ঢাকা, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

হুইসেল বাজিয়ে, পতাকা নেড়ে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৩ জুন ০৪ ১৮:৩৪:৫৫
হুইসেল বাজিয়ে, পতাকা নেড়ে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করেছেন। ট্রেনটি চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচল করবে।

ট্রেনটি উদ্বোধন উপলক্ষে নীলফামারীর চিলাহাটি রেলস্টেশনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি হুইসেল বাজিয়ে, পতাকা নেড়ে ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ৮০০ জন যাত্রী বহন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন চিলাহাটি এক্সপ্রেস সপ্তাহে ছয় দিন চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচল করবে।

গত ২৯ মে ওই ট্রেনের নাম ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ প্রস্তাব করা হয়েছিল। এক দিন পর নাম পরিবর্তন করে ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ ও ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ নামকরণ পুনর্বহালের দাবিতে গত বুধবার দুপুরে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরের দিন বৃহস্পতিবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নীলফামারীবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নীলফামারী স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ওই ট্রেন অবরোধ করেন। পরে রেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ১৫ মিনিট পর ট্রেনটি ছেড়ে দেন তারা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ২৯ মে বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিপ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ স্বাক্ষরিত পত্রে ওই ট্রেনের নাম প্রস্তাব করা হয় ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’। ৩০ মে রেলপথ মন্ত্রণালয় ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ নাম চূড়ান্ত করে রেলওয়ে দপ্তরকে চিঠি দেয়। নীলফামারীবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রস্তাবিত নাম অনুযায়ী তারা তাদের জেলার নামে ওই ট্রেনের নামকরণ চান।

এ সময় তারা বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা চলাচলকারী ট্রেনের নাম কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনিরহাট থেকে চলা ট্রেনের নাম লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর থেকে চলা ট্রেনের নাম রংপুর এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় থেকে চলা ট্রেনের নামকরণ হয়েছে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। একইসঙ্গে তারা নতুন ট্রেনে নীলফামারী জেলাবাসীর জন্য ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেলযোগাযোগের ক্ষেত্রে চিলাহাটি স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে। নীলফামারীর চিলাহাটির সঙ্গে ভারতের হলদিবাড়ীর রেলযোগাযোগ আগেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পণ্যবোঝাই ওয়াগনের পাশাপাশি এই রুটে আন্তদেশীয় ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ চলাচল করছে।

আজকের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেলওয়েসচিব মো. হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছরে মোট ৭৪০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ স্থাপন করেছে। ২৮০ কিলোমিটার রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করেছে। আর ১ হাজার ৩০৮ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করেছে।

একই সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোট ১১৪টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন ৬২৩টি যাত্রীবাহী বগি ও ৫১৬টি পণ্যবাহী ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩০টি রেলস্টেশনের সিগন্যালিং সিস্টেম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ১৪২টি নতুন ট্রেন চলাচল করছে।

(ওআরকে/এএস/জুন ০৪, ২০২৩)