ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

চাটার দলের উচ্ছেদ সময়ের দাবি

২০২৩ মে ৩১ ১৬:৩৭:৪২
চাটার দলের উচ্ছেদ সময়ের দাবি

আবীর আহাদ


বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করে প্রায়ই বলতেন, 'সবাই পায় সোনার খনি, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। আমি দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভিক্ষা করে আপনি, আর চাটারদল তা চাইট্যা চাইট্যা খায়!' এ চোর আর চাটারদলকে উৎখাত করার লক্ষ্যে তিনি যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন, অমনি চাটারদল মুশতাক-জিয়ার নেতৃত্বে একজোট হয়ে তাদের বিদেশী প্রভুদের সমর্থন নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং ৩রা নভেম্বর কারাগারে তাঁর চার বিশ্বস্ত সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। অপরদিকে মাত্র ৮৩ দিনের মাথায় খুনি মুশতাককে সরিয়ে দিয়ে জেনারেল জিয়া বিএনপি দলের নামে সর্বময় ক্ষমতা দখল করেন। চোর ও চাটাদলও একযোগে বিএনপিতে অবস্থান নিয়ে আবার চাটাচাটিতে লিপ্ত হয়। বিএনপিতে চাটারদল ও রাজাকাররা সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলে সে-দলের মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। আর এর অনিবার্য সংঘাতে ১৯৮১ সালের ৩০মে নিহত হন জেনারেল জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জিয়ার বিএনপিকে হঠিয়ে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল এরশাদ। আবার সেই চোর ও চাটাদল সুড়সুড় করে এরশাদের জাতীয় পার্টির তলে আশ্রয় নেয়। এভাবেই চলতে থাকে চাটারদলের চাটাচাটি। পরবর্তীতে খালেদা-হাসিনার শাসনামলেও চাটারদলের চাটাচাটি অব্যাহত থাকার একপর্যায়ে ২০০৯ সাল থেকে চলতি ২০২৩-এ ১৪ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দোর্দণ্ডপ্রতাপের সাথে একনাগাড়ে ক্ষমতায় আছেন। এ পর্যায়ে অতীতের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সাথে যেসব চাটারদল ছিলো, তারা বর্তমান আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর নেতৃবৃন্দের পৃষ্ঠপোষকতায় এমনভাবে জেঁকে বসেছে, ফলে প্রকৃত আওয়ামী লীগকে দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুখে মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলাছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই। তাদের অতিলোভের কারণে দলের মধ্যে এখন চোর চাটারদল, রাজাকার ও হাইব্রিড রমরমা অবস্থান দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের মূলধারা থেকে যোজন মাইল দূরে নিয়ে গেছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ দলটিকে চাটারদল চারদিক থেকে গিলে ফেলেছে!

আওয়ামী লীগ প্রধান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই: 'আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাইকে কেনা যায়'- এ উক্তিটির বহুল তাৎপর্য বহন করে। সত্যি তাই। আওয়ামী লীগের সর্বত্রই এ অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থ পেলেই বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতারা রাজাকার কাউয়া হাইব্রিড যে কাউকে দলে ঠাঁই দিতে পারে। আওয়ামী লীগের এ যাবতকালের ব্যর্থ ও অযোগ্য সাধারণ সম্পাদক যখন বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বংশধর আওয়ামী লীগ করতে পারবে-তার এহেন কথার মধ্য দিয়ে এটাই প্রতিভাত হয় যে, যেকোনো দুর্নীতিবাজ লুটেরা ও প্রতারকচক্র আওয়ামী লীগে অবস্থান নিতে পারবে। অবস্থান নিয়েছেও। আওয়ামী লীগ দলের মধ্যে প্রকৃত আওয়ামী লীগার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অবস্থান নেই! এখন একমাত্র ভরসা দলের নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা। দেশের সচেতন মানুষ এবং প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা তীর্থের কাকের মতো নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। ঐতিহাসিক প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বার্থে তিনি তার দল ও দলের শুভানুধ্যায়ী মহল থেকে দেশ প্রেমিক সৎ ও ত্যাগী লোকদের টেনে এনে দল ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ করবেন, এটাই সময়ের দাবি। সাথে সাথে চাটার দল, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও প্রতারকচক্রকে সমূলে উচ্ছেদ করবেন, এটাও সময়ের দাবি।

(ওএস/এসপি/মে ৩১, ২০২৩)