ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

এসএসসি পরীক্ষার আগেই ২১৩ ছাত্রীর বিয়ে!

২০২৪ মে ১৫ ১৮:১৮:০৩
এসএসসি পরীক্ষার আগেই ২১৩ ছাত্রীর বিয়ে!

অরিত্র কুণ্ডু, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে এসএসসি পরীক্ষার আগেই ২১৩ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে ফরম পূরণ করেও তারা পরীক্ষার হলে গরহাজির ছিল। স্বামীর বাড়িতে থাকায় তারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এমনকি ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত ১৫ ছাত্রী বিয়েজনিত কারণে পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিলেন।গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসের এক জরিপ তথ্যে বাল্য বিয়ের এই চিত্র উঠে আসে। এ নিয়ে প্রশাসনের তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির তৎপরতা নিয়ে।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসের পাঠানো জরিপ তথ্য থেকে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় গত এসএসসি পরীক্ষায় ৬০ জন ছাত্রী হলে অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৪৬ জন বিয়েজনিত কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি। একইভাবে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অনুপস্থিত ১৯ জন নারী পরীক্ষার্থী মধ্যে ১৪ জন, মহেশপুরে অনুপস্থিত ৬৮ জনের মধ্যে ৫০ জন, শৈলকুপায় অনুপস্থিত ৭১ জনের মধ্যে ৪১ জন, কোটচাঁদপুরে অনুপস্থিত ২৫ জনের মধ্যে ২০ জন ও কালীগঞ্জে ৭২ জন নারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিল।

জরিপ তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, শৈলকূপার ফাজিলপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩৫ জন নারী পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ১৪ জনই বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। শৈলকূপা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন, গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৯ জনের মধ্যে ৮ জন, শৈলকূপা রাহাতন নেছা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৮ জনের মধ্যে ৫ জন, কাতলাগাড়ি কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৩ জনের মধ্যে ২ জন, বাগুটিয়া গোপালপুর কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন ও উমেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের বিয়ে হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেনি।

এছাড়া ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তরনারায়ণপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৮ জনের মধ্যে ৬ জন, ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৮ জনের মধ্যে ৫ জন, হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত ১৫ জনের মধ্যে ১৫ জন, উত্তর নারায়ণপুর কেন্দ্রে ৪ জনের মধ্যে ৪ জন, উজির আলী কেন্দ্রে ৫ জনের মধ্যে ৫ জন, ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৩ জনের মধ্যে ৩ জনের বিয়ে হয়ে গেছে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার বিষয়টি তিনি তুলেছিলেন। ওই সভায় জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিস ৬ উপজেলায় জরিপ চালিয়ে বাল্যবিয়ের এই সত্যতা পান। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধ করতে না পারা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভোগ্যের বিষয়।

শৈলকূপা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা খানম জানান, এই বিয়ের বিষয়ে প্রশাসনের বিন্দুমাত্র গাফিলতি নেই। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটিতে যারা আছেন সবাই খুবই আন্তরিক। কিন্তু গোপনে ও স্থান পরিবর্তন করে বিয়ে দেওয়ার কারণে এসব খবর আমরা জানতে পারিনি। তিনি বলেন, তরপরও এই ব্যর্থতা তো আমাদেরই।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা সামাওয়াত জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো তথ্য মোতাবেক এই রিপোর্ট তৈরি করে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাতে অনুপস্থিত ৩২৪ জন নারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৩ জনের বিয়ে হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

(একে/এসপি/মে ১৫, ২০২৪)