ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরায় জামিন পেয়েই মামলার বাদি ও পরিবারের সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি!

২০২৪ মে ১৫ ২১:০৩:৩৪
সাতক্ষীরায় জামিন পেয়েই মামলার বাদি ও পরিবারের সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি!

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : গত ১১ মে দিবাগত রাত দুইটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের ভাড়–খালি গ্রামের আনারুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তার দুই হাত ও দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে নগদ টাকা, সোনার গহনা ও কাগজপত্র লুটপাটের পর তাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের ১১ জনের মধ্যে ৯ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার তারা সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বিচারক নয়ন বিশ্বাসের আদালত থেকে জামিন মুক্তি পান।

এদিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মামলা দায়ের করার ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই জামিনে মুক্তি পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন আনারুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভাড়–খালি গ্রামের মৃত আকবর সরদারের ছেলে আনারুল ইসলাম জানান, তাদের পৈতৃক সাড়ে সাত বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে আসছে তারই শরিক আব্দুল মজিদ সরদার, রজো সরদার ও সাইফুল সরদার। সম্প্রতি তিনি জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে তার বাবার নামে রেকডীয় জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় ঘোন ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান নোটিশ করার পরও জবরদখলকারিরা পরিষদে হাজির হয়নি। একপর্যায়ে পরিষদে অবিযোগ করায় ক্ষুব্ধ সাইফুল ইসলাম, মজিদ, রজো সরদারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা গত ৭ মে রাত প্যেনে নয়টার দিকে ভাড়–খালি বাজারে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। বাড়িতে ফিরে মটর সাইকেলে থানায় ও হাসপাতালে যাওয়ার সময় ওই হামলাকারিরা তাকে মারপিট করে মোটরসাইকেলের সামনের গ্লাস ভেঙে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে তিনি পরদিন থানায় অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাইফুল, গুটে ফারুখ, খোরশেদসহ ১২/১৪ জন মিলে গত ১১ মে দিবাগত রাত দুইটার দিকে হাতে লোহার রড ও দা নিয়ে তার(আনারুল) ঘরে ঢুকে পড়ে। তার স্ত্রী জামিলাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে কয়েকজন সন্ত্রাসী। পরে তার ঘাড়ে লোহার রড দিয়ে আঘাতের পর হাত ও পা দড়ি দিয়ে বেঁধে আলমারিতে রাখা নগদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনার গহনাসহ জমির দলিল, রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একটি বস্তায় ভরে ফেলে। পরে সাইফুল তার (আনারুল) গলায় ধারালো দা দিয়ে কোপ মেরে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে খায়রুল ও গুটে ফারুককে আটক করে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী জামিলা খাতুন বাদি হয়ে সাইফুল, খায়রুল ও ফারুকসহ ১১জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত খায়রুলসহ এজাহারভুক্ত নয়জন মঙ্গলবার জামিনে মুক্ত পেয়েই তাকে ও স্ত্রী জামিলাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি নিরাপত্তার কারণে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়িতে ফিরতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক সাহিদুল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন ।

(আরকে/এএস/মে ১৫, ২০২৪)