ঢাকা, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

লোডশেডিংয়ের আরেক নাম হাইমচর

পল্লী বিদ্যুতের উদাসীনতায় নাকাল হাইমচরবাসী

২০২৪ এপ্রিল ০২ ১৮:৪৩:০৪
পল্লী বিদ্যুতের উদাসীনতায় নাকাল হাইমচরবাসী

চাঁদপুর প্রতিনিধি : হাইমচরে পল্লী বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। রোজাদারগণ পড়ছেন বিপাকে। ঘরে-বাইরে নেই শান্তি, সেহরি, ইফতার ও তারাবিতে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং, আর সকাল থেকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে কাটা হয় গাছ। রোজাদার না রাতে ঘুমাতে পারছেন না দিনে। সাহরি, ইফতার এবং তারাবীতেও নেই শান্তি।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দল বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে গাছ কাটার কাজ করছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাছ কাটার ফলে বিদ্যুতের লাইন সচল করা যায় না। যার কারণে, উপজেলার বিভিন্ন ঈদ মার্কেট গুলোতে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা বাড়িতে না পারছেন ঘুমাতে, পানির টাংকিতে পানি না থাকায় না পারছেন গোসল করতে, ঈদ মার্কেটে গিয়ে না পারছেন সুখে শান্তিতে ঈদ মার্কেটিং করতে।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, গতরাত্রে সর্বমোট বিদ্যুৎ ছিল আড়াই ঘন্টা আমাদের ঘুমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে, সকালবেলা একটু ঘুমাবো তাও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। সকাল থেকে আবারও লোডশেডিং শুরু, এ সুযোগে আসলাম ঈদের কেনাকাটা করতে এখানেও শান্তিতে দোকানে কেনাকাটা করা যাচ্ছে না। মাস শেষে আমরা ঠিকই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি, কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাই এ ভোগান্তি আর কতদিন।

শাহী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা রেদওয়ান হোসাইন জানান মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে সাহরি ও ইফতার ঠিকমতো করতে পারিনা। তারাবি কিংবা তাহাজ্জুদে একটু প্রশান্তি নিব তাও সম্ভব হয় না। শুধু মাহে রমজান আসলেই কেন এমনটা হয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রশ্ন।

স্থানীয় অটোচালক মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, আমাদের রিজিক অন্বেষণ এর একমাত্র পথ এ ইজিবাইক। রাতে চার্জ না হওয়ার কারণে দিনের বেলা অটো নিয়ে বের হতে পারি না। ফলে দৈনন্দিন বাজার করা বন্ধ, ইফতারও করতে পারিনা ঈদের কেনাকাটাও করা হয়নি। সঠিক সময়ে আমাদেরকে বিদ্যুৎ দিলে আমরা দু'বেলা দুমুঠো খাবার খেয়ে জীবন বাঁচাতে পারবো।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ হাইমচর সাবজনাল অফিসের এজিএম হাফিজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত গরম পরলে লোডশেডিং বেড়ে যায়, তেত্রিশ কেবি লাইনে সমস্যা হওয়ায় দুই দিন রাতে লোডশেডিং বেশি ছিল। আগামী দুইদিন গাছ কাটার কারণে হয়তো বা লোডশেডিং থাকতে পারে। এরপর থেকে আশা করা যায় আর তেমন একটা লোডশেডিং হবে না। এরপরও যখন অতিরিক্ত লোডশেডিং হয় তখন আমাকে জানালে সাথে সাথেই আমি ব্যবস্থা নিব।

(ইউএইচ/এসপি/এপ্রিল ০২, ২০২৪)