ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ওয়াকওয়ে নির্মাণে পাল্টে যাবে শাহরাস্তির দৃশ্যপট

২০২৩ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৬:০৩:৪৩
ওয়াকওয়ে নির্মাণে পাল্টে যাবে শাহরাস্তির দৃশ্যপট

উজ্জ্বল হোসাইন, চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলা একটি সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলা হযরত শাহরাস্তি (রঃ)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত। এখানে রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্যে বিশ্বের সেরা সিদ্ধপীঠস্থান। শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহরাস্তি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় শাহরাস্তি উপজেলায় অপরাধের সংখ্যা অনেক কম। তাই এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা থাকে বরাবরই নিয়ন্ত্রণে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ এলাকা হলেও শাহরাস্তিতে নেই কোনো বিনোদনের সুবিধা। নির্মল পরিবেশে দেহ-মনকে প্রশান্তি দেওয়ার মতো একটু জায়গা খুঁজে বের করা কঠিন ছিলো শাহরাস্তিবাসীর। বিষয়টি নিয়ে বেশ ক’বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা নিয়েও ব্যর্থ হতে হয়।

শাহরাস্তিবাসীর অভিভাবক, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয় দীর্ঘদিন ধরে শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিত্তিতে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বেশ ক’বার তিনি পর্যটন রিসোর্ট তৈরির উদ্যোগ নেন। একের পর এক পরিকল্পনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেন তিনি। অবশেষে বিআইডব্লিউটিএর প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয় ডাকাতিয়া নদীর পাড়। ডাকাতিয়া নদীর পাশে সূচীপাড়া ব্রিজ থেকে চিখটিয়া ব্রিজ পর্যন্ত দু কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর ধরে নির্মাণ কাজ করার পর এ মাসেই এটির কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও পার্কিংয়ের জন্যে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান তানিয়া এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার দীপক হালদার জানান, ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দু-এক মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।

বিআইডব্লিউটিএ’র কারিগরি সহকারী আরিফ হোসেন জানান, জুন মাসে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু উভয় দিকে পার্কিংয়ের জন্যে জায়গা বর্ধিতকরণে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি জানান, উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রায় ১৭.৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পার্কিংয়ের জন্যে নতুন করে আরো ২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।

ওয়াকওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হলে শাহরাস্তি উপজেলার দৃশ্যপট বদলে যাবে বলে অনেকের ধারণা। এই ওয়াকওয়েটির সুফল শুধু শাহরাস্তিবাসীই ভোগ করবে না, নদীর দুপাড়ের বাসিন্দারা বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ, নোয়াখালী জেলার চাটখিল ও কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা অল্প সময়েই ওয়াকওয়েটির সুফল ভোগ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াকওয়ে ঘিরে ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠবে। জনগণের অবাধ বিচরণের ফলে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে শাহরাস্তি উপজেলা। ইতিমধ্যেই ডাকাতিয়া পাড়ে গড়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্রিক কফি পার্ক। প্রতিদিনই শত শত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে এ অঞ্চল। ওয়াকওয়েটির কাজ সমাপ্ত হলে বিনোদনপ্রেমী মানুষের যাতায়াত কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

(ইউএইচ/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩)