ। কেন্দুয়া উপজেলার আইথর গ্রামে শনিবার (৫ মার্চ) দুপুরে চন্দ্রকুমার দে’র বসতভিটা পরিদর্শন করেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়। পরিদর্শন কালে তিনি চন্দ্রকুমার দে স্মৃতি ম্যুরাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূঞা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন, পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আব্দুল হামিদ। সংস্কৃতি সেবিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রগতি পাঠক চক্রের সভাপতি রণেন সরকার, সাংবাদিক ও ছড়াকার সঞ্জয় সরকার, কেন্দুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সভাপতি রাখাল বিশ্বাস, চন্দ্রকুমার দে স্মৃতি সংসদের সভাপতি কামরুল হাসান ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আল মামুন কোকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক পাপ্পু সেন গুপ্ত, গণসাহিত্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশ উদ্দিন ভূইয়া, কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জীবন, কবি ও সাংবাদিক মাইন উদ্দিন সরকার রয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদসহ স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
৭৫ বছর পর চন্দ্রকুমার দে’র স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করায় নেত্রকোণা জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেন্দুয়ার কৃতি সন্তান দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, চন্দ্রকুমার দে বাংলা লোকসাহিত্যকে বিশ্বে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর সংগ্রহিত ময়মনসিংহ গীতিকা বাংলা লোকসাহিত্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। নতুন প্রজন্ম যাতে চন্দ্রকুমার দে সম্পর্কে জানতে পারে, সেজন্য ময়মনসিংহ গীতিকা যাতে বেশি বেশি করে পড়ার আহবান জানান।
উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন চন্দ্রকুমার দে। পরে তিনি পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে কেন্দুয়া পৌর সদরের আইথর গ্রামে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই দিন কাটতো তাঁর। এ অবস্থায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি লোকমুখে শুনে সংগ্রহ করতেন লোক সাহিত্য সংস্কৃতির বিভিন্ন পালা কাহিনী। সে সময় ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত সৌরভ পত্রিকার মাধ্যমে চন্দ্রকুমার দে’র এসব লেখা পড়ে আকৃষ্ট হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর দ্বীনেশ চন্দ্র সেন। তারপর তিনি চন্দ্রকুমার দে’র সংগ্রহিত এসব লেখা নিয়ে ময়মনসিংহ গীতিকা প্রকাশ করে বিশ্ব সাহিত্য দরবারে আর্বিভূত হন চন্দ্রকুমার দে।
১৯৪৬ সালে চন্দ্রকুমার দে ময়মনসিংহ জেলা শহরের নওমহল এলাকার একটি ভাড়া করা বাসায় মারা যান। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। তার মৃত্যুর পর আইথর গ্রামে রেখে যাওয়া ৭৩ শতাংশের বসতবাড়িটি চন্দ্রকুমার দে’র পালিত পুত্র বিনয় কুমার ও কন্যা জ্যোসনা রানী স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দেন। সেই বিক্রি করা ভিটা বাড়িতেই চন্দ্র কুমার দে’র স্মৃতি রক্ষার্থে ম্যুরাল নির্মানের জন্য জায়গা দেন মৃত আমজদ আলীর স্ত্রী জুবেদা খাতুন। তিনি ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনকালে হাসিমুখে বলেন, চন্দ্র কুমার দের জানার জন্যই আমি এই জায়গা দিতে পেরে খুব খুশি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, ১ মাসের মধ্যেই এর নির্মান কাজ শেষ হবে।
(এসবি/এসপি/মার্চ ০৫, ২০২২)
