ঢাকা, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

রেশমি জিলাপির প্যাচে ইফতার

২০২৪ মার্চ ১৩ ১৮:৪৯:২৬
রেশমি জিলাপির প্যাচে ইফতার

স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যশোর : সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারির সময় একটু মিষ্টিমুখ না করলে হয়! ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের কাছে একটা বছর পর পর পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে মাহে রমজান। নবী রাসূলদের যুগ থেকে মিষ্টি মুখে রোজা খোলার রীতি চলে আসছে। এ যুগের ধর্ম প্রাণ মুসলমানরাও সেই রেওয়াজ ধরে রেখেছে। ইফতারে মিষ্টি হিসেবে বহূল ব্যবহৃত হচ্ছে জিলাপি। শুধু ইফতার নয়, সারা বছরই ধর্মী অনুষ্ঠানে জিলাপির প্রচলন রয়েছে।

বুধবার বিকেলে যশোর শহরের ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাহারি ইফতারের সাথে দেখা মিলছে রেশমি জিলাপি। চিকন, মচমচে এই রেশমি জিলাপি মুখে দিতেই জিলাপির চিনির শিরায় মুখ ভরে যায়। সুমিষ্ট, সুগন্ধে প্রাণ জুড়ানো অবস্থা। দেখতে খুব সুন্দর এই রেশমি জিলাপির প্যাচ অনেক বেশি । একটা জিলাপিতে অনেক গুলো ছোট ছোট প্যাচ থাকাতে কিছুটা ফুটান্ত ফুলের মত দেখা যায়। একটু কড়া করে ভেজে চিনির সিরায় ডুবালেই সিরায় টলমল করে রেশমি জিলাপি। এই জিলাপি তৈরির উপাদান সাধারণ জিলাপির উপাদানের মত না। রেশমি জিলাপি তৈরিতে লাগে পরিমাণমত ময়দা, চিনি, চালের গুঁড়া, মাসকলাই ডালের গুঁড়া, খাবার সোডা,গোলাপজল, ঘি বা তেল (ভাজার জন্য)।

রেশমি জিলাপি তৈরীতে সময় ও কারিগরদের পরিশ্রম করতে হয় বেশি। প্রথমে মাসকলাই ডালের গুঁড়া, ময়দা, চালের গুঁড়া, পরিমাণমতো পানি, খাবার সোডা ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। চিনির শিরা তৈরি করা, তেল ভালো ভাবে গরম করে ফানেলে ময়দার মিশ্রণ ঢেলে চাপ দিয়ে গরম তেলের উপর জিলাপির আকৃতি তৈরি করতে হয়। সর্বশেষ জিলাপিগুলো মচমচে করে ভেজে সাত-আট মিনিট চিনির সিরায় ডোবানোর পরে উঠিয়ে পরিবেশন করা হয় দারুণ স্বাদের রেশমি জিলাপি। প্রতি পিচ রেশমি জিলাপি দশ টাকা বিক্রি করা। ওজন হিসেবে প্রতি কেজির দাম ৩শ টাকা।

নিউ নূর হোটেলে রেশমি জিলাপি কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, এই জিলাপি দেখতেও সুন্দর, খেতেও মজাদার। দাম একটু বেশি হলেও ইফতারির টেবিলে রেশমি জিলাপি না রাখলে নিজেদের মনে অপূর্ণতা থেকে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে খুব পছন্দের একটা খাবার রেশমি জিলাপি।

প্রেসক্লাব ক্যাফে যশোরের বিক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, গতকাল প্রথম রোজায় রেশমি জিলাপির প্রচুর চাহিদা পেয়েছি। রোজার দ্বিতীয় দিনেও চাহিদা বেশি। চিনির সিরা যত সময় থাকে তত সময় তৈরি করা হয়। সকাল ১১ টা থেকে তৈরির কাজ শুরু হয়। ইফতারির সময় হওয়া পর্যন্ত কারিগরের ফুসরত থাকে না। সারা বছর টুকটাক চাহিদা থাকলেও রোজার সময় চাহিদা অনেক গুণে বৃদ্ধি পায়।

এসময় রনি হোসেন নামের এক ক্রেতার সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এই জিলাপির স্বাদের কথা বলে বোঝানো যাবে না। যেমন মচমচে তেমন স্বাদে ভরা। সারাবছর পাওয়া যায় না। রোজার সময় পাই। যে কারণে ইফতারিতে রেশমি জিলাপি রাখি। পরিবারের সবাই মিলে রেশমি জিলাপি দিয়ে ইফতারি করি।

(এসএমএ/এএস/মার্চ ১৩, ২০২৪)